আসন্ন দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের হাওয়া বইছে পুরো নারায়ণগঞ্জ জুরে। নির্বাচনের তফসিলকে স্বাগত জানানোর পাশাপাশি মনোনয়ন ফরম বিক্রি শেষে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থীদের নাম ঘোষনা করেছে। এখনো পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে নৌকার প্রার্থী ঘোষিত হয় নাই। ২৬ নভেম্বর গণভবনে আওয়ামী লীগের ২শ’৯৮ জনের নাম প্রকাশ করা হয়।
তার মাঝে নারায়ণগঞ্জের ৪টি আসনের মাঝে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে দশ বছর পর নৌকার প্রার্থী ঘোষনা করা হয়েছে। এখানে আওয়ামী লীগ থেকে নৌকা মনোনীত হয়েছে কায়সার হাসনাত। বিপরীতে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকা জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়ন পেয়েছে। গতকাল জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের নাম ঘোষনা করা হয়।
এদিকে নির্বাচনের গরম বাতাস নিয়ে মনোনীত হওয়ার পর থেকে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের আওয়ামী লীগ জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা কর্মীদের উজ্জীবিত করেছে। নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে দীর্ঘ দশ বছর পর আওয়ামী লীগ থেকে এখানকার সাবেক সাংসদ আব্দুল্লাহ আল কায়সার হাসনাত নৌকার প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হয়েছে।
অপরদিকে এই আসনের বর্তমান এমপি জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকা লাঙল প্রতীক পাওয়ার পর সোনারগায়ে মিছিল করেছে। এছাড়া সকালে সোনারগাঁ মোগড়াপাড়া মোড়ে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে ভীড় জমিয়ে কায়সার হাসনাতের পক্ষে নৌকার মিছিল করেন। সোনারগাঁয়ে লাঙল আর নৌকার মিছিলে মুখরিত পুরো এলাকা।
পাল্টা পাল্টি মিছিল করে নিজেদের শক্তির অবস্থান জানিয়েছেন তারা। তাছাড়া তাদের সমর্থকরা লাঙল আর নৌকা নিয়ে মাঠে নেমেছে। তবে এবার জয়ের মালা কার হবে তা নিয়ে এখন সর্বত্র আল্চোনা হচ্ছে।
কেননা একাদশ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থীকে আওয়ামী লীগের ছাড় দিতে হয়। কেননা তখন আওয়ামী লীগ জাপার সাথে মহাজোট গঠন করে নির্বাচন হয়। এজন্য স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা ক্ষোভ নিয়ে হলেও তারা লাঙলের প্রার্থীকে ছাড় দেন।
দলীয় সুত্রবলছে, এবার নারায়ণগঞ্জ -৩ আসনের সাবেক সাংসদ কায়সার হাসনাত এবং বর্তমান সাংসদ লিয়াকত হোসেন খোকা মনোনয়নীত হওয়ার পর থেকে পুরোদমে মাঠ গরম করে যাচ্ছে। ২০১৪ ও ২০১৮ সনের নির্বাচনে এই আসনে নৌকার প্রার্থী নেই। আর এনিয়ে আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের মাঝে এক ধরনের ক্ষোভ জমে রয়েছে।
তাই তারা ২০১৮ সনের পর থেকে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে নৌকার প্রার্থী দেয়ার দাবী জানিয়ে আসছেন। বিশেষ করে সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে কেন্দ্রীয় নেতাদের সামনে জোরালো ভাবে নৌকার প্রার্থী দেয়ার দাবী জানানো হয়। তাদের এই দাবীর প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ আশ্বস্ত করেছে এবং তা পুরণ হয়েছে।
এবার জয় ছিনিয়ে আনার পালা আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের। কিন্তু এতসহজে জয় হবে না বলছে রাজনৈতিক বোদ্ধমহল। কেননা নৌকার প্রার্থীর সাথে আওয়ামী লীগের থেকে ডামি প্রার্থী থাকার নির্দেশনা দিয়েছে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। আর এনিয়ে অনেকটা হতাশা কাটে নাই নৌকার প্রার্থীর।
এছাড়া বিপরীতে হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন জাতীয় পার্টির দুই বারের সাংসদ লিয়াকত হোসেন খোকা। তিনিও এবার মাঠ ছেড়ে দিবেন না। কেননা গত দশ বছরের উন্নয়নের বার্তা নিয়ে এক বছর আগে থেকে মানুষের ধারে ধারে গিয়ে আস্থা অর্জন করেছে। এখানে কেউ কারো থেকে শক্তিশালী কম নয়।
তাই মনোনয়ন পেয়েই তারাও মাঠ গরম করে যাচ্ছে। রাজনৈতিক সচেতন মহল বলছে নারায়ণগঞ্জ-৩ সোনারগাঁয়ে সাবেক বর্তমান এমপিরা প্রার্থী হওয়ায় এখানকার নির্বাচন জমে উঠেছে। সেই সাথে তাদের সমর্থকরাও নেমেছে মাঠে। ভোট গ্রহনের দিন বুঝা যাবে জয়ের মালা কার গলায় পরে।
উল্লেখ্য আগামী ৭ জানুয়ারি রোববার ভোটগ্রহণের দিন রেখে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, এ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত, তা বাছাই হবে ১ থেকে ৪ ডিসেম্বর। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ১৭ ডিসেম্বর।
তার তিন সপ্তাহ পর হবে ভোটগ্রহণ। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পর ১৮ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দ হবে। সেক্ষেত্রে মনোনয়নপত্র জমার জন্য ১৪ দিন সময় দেওয়া হয়েছে এবং প্রচারের জন্য ১৯ দিন সময় রয়েছে। ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে প্রচার শেষ করতে হয়। অর্থাৎ, ১৮ ডিসেম্বর থেকে ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত ভোটের প্রচার চালানোর সুযোগ থাকবে।


