Logo
Logo
×

রাজনীতি

বিএনপির হরতাল-অবরোধের একমাস পূর্তি আজ

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ২৮ নভেম্বর ২০২৩, ১০:২০ পিএম

বিএনপির হরতাল-অবরোধের একমাস পূর্তি আজ
Swapno

 


# এবার বিএনপির টার্গেট ডিসেম্বর মাস
দীর্ঘ একমাস যাবৎ নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের এক দফা দাবির কঠোর আন্দোলনে রয়েছে দেশের সবচাইতে বড় বিরোধী দল জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি ও তাদের সমমনা দলগুলো। এদিকে গত মাসের ২৮ অক্টোবর ঢাকায় বিএনপি, জামায়াত ও আওয়ামী লীগের সমাবেশকে কেন্দ্র করে জনমনে বিশাল আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছিলো। আওয়ামী লীগ বলেছিলেন বিএনপিকে সেদিন ঢাকায় অবস্থান করতে দেওয়া হবে না, তাদের বসতে ও দেওয়া হবে না।

 

 

এদিকে বিএনপি বলে ছিলেন এই মহা-সমাবেশের মাধ্যমেই বিএনপি আন্দোলনে কঠোর ভূমিকায় যাবে। যাকে ঘিরে ঢাকার নয়া পল্টনে বিএনপির মহা-সমাবেশকে লক্ষ্য করে সারা দেশের ন্যায় নারায়ণগঞ্জে ও পুলিশি ধরপাক্কর ও মামলার কবলে পরে বিএনপি। যার কারণে আগে থেকেই আত্মগোপনে থেকে মহা-সমাবেশের প্রস্তুতি শুরু করে দেয় দলটি। আর সেই হিসেবেই মহা-সমাবেশের পূর্বের দিন নেতাকর্মীরা ঢাকার মাঠিতে অবস্থান করেন।

 

 

সেখানে অবস্থানে গিয়ে ও গ্রেফতার বিপাকে পড়েছেন বিএনপির বহু নেতাকর্মী। কিন্তু সমাবেশ সফল করার আকাঙ্খায় নেতাকর্মীরা ঢাকায় ছিলেন। এদিকে পুলিশি পারমিশন পেয়েই রাতে মহা-সমাবেশের ভেন্যু তৈরি শুরু করে দলটি। আর রাতেই নয়া পল্টনের রাস্তাঘাট জনসমুদ্রে পরিণত হতে থাকে। রাত পোহালে সকালেই বিএনপির নেতাকর্মীরা সেখানে সমাবেশ সফলের প্রস্তুতি শুরু করে।

 

 

ধীরে ধীরে সমাবেশস্থলে লোকেলোকারন্ন হয়ে পরে আর সমাবেশ চলতে থাকে জানা গেছে, ডিএমপির পুলিশের দেওয়া সময় অনুযায়ী সমাবেশ শেষ করার লক্ষ্য হিসেবেই সমাবেশ শুরু করে। কিন্তু যখন সময় পেড়িয়ে দুপুর ১২টা সেই সময় হঠাৎ নয়া পল্টন এলাকায় বিএনপির সমাবেশ পুলিশ ও আওয়ামী লীগের হামলা হয় এমনটাই জানিয়েছে নেতৃবৃন্দ।

 

 

এই সমাবেশে ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে এতে এক পুলিশ বাহিনী নিহত হয়েছে আর একজন বিএনপির নেতা নিহত সহ আরো অনেক আহত-গ্রেফতারের ঘটনা ঘটেছে। এক কথায় বলা চলে গত মাসের ২৮ অক্টোবর নয়াপল্টন রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিলো। সেই ধারাবাহিকতায় তার পর দিন ২৯ অক্টোবর সারা বাংলাদেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ঘোষণা দেওয়া হয়।

 

 

