# গতবার পক্ষে থাকলেও এবার বিপক্ষে
আসন্ন দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জাতীয় পার্টি সহ অন্যান্য দল পুরোদমে মাঠে রয়েছে। তবে বিএনপি সহ তাদের সমমনা দল গুলো নির্বাচনে অংশ নিবেনা জানিয়ে তফসিল প্রত্যাখ্যান করে অবরোধের আন্দোলন চলমান রেখেছে। কিন্তু ২০১৪ সনে ও ২০১৮ সনের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সাথে জাতীয় পার্টির মহাজোট থাকায় তখন জাতীয় পার্টি অনেক গুলো আসন পেয়ে যায়।
তবে সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো এই দুই নির্বাচনের নারায়ণগঞ্জের ক্ষমতাসীন দলের নেতা কর্মীরা জাতীয় পার্টির প্রার্থীর পক্ষে কাজ করে তাদেরকে নির্বাচিত করেন। কিন্তু আসন্ন দ্বাদশ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি ৩শ’ আসনে একক ভাবে প্রার্থী দিচ্ছে। ইতোমধ্যে নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনে তাদের প্রার্থীরা মনোনয়ন ফরম ক্রয় করেছে। তাই রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন এই নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের পক্ষে থাকছে না আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরা। কেননা এখানে আওয়ামী লীগের প্রার্থী দেয়া হচ্ছে।
এদিকে দীর্ঘ দিন যাবৎ নারায়ণগঞ্জের আওয়ামী লীগের নেতারা জেলার ৫টি আসনে নৌকার প্রার্থী দেয়ার দাবী জানিয়ে আসছেন। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ-৩ এবং নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে নৌকার প্রার্থী চান স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। কেননা এখানে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য থাকায় আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরা অবহেলিত হয়ে রয়েছে।
এখানে ক্ষমতাসীন দলের এমপি না থাকায় এখানকার নেতা কর্মীরা নিজেদের দুঃখ কষ্ট কিংবা এলাকার সমস্যা জনিত বিষয় তুলে ধরতে পারেন না। অনেকটা অবহেলিত হয়ে থাকতে হয়। তবে আসন্ন দ্বাদশ নির্বাচনে এ্ দুটি আসনে আওয়ামী লীগ দল থেকে মনোনীত প্রার্থী পেতে যাচ্ছে। যেহেতু জাতী পার্টির সাথে এবার ক্ষমতাসীনদের মহাজোট নেই।
জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকা সংসদ সদস্য হিসেবে রয়েছেন। ২০১৪ সনের নির্বাচনে তিনি এখানে বিনা ভোটে এমপি নির্বাচিত হন। মহাজোটের সাথে শরীক থেকে একই ভাবে ২০১৮ সনের নির্বাচনেও বিএনপির প্রার্থীকে পরাজিত করে সংসদ সদস্য হন।
বিপরীতে নারায়ণগঞ্জ ৫ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে ২০১৪ সনে নির্বাচিত হন জাতীয় পার্টির সেলিম ওসমান। একই ভাবে ২০১৮ সনের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সাথে জাতীয় পার্টির মহাজোট থাকায় তিনি সহজে জয় পান। কিন্তু আসন্ন নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী সেলিম ওসমান ও লিয়াকত হোসেন খোকার সেই সুযোগ হচ্ছে না।
এর আগের নির্বাচন গুলোতে জাপার প্রার্থীদের পক্ষে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা কাজ করেছে। কিন্তু এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মূল প্রতিযোগী হবে জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থীরা। তাছাড়া ইতোমধ্যে নারায়ণগঞ্জ ৫ আসন থেকে সেলিম ওসমান ও নারায়ণগঞ্জ ৩ আসন থেকে লিয়াকত হোসেন খোকা জাপার মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন।
অপরদিকে এদুটি আসন ফিরে পেতে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী হয়ে একঝাক নেতৃবৃন্দ মাঠে নেমে প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। তার মাঝে নারায়ণগঞ্জ ৫ আসন থেকে নৌকা পেতে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছে আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদের সদস্য এড.আনিসুর রহমান দিপু, মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, জেলা আওয়ামীলীগের সাধরণ সম্পাদক আবু হাসনাত মো. শহিদ বাদল।
তাছাড়া নারায়ণগঞ্জ ৩ আসনে নৌকা পেতে ১৫ জন আওয়ামীলীগের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছে। তার মাঝে হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে এখানকার সাবেক সাংসদ কায়সার হাসনাত, মাহফুজুর রহমান কালাম,জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক আবু জাফর চৌধুরী বিরু, এরফান হোসেন দীপ। এছাড়া আরও একডজন নেতাকর্মী এখানে নৌকার প্রার্থী হতে চান।
তাই রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মাঝে আলোচনা হচ্ছে নারায়ণগঞ্জের জাতীয় পার্টির দুটি আসন দখলে থাকা এলাকায় আওয়ামীলীগের প্রার্থী থাকলে তা জাপার জন্য গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়াবে। কেননা আওয়ামীলীগ একতাবদ্ধ ভাবে মাঠে নামলে তাদের সাথে অন্যদলের প্রার্থীরা পেরিয়ে উঠতে পারবে না। তাই রাজনৈতিক সচেতন মহল মনে করেন জাতীয় পার্টির এমপি সেলিম ওসমান ও লিয়াকত হোসেন খোকার আওয়ামীলীগের প্রার্থী হবে গলারকাঁটা। এস.এ/জেসি


