Logo
Logo
×

রাজনীতি

হতাশায় পাঁচটি আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ২৪ নভেম্বর ২০২৩, ০৯:২৫ পিএম

হতাশায় পাঁচটি আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা
Swapno

 

দ্বাদশ জাতীয় সাংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গন। এক দিকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বিএনপির হরতাল-অবরোধের বিরুদ্ধে রাজপথে অবস্থান করছে তার পাশাপাশি এখন মনোনয়ন সংগ্রহ ও জমা নিয়েও ব্যস্ত সময় পার করছেন। এছাড়া ও দফায় দফায় রাজপথে বিভিন্ন শান্তি মিছিলের শোডাউন দিয়ে বেড়াচ্ছেন আর নৌকার পক্ষে ভোট চাইছেন।

 

এমতাবস্থায় এখনো বিএনপি তাদের আন্দোলনেই সীমাবদ্ধ রয়ে গেছেন। এমনকি আন্দোলনে ও কোন প্রকারের প্রভাব দেখা যাচ্ছে না। এছাড়া ও বিএনপি সাফ বলে দিয়েছে যে এই তফসিল তারা প্রত্যাখ্যান করেছেন আর তাদের ১ দফা দাবির লক্ষ্য হিসেবে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন না হলে তারা এই নির্বাচনেও অংশগ্রহণ করবে না। এদিকে আওয়ামী লীগ ও বলে দিয়েছে আগামী ৭ জানুয়ারী যে কোন মূল্যে ভোট প্রয়োগ হবেই এখন কে আসলো কে আসলো না এটা দেখার সময় নেই।

 

এখন যারা অংশগ্রহণ করবে তাদের সাথেই সুষ্ঠু নির্বাচন হবে। এছাড়া ও আন্দোলন করে বিএনপির মামলায় জর্জরিত হয়ে আর রাজপথে নামতে পারছে না। যার কারণে তাদের অবস্থান বলা চলে শূন্যের কোঠায় চলে যাচ্ছে। এদিকে গত ২৮ অক্টোবর ঢাকায় বিএনপির মহাসমাবেশে সংঘর্ষে এক পুলিশ কনস্টেবল নিহতের পর বিভিন্ন মামলায় বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের কেউ কেউ কারাগারে আর অধিকাংশ আত্মগোপনে চলে যাওয়ার পর বিএনপির আন্দোলনের দৃশ্যপট অনেকটাই বদলে গেছে।

 

বিশেষ করে প্রথমে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পরে স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস-চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন চৌধুরী, ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর, শামসুজ্জামান দুদ, যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্যসচিব আমিনুল হক ও মিডিয়া সেলের প্রধান জহির উদ্দিন স্বপনসহ দলটির বেশ কয়েকজন সিনিয়র নেতা গ্রেফতার হওয়ার পর বিএনপির আন্দোলনে ভাটা পড়ে।

 

মূল নেতারা না থাকায় বিএনপি অনেকটাই দিশেহারা বললেই চলে। এদিকে গত বছর থেকে জোরদার আন্দোলনে আসা বিএনপির একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশীরা এবার হতাশায় ভুগছেন। তারা মনে করেছিলেন এবার তারা যে আন্দোলনে কঠোরভাবে নেমেছিলেন তাদের বিজয় হবেই। কিন্তু তফসিল ঘোষণার পর থেকেই অনেকটা নিশ্চুপ হয়ে পড়েছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা।

 

এদিকে নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন- নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের রূপগঞ্জ উপজেলায় বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে নাম আলোচনায় ছিলেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য কাজী মনিরুজ্জামান মনির, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু, জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি নাসির উদ্দিন, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে প্রত্যাশী হিসেবে ছিলেন।

 

বিএনপির নিবার্হী কমিটির আন্তজার্তিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ, নির্বাহী কমিটির অর্থ বিষয়ক সম্পাদক মাহমুদুর রহমান সুমন, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সাবেক সাংসদ সদস্য আতাউর রহমান আঙ্গুর, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসন থেকে ছিলেন, বিএনপির নিবার্হী কমিটির সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান, বিএনপির মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রানালয়ের সাবেক প্রতিমন্ত্রী মো. রেজাউল করিম, স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ-সভাপতি অধ্যাপক ওয়াহিদ বিন ইমতিয়াজ বকুল।

 

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি গিয়াসউদ্দিন, শিল্পপতি শাহআলম, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ। নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে প্রত্যাশী ছিলেন, মহানগন বিএনপির আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন খান, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাবেক সাংসদ সদস্য কালাম। এরা দীর্ঘদিন রাজপথে ভূমিকা দেখালেও এই কঠোর আন্দোলনে তাদের আর দেখা নেই, তারা এবার হতাশায় নিষ্ক্রিয়ের খাতায় তাদের নাম লিখিয়েছেন।

 

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৬ নভেম্বর দ্বাদশ জাতীয় সাংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে আর ৭ জানুয়ারী ভোটের দিন ঘোষণা করেছেন নির্বাচন কমিশন। কিন্তু বিএনপি এই নির্বাচনের তফসিল প্রত্যাখ্যান করেছে, বিএনপি বলেছে ১ দফা দাবি নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন না হলে তারা এই নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করবে না। যার ফলে বোঝা যাচ্ছে আপাতত বর্তমান তফসিলে যে বিএনপি নির্বাচনে যাবে না এটা নিশ্চিত হয়ে উঠেছে।

 

আর সামনে যদি কোন পরিবর্তন না হয় আর বিএনপির মধ্যে যদি শুভবুদ্ধির উদয় যদি না হয়, তাহলে বিগত ২০১৪ সালের মতো করে এই ২০২৪ সালে ও নির্বাচন বর্জনের পথে হাঁটবে দলটি। এছাড়া ও নেতাকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী বোঝা যাচ্ছে বিএনপি যদি নির্বাচন বর্জন করে তাহলে আন্তজার্তিক সম্প্রদায় বিশেষ করে মার্কিনযুক্ত রাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো বিএনপির উপরে সহানুভূতি দেখাবে আর সরকারের উপরে চাপ প্রয়োগ করবে আর শেষ পর্যন্ত সরকার নির্বাচন করতে পারবে না।

 

আর নির্বাচন তফসিলের দীর্ঘদিন পার হয়ে গেলে ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কোন নেতিবাচক মনোভাব দেখাননি। এদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে বলা হয়েছিলো সংলাপে বসার কথা কিন্তু তফসিল ঘোষণা হয়ে যাওয়ার কারণে সংলাপে বসতে চায় না আওয়ামী লীগ। এদিকে হরতাল ও কয়েকদফা অবরোধে খুব বেশি সুবিধা করতে পারছে না বিএনপি। ইতিমধ্যে ৫ম দফার পর এবার ৬ দফা অবরোধের ডাক দেওয়া হলে ও বিএনপি কোন সুবিধা করতে পারবে না এমনটা নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছে কর্মী সমর্থনরা।

 

আর নির্বাচনে বিএনপি না যাওয়া নিয়ে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা অনেকটাই হতাশায় পরে গেছেন। এদিকে জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি তৈমূর আলম খন্দকার তৃণমূল বিএনপির মহা-সচিব হওয়ার কারণে তৃণমূল বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার জন্য প্রস্তুতি শুরু করেছে। এবার বিএনপির হতাশাগ্রস্ত কারা কারা তৃণমূল বিএনপির সাথে একত্রিত হয়ে নির্বাচন করে এটা দেখার বিষয়। এদিকে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা বর্তমানে রাজপথে নেই, আন্দোলনে নেই। এস.এ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন