Logo
Logo
×

রাজনীতি

আ.লীগের সূতিকাগারে বেহাল কর্মীরা

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ২৮ নভেম্বর ২০২৩, ০৮:১১ পিএম

আ.লীগের সূতিকাগারে বেহাল কর্মীরা
Swapno

 

# নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে নৌকার প্রার্থী না দেওয়ায় তৃণমূলে ক্ষোভ-আক্ষেপ 

 

 

মেয়র আইভী কিংবা এমপি শামীম ওসমান দুই বলয় থেকে দাবি করা হয় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সূতিকাগার নারায়ণগঞ্জ। একজনের দাবি সেই ঐতিহাসিক জায়গাটি মিউচুয়েল ক্লাব, অন্যজনের দাবি বায়তুল আমান। ভাষা আন্দোলন ও স্বাধীনতার যুদ্ধসহ যুদ্ধের পরবতী সময়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে নারায়ণগঞ্জের যে অপরিসীম অবদান তা উপেক্ষা করতে পারবেন না কেউ।

 

বাংলাদেশের শিল্প, বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রসহ বাংলাদেশের রাজনীতিতেও এই নারায়ণগঞ্জের অবদান শুধু জাতীয় ভাবেই নয় বিশ্বজুড়েও স্বীকৃত। তাই রাজধানী লাগোয়া এই জেলাটি বাংলাদেশের রাজনীতিতে সব সময়ই একটি আলাদা দৃষ্টি থাকে। তাই দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকেই এখানকার রাজনীতিতে দেখা দেয় মতবিরোধ ও পক্ষ বিপক্ষ বলয় গড়ে উঠার চিত্র। যা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবদ্দশায়ই ছিল বলে জানা যায়।

 

তবে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগ প্রেমীদের মনে যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি দাগ কাটে তা হলো নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী পরিবার হিসেবে খ্যাত ওসমান পরিবারের দলবিরোধী বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে। বিশেষ করে ১৯৮৬ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী অধ্যাপিকা নাজমা রহমানের সাথে ওসমান পরিবারের প্রকাশ্য বিরোধিতার বিষয়টি নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগ প্রেমীদের মনে ভীষণ ধাক্কা লাগে।

 

এরপর ওসমান পরিবারকে আর আওয়ামী লীগের জন্য নিবেদিত প্রাণ হিসেবে কাজ করতে দেখা যায়নি বলে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের তৃণমূল এবং ত্যাগী নেতা কর্মী ও সমর্থকদের মনে এখনও একটি চাপা কষ্টা বিরাজ করছে বলে বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে প্রকাশ পায়।

 

বিভিন্ন তথ্য সূত্রে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের এক সময়ের প্রভাবশালী পরিবার এবং বঙ্গবন্ধুর খুবই বিশ্বস্ত পরিবারের খ্যাতি অর্জন করেছিল ওসমান পরিবার। সেই ধারাবাহিকতায়ই ওসমান পরিবারের তৃতীয় প্রজন্মের বড় সন্তান বঙ্গবন্ধু পরিবারের জন্য নিবেদিত প্রাণ হিসেবে পরিচিত একেএম নাসিম ওসমান শুধু একজন বীর মুুক্তিযোদ্ধাই ছিলেন না, ছিলেন বঙ্গবন্ধুর পুত্র শেখ কামালের বন্ধুও।

 

তাই সামরিক জান্তা হিসেবে পরিচিত হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ যখন জোর পূর্বক ক্ষমতা গ্রহণ করে জাতীয় পার্টি নামক নতুন দল গঠন করে তখন আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে গিয়ে তিনি যখন সেই জাতীয় পার্টির সহচর হয়ে দাঁড়ান। তখন ওসমান পরিবারের ভক্ত নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের একনিষ্ঠ কর্মীদের অনেকেই হোঁচট খান বলে শোনা যায়।

 

শুধু তা-ই নয়, এরপর ১৯৮৬ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নাসিম ওসমান নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন থেকে জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেন এবং আওয়ামী লীগের তৎকালীন প্রার্থী অধ্যাপিকা নাজমা রহমানের সাথে অশোভনীয় আচরণসহ অনেকটা জোরপূর্বক পরাজিত করার অভিযোগ উঠে। সেই চক্রান্তে নারাণয়গঞ্জ আওয়ামী লীগের তখনকার প্রভাবশালী নেতা একেএম শামীম ওসমানকেও দোষারোপ করেন স্থানীয় আওযামীলীগ নেতারা।

 

এরপর ২০০৮ সালে শুধু মাত্র আওয়ামী লীগের প্রার্থী হওয়ায় সাংসদ সারাহ বেগম কবরীর সাথেও বৈরি আচরণ ছিল আলোচনায়। ২০২২ সালে অনুষ্ঠিত নাসিক নির্বাচনেও ওসমান পরিবার নিজ দলীয় প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর বিরুদ্ধে কাজ করেছেন বলে অভিযোগ আসে। বিশেষ করে সেলিম ওসমানের চেল্যারা সরাসরি আইভী বিরোধী প্রচারণায় নামে।

 

আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, ওসমান পরিবারের দ্বিতীয় প্রজন্ম অর্থাৎ একেএম শামসুজ্জোহার সময়কাল পর্যন্ত ওসমান পরিবার বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন। কিন্তু তৃতীয় প্রজন্মে এসে সেখানে তাদের নৈতিক স্থলন ঘটে বলে মনে করা হয়। তাদের দাবি ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর বিরোধীতা করে জাতীয় পার্টির প্রার্থী একেএম নাসিম ওসমানকে জোর পূর্বক নির্বাচিত করার মাধ্যমে এই প্রজন্ম তাদের ব্যক্তিস্বার্থের বিষয়টি স্পষ্ট করেন।

 

এরপর যথাক্রমে ১৯৮৬, ১৯৮৮, ২০০৮ ও ২০১৪ সালে নাসিম ওসমান এবং ২০১৪ ও ২০১৮ সালে একেএম সেলিম ওসমান জাতীয় পার্টি থেকে এই আসনটি দখলে রাখেন। এরমাঝে ১৯৯৬ সালের জুনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী এসএম আকরাম দলীয় ত্যাগী নেতাকর্মী এবং স্থানীয়ভাবে জনগণের প্রভাবে নির্বাচিত হন।

 

এসএম আকরামও এই আসনের সাংসদ থাকাকালীন সময় অনেক হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে বিভিন্ন সভা সমাবেশে স্বীকার করেছিলেন। এমনকি শুধু আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিত্ব করার কারণে এই পরিবারের প্রভাবের কাছে পরাজিত হয়েই মনের ক্ষোভে দল ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন তিনি। অধ্যাপিকা নাজমা রহমান দল ত্যাগ না করলেও স্থানীয় রাজনীতি থেকে দূরে সরে থাকতে বাধ্য হয়েছিলেন বলে জানা যায়।

 

তৃণমূল আওয়ামী লীগের অভিযোগ, বন্দর আওয়ামী লীগের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য যখন পুরো উপজেলা জুড়ে আকুতি ও আর্তনাদ শুরু হয় তখনও ওসমান পরিবার তাদের স্বার্থ টিকিয়ে রাখার জন্য কঠিন খেলায় মেতে উঠেন। যেমনটা করেছিলেন এর আগে অনুষ্ঠিত স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন নির্বাচনে।

 

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করেও আওয়ামী লীগের তৃণমূলের ডাকে সাড়া না দিয়ে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের জান-প্রাণ হিসেবে পরিচিত নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান আবারও প্রকাশ্যে জাতীয় পার্টির মিশনে নামেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রথমে তিনি আড়ালে থেকে মাঠ সাজানোর চেষ্টা করেন।

 

কিন্তু লাঞ্ছিত বঞ্চিত আওয়ামী লীগ নেতা কর্মীদের আর্তনাদের কাছে যখন পরাজিত হওয়ার সম্ভাবনা জাগিয়ে তুলেছে তখনই সেই ১৯৮৬ সালের মতো আবারও দলের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে প্রকাশ্যে তার ভাই জাতীয় পার্টির নেতা সেলিম ওসমানের পক্ষ নিয়ে মাঠে নামেন তিনি।

 

তাদের চেল্যা হিসেবে পরিচিত যারা আছেন, যোগ্যদের বাদ দিয়ে যাদেরকে তারা নেতা বানিয়েছেন সেই অর্থ ও ক্ষমতালোভী চাটুকার মার্কা নেতাদের সাথে নিয়ে একটি নীল নকশা আঁকার পরিকল্পনা করেন। সেখানে কৌশলে আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের জড়ো করে সেলিম ওসমানের সমর্থক বানানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু তাদের সেই চেষ্টাও ভেস্তে যায়। তাদের ডাকে হাতে গোনা দু’একজন চাটুকার ছাড়া আর কেউ সাড়া দেননি।

 

সর্বশেষ আবারও দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা কর্মীদের চাহিদার বাইরে গিয়ে সেলিম ওসমানকে লাঙ্গল কিংবা নৌকা যেকোন প্রতীকেই হোক না কেন নির্বাচিত করতে তাদের গোপন আস্তানায় গোপন বৈঠকে বসেছেন ওসমান পরিবার। যেখানে শুধু জাতীয় পার্টিই নয়, উপস্থিত রাখার চেষ্টা করেছেন তাদের পোষা আওয়ামী লীগের নেতাসহ পোষা বিএনপি নেতাদের প্রতিনিধিদের।

 

এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি গোপন সিটিং হওয়ার কথা আছে বলে জানা গেছে। বিশেষ করে জাতীয় পার্টি আলাদা প্রার্থী দেওয়ার ঘোষণা, এই আসনে তৃণমূলের পক্ষ হতে আওয়ামী লীগের আলাদা প্রার্থী দেওয়ার ঘোষণা এবং সর্বোপরি তৃণমূল বিএনপির প্রার্থীর সাথে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সখ্যতা থাকলে তাকে প্রতিহত করার উদ্দেশ্যে এই মিটিং এবং সিটিং বলে জানা গেছে। এস.এ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন