না নির্বাচনে, না আন্দোলনে, কোথাও নেই বামজোট। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকেই রাজপথ ছেড়ে অন্দর মহলে আশ্রয় নিয়েছেন নারায়ণগঞ্জের বামজোট নেতারা। আগে মাঝে মাঝে পথসভা কিংবা মানববন্ধনের আয়োজন করে সরকারের বিরুদ্ধে গরম গরম বক্তৃতা করতে দেখা গেলেও এখন তাদের টিকির সন্ধানও পাওয়া যাচ্ছে না।
বামজোট নেতাদের হঠাৎ উধাও হয়ে যাওয়ার কারণ খুঁজতে গিয়ে জানা যায়, তারা এখন রেস্ট অর্থাৎ বিশ্রামে আছেন। বিছানায় শুয়ে বসে তারা সামগ্রিক পরিস্থিতি অবজার্ভ অর্থাৎ পর্যবেক্ষণ করছেন। হরতাল-অবরোধ ডিঙ্গিয়ে নির্ধারিত তারিখে যদি নির্বাচনটা হয়েই যায়, তখন মাঠে নামার একটা নতুন ইস্যু পাওয়া যাবে। ইস্যুটা হবে, ‘পাতানো নির্বাচন মানি না, মানবো না।’ এই ইস্যুতে মিত্ররাও বামজোটের সাথে গাঁটছড়া বাঁধবে বলে তারা মনে করেন।
নারায়ণগঞ্জের বাম ঘরানার এক নেতার সাথে আলাপকালে তিনি খর খর করে বলেন, ‘যেখানে অন্যায় আর অবিচার সেখানেই রুখে দাঁড়ায় বামজোট। গত দু’টো সংসদ নির্বাচন হয়েছে ভোটারবিহীন। একটি দিনে আরেকটি রাতে। আমলাদের কাঁধে ভর করেই নির্বাচন কমিশন ফলাফল ঘোষণা করেছেন। একমাত্র বাম ছাড়া আর কোন দল এই অন্যায়ের প্রতিবাদে জোরালোভাবে এগিয়ে আসেনি। এবারও সরকার ওই পথেই হাঁটছেন।
কিন্তু এবারের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। এবার ভিন্ন কৌশলে যেনতেন ভাবে নির্বাচন করলে পার পাবে না সরকার। দেশী বিদেশী পর্যবেক্ষকরা তা প্রত্যাখ্যান করবে। অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাসহ ভিসা নিষেধাজ্ঞাও কপালে জুটার আশঙ্কা রয়েছে। এমনিতেই দেশের আর্থিক অবস্থা তলানিতে। তার ওপর যদি নিষেধাজ্ঞা আসে তবে দেশ দেউলিয়ার কাতারে চলে যেতে বাধ্য।’
অস্বীকার করার উপায় নেই যে, এই নেতার কথা অযৌক্তিক। একজন নিরপেক্ষ সাধারণ মানুষও বলবেন, তার কথায় যথেষ্ট যুক্তি রয়েছে। কিন্তু সরকার যদি বলেন, বিচার মানি তবে তালগাছটা কিন্তু আমারই! তখন তো আর কোন সাক্ষীর প্রয়োজন হয় না।
তবে ওই নেতার সাথে দ্বিমত পোষণ করে আওয়ামী লীগের এক নেতা বলেন, ‘বামদের চাপায় অনেক জোর। কিছু বই পড়ে সেখান থেকে কিছু ডায়লগ মুখস্থ করে চাপা মারায় ওদের জুড়ি নেই। তারা বাস্তবকে এড়িয়ে চলে। চাপার জোরে যেন কালকেই এ দেশে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে ফেলে আরকি! কিন্তু রাশিয়া সাম্রাজ্যের পতনের পর পৃথিবী থেকে যে সমাজতন্ত্র উবে গেছে, এ কথাটাও ওদের মগজে ঢুকছে না।’ এস.এ/জেসি


