না.গঞ্জে তৈমূরকে নিয়ে মিলছে না নির্বাচনী সমীকরণ
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৫ নভেম্বর ২০২৩, ০৯:৫২ পিএম
# তাকে জিতাতে হলে গোলাম দস্তগীর গাজী অথবা সেলিম ওসমানকে ছাড় দিতে হবে, যেটা অসম্ভব
# তিনি নৌকা প্রতীক চাইছেন, কিন্তু নৌকা নিয়ে নির্বাচন করলে বিরোধী দল থাকবেন কি করে
নারায়ণগঞ্জে মিলছে না নির্বাচনী সমীকরণ। সরকার এবারের নির্বাচনে তৃণমূল বিএনপিকে বেশ গুরুত্ব দিচ্ছে আর এই তৃণমূল বিএনপির মহাসচিব হলেন নারায়ণগঞ্জের এডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার। তাই এই জেলার রাজনৈতিক মহলের ধারনা এডভোকেট তৈমূল আলম খন্দকারকে তো কোনো একটি আসন থেকে নির্বাচিত করিয়ে সংসদে নিতে হবে। তাহলে সেই আসন কোনটি? এরই মাঝে প্রকাশ্যে যা জানা গেছে সেটি হলো তৈমূর আলম খন্দকার নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের মনোনয়ন নিয়েছেন।
নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের মনোনয়ন তিনি নেননি। আর এই আসনের এমপি হলেন একেএম সেলিম ওসমান। যার ফলে তিনি সেলিম ওসমানকে ছাড় দেয়ার জন্যই তিনি তার শিষ্য এডভোকেট আবদুল হামিদ খান ভাষানীকে এই আসনে তৃণমূলের মনোনয়ন দিয়েছেন। কিন্তু এ বিষয়ে একটি বিশেষ সূত্র জানিয়েছে, তৈমূর আলম নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের মনোনয়নও নিয়েছেন এবং এটা তিনি গোপন রেখেছেন। তাই শেষ পর্যন্ত তিনি কোন আসন থেকে নির্বাচন করবেন সেটি এখনো চূড়ান্ত করে বলা যাচ্ছে না। যার ফলে মেলানো যাচ্ছে না হিসাব। তিনি এটা নিয়ে সরকারের উপর মহলের সাথে দেন-দরবার করছেন বলে জানা গেছে।
এদিকে রূপগঞ্জ আসনের বর্তমান এমপি ও মন্ত্রী গাজী গোলাম দস্তগীরও প্রভাবশালী একজন নেতা। তিনি দেশের সবচেয়ে ধণাঢ্য কয়েকজন ব্যবসায়ীর একজন। তাই ওই আসনটি এরই মাঝে গাজীর আসন হিসাবে পরিচিতি লাভ করেছে। এছাড়া এখানে গাজী এমপির ছেলে পাপ্পা গাজীও একজন শক্তিশালী রাজনীতিক হিসাবে পরিচিতি লাভ করেছেন। তাই আগামী দিনে পাপ্পা গাজীই রূপগঞ্জ আওয়ামী লীগের মূল কান্ডারী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এবারের নির্বাচনেও অংশ নিতে চান গাজী নিজেই। ফলে গাজী পরিবারও সহজে আসনটিতে ছাড় দেবে বলে মনে করেন না নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক মহল। তাই রূপগঞ্জ আসনে এডভোকেট তৈমূর আলম সহজে জিতে আসবেন এটা কেউ মনে করেন না।
অপরদিকে সব কিছু হিসাব করেই এখন নৌকা প্রতিক চাইছেন এডভোটে তৈমূর। অথচ সরকার চায় তাকে গুরুত্বপূর্ণ বিরোধী দল বানাতে। তার দলের নামের সাথে বিএনপি শব্দটি আছে বলেই সরকারের কাছে এটার গুরুত্ব এবার বেশি। তাই তিনি যদি নৌকা নিয়েই নির্বাচন করেন তাহলে তিনি বিরোধী দল হবেন কি করে? কারণ সরকার বিদেশীদের বোঝাতে চায় যে মূল বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নিলেও বিএনপির একটি অংশতো নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। আর এটা প্রমাণ করার জন্যই সরকার তৃণমূলকে বেশ গুরুত্ব সহকারে তুলে ধরেছে।
যদিও বিদেশীরা সরকারের এই প্রচেষ্টাকে কিভাবে দেখবে সেটি পরিষ্কার নয়। কিন্তু সরকারতো চাইছে। তাই তৃণমূল বিএনপির অন্যতম শীর্ষ দুই নেতার একজন হয়ে যদি এডভোকেট তৈমূর আলম সংসদেই যেতে না পারেন তাহলে সরকারের এই মিশন সফল হবে কিভাবে এই প্রশ্ন করছেন অনেকেই। তাই রাজনতিক মহল মনে করেন যেভাবেই হোক তৈমুরকে এবার সংসদে নেয়া হবে। তাই সব কিছু মিলিয়ে বিষয়টি বেশ জটিল বলেই মনে করছেন অনেকে।
কারণ তৈমুরকে জিতাতে হলে গাজী অথবা সেলিম ওসমানের মতো হেভীওয়েট একজনকে বলি দিতে হবে। এছাড়া সরকার যে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের কথা বলছেন। সেটি যদি করা হয় তাহলে পরিষ্কার ভাবে বলা যায় কোনো ভাবেই এডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার নারায়ণগঞ্জের কোনো আসন থেকেই জিততে পারবেন না।
কারন এই জেলায় তার ব্যক্তিগত ভোট ব্যাংক বলে কিছু নেই। এমন কি তিনি যদি নৌকা প্রতিক নিয়েও ভোট করেন এবং তার সাথে যদি গাজী অথবা সেলিম ওসমানের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বীতা হয় তবুও তিনি হেরে যাবেন। তাই তাকে এবার কোনো অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে সংসদে নেয়া মোটেও সহজ হবে না বলেই নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক সচেতন মহল মনে করেন। তাই এডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকারকে নিয়ে রাজনৈতিক সমিকরণ যে বেশ জটিল হয়ে উঠেছে এটা এখন পরিষ্কার বলেই এই জেলার সচেতন মহল মনে করেন। এস.এ/জেসি