সেদিন বিএনপির মহা-সচিবসহ মির্জা ফখরুল ইসলামকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তার পর আবার ৩১ থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে সর্বাত্মক অবরোধ ঘোষণা করে দলটি। তার পর থেকেই সারা মাসে কয়েক দফায় অবরোধ ও হরতালের ডাক দিয়েছে বিএনপি। যাকে ঘিরে বিএনপির নেতাকর্মীদের নামে দফায় দফায় নাশকতা মামলা দায়ের করা হয়।

 

 

ইতিমধ্যে নারায়ণগঞ্জে বিএনপির আন্দোলনে ঘিরে সাতটি থানায় ২০টি মামলা দায়ের করা হয়েছে যাতে আসামী প্রায় হাজারের ও বেশি আর গ্রেফতার প্রায় ৪০০ শত । এদিকে প্রথম কয়েকটি অবরোধে ব্যাপক ভূমিকা দেখা গেলে ও পরে প্রত্যেকটি অবরোধ কর্মসূচিতে বিএনপির নিশ্চুপ ভূমিকাই দেখা মিলে শুধু ঝটিকা মিছিল ছাড়া আর কিছুই না।

 

 

এদিকে এবার দ্বাদশ নির্বাচনে আমেজ পরতে যাচ্ছে সারা দেশের ন্যায় নারায়ণগঞ্জে ও তফসিলের পর মনোনয়ণ কার্যক্রম শেষ এবার শুধু নির্বাচন নিয়েই আওয়ামী লীগের ভাবনা কিন্তু এদিকে বিএনপি আগে ও বলেছে এই সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবে না। তাদের এক কথায় অনড় থেকেই এগিয়ে যাচ্ছে দলটি। কিন্তু এবার বিএনপির পরিকল্পনা একটু ভিন্ন তাদের টার্গেট এবার ডিসেম্বর মাস। তারা দাবি জানিয়েছে এই বিজয়ের মাসে এই স্বৈরাচারি সরকারের পতনের মাধ্যমে দেশের জনগণকে আরেকটি বিজয় উপহার দেওয়া হবে।
 

 


দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত মাসের ১৮ অক্টোবর ঢাকায় যুব সমাবেশ থেকে মহাসমাবেশর ঘোষণা করার পর থেকেই বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা নিজ বাসভবনে থাকতে পারছেন না। যার কারণ হলো নিয়মিত পুলিশ ও ডিবির তল্লাশীর কারণে এমনকি বিভিন্ন নেতাকর্মী গ্রেফতার হয়ে জেল হাজতে ও রয়েছে।

 

 

কিন্তু নেতাকর্মীদের দাবি, গত ২৮ অক্টোবর ঢাকার মহাসমা ফিরে পুলিশি হয়রানির চাপ আরো বৃদ্ধি হয় সেখান থেকে বাঁচতে, মামলা ও গ্রেপ্তার এড়াতে দীর্ঘ এক মাস যাবৎ কেউ আর বাড়িতে থাকছেন না। তারপরে ও কেন্দ্র থেকে ঘোষণা করা হরতাল ও কয়েক দফার অবরোধ কর্মসূচি নারায়ণগঞ্জের বিএনপির নেতাকর্মীরা ও সাধারণ জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়ে কৌশলে এই মহাসড়ক গুলোতে ঝটিকা মিছিলের মাধ্যমেই কর্মসূচি পালন করেছেন।

 

 

ইতিমধ্যে বিএনপির নেতাকর্মীরা ক্রমাগত মামলায় বিপর্যস্ত হয়ে পরেছে। এ পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জের আওতাধীন ৭টি থানা ফতুল্লা থানা, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা, রূপগঞ্জ থানা, সোনারগাঁ থানা, রূপগঞ্জ থানা,সদর থানা, বন্দর থানায় দফায় দফায় চলছে বিএনপির নেতা কর্মীদের নামে নানা মামলা। ইতিমধ্যে জেলা বিএনপির সভাপতি গিয়াস উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক খোকন হরতাল ও অবরোধে মাঠে না থেকে ও প্রত্যেকটি থানায় নাশকতা মামলার আসামী হয়েছেন।

 

 

তা ছাড়া মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন খান ও সদস্য সচিব টিপুর নামে ও প্রত্যেকটি থানায় মামলা দায়ের হয়েছেন। তার পরই পরই সদস্য সচিব টিপুকে অবরোধ কর্মসূচি থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। যার কারণে মহানগর বিএনপির বর্তমানে কোন চমক প্রদ অবরোধ দেখতে পায় না নারায়ণগঞ্জবাসী।

 

 

এদিকে বিএনপি ১ দফা দাবি সরকার পতনের আন্দোলনে গত বছরের ১০ ডিসেম্বর থেকে গত ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত কয়েক দফায় ডেট লাইন দিয়ে গেছে। কিন্তু ডেট লাইন দিয়ে তারা আরো মামলায় পিষ্ট হচ্ছেন আর কিছুই না। এছাড়া ও হরতাল ও অবরোধে ও চমক দেখানোর কথা থাকলে ও নিশ্চুপই দেখা যাচ্ছে বিএনপিকে। এবার আবারো নির্বাচনের আগের মাস ডিম্বেবরের দিকে চোখ বিএনপির।

 

 

কিন্তু তৃণমূলের নেতাদের দাবি, বর্তমানে নির্বাচনের মাত্র বাকি প্রায় ১ মাস যার কারণে ডেট দিয়ে কোন আন্দোলণ হবে না যে কো মুহুর্ত্বে আন্দোলনে নামার সময় এখন কিন্তু নেতাকর্মীদের দাবি, কেন্দ্রীয়ভাবে কোন প্রকারের কঠোর ঘেরাও কর্মসূচি না থাকলে তো সকলে নামতে পারবে না। এদিকে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা ইতিমধ্যে বিএনপির আরেকটি সংগঠন তৃণমূল বিএনপিতে যাওয়া শুরু করে দিয়েছেন।

 

 

আরো বেশি কয়েকজনের যাওয়ার আলোচনা ও চলছে বলে জানা গেছে। নেতাকর্মীরা বলছে, আগামী ১ সপ্তাহের মধ্যে একটি রেজাল্ড দেখা দিবে। এদিকে নির্বাচনি তফসিল ঘোষণার পর মনোনয়ন প্রক্রিয়া শুরু করা হলেও এক দফা দাবি আদায়ের আন্দোলন আরও জোরদার করবে বিএনপি। চলমান কর্মসূচিসহ আগামী দিনের আন্দোলনে সর্বোচ্চ শক্তি নিয়ে মাঠে নামতে ইতোমধ্যে সব পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

 

নেতাকর্মীরা আরো বলছে, আপাতত চলমান আন্দোলনকে নির্বাচনের মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত টেনে নিয়ে যাবে দলটি। এরমধ্যে ২৬ ও ২৭ নভেম্বর ৪৮ ঘণ্টার অবরোধ ঘোষণা ছাড়াও ২৯ ও ৩০ নভেম্বর হরতাল কিংবা অবরোধ কর্মসূচি দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে যে কোনো সময় পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে। যে কোনো সময় আরও বড় ধরনের কর্মসূচির ঘোষণা আসতে পারে।

 

 

ডিসেম্বরের প্রথম থেকেই সরকারবিরোধী আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে দলটি। যাকে ঘিরে আগামী বুধবার অবরোধ ও আগামী বৃহস্পতিবার হরতালের ঘোষণা দিয়েছে দলটির নেতাকর্মীরা। গত ১ মাস আন্দোলনে কোন প্রকার ‘অসহযোগ’ করতে না পারলে ও এবার বিএনপি নানা পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নামার আকাঙ্খা জানাচ্ছে। তাদের দাবি জীবন দিয়ে হলে ও এবার দেশে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সুষ্ঠ নির্বাচন হবেই।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন