হাঁকডাক দিয়ে বেকায়দায় ‘কিংস পার্টির’ নেতারা
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ৩০ নভেম্বর ২০২৩, ০৮:২১ পিএম
দ্বাদশ জাতীয় সাংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের (বিএনএম) মতো বেশ কয়েকটি কম পরিচিত দল মাঠে সক্রিয় হয়েছে। ‘কিংস পার্টি’ হিসেবে বর্তমানে রাজনৈতিক মহলে আলোচনায় রয়েছে বিএনএম ও তৃণমূল বিএনপি। বর্তমানে ‘কিংস পার্টিগুলো’ সাংসদ নির্বাচনকে সামনে টার্গেট করে বেশ তৎপর। ইতিমধ্যে নির্বাচনকে নিয়ে অনেকটা হাঁকডাক দিয়ে এসব পার্টি মাঠে নামলেও এখন পর্যন্ত কোনো চমক নেই। তফসিল ঘোষণার শুরুতে গুঞ্জন ছিল বিএনপির অনেকে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন (বিএনএম) ও তৃণমূল বিএনপির হয়ে নির্বাচনে অংশ নেবেন। এ দলগুলোর জোট হবে আগামী সংসদে প্রধান বিরোধী দল। তবে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ছিলো আগামীকাল বৃহস্পতিবার কিন্তু নানা কারণ দেখিয়ে জমা দেওয়া সময় আরো এক সপ্তাহ বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে (বিএনএফ)। কিন্তু এখনো পর্যন্ত ‘কিংস পার্টিগুলো’ বিএনপিতে ভাঙন ধরাতে সক্ষম হয়নি। বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য ও সম্ভাব্য প্রার্থীদের ভাগিয়ে নেওয়া চেষ্টায় কেউ সাড়া দেয়নি বলে জানা গেছে।
ইতিমধ্যে বিএনপির অনেক বহিষ্কার নেতা কয়েকজন স্বতন্ত্র হিসাবে নির্বাচনে অংশ নিবে এমন গুঞ্জন শোনা গেলে ও কেউই ‘কিংস পার্টিকে’ সাড়া দিচ্ছে না। এছাড়া ও নারায়ণগঞ্জ বিএনপির বেশ কিছু সাবেক এমপি ও নেতারা নেতাকর্মী ‘কিংস পার্টিতে’ যোগ দেওয়ার বিষয়ে গুঞ্জন পাওয়া গেলে ও শেষ পর্যন্ত এসে সেটা গুঞ্জনই রয়ে গেলো। সবশেষে মকসদ হাসিলে ব্যর্থ হয়ে পরেছেন ‘কিংস পার্টির নেতারা।
সূত্রে জানা গেছে, তৃণমূল বিএনপি ও বিএনএম কোনো কিংস পার্টি নয় বলেও দাবি করেন দল দুটির নেতারা। তারা এখনো আশাবাদী, বড় ধরনের চমক দেখাতে সক্ষম হবেন। তৃণমূল বিএনপি দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের জন্য ১৮ নভেম্বর থেকে দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু করে। দলটির দাবি, মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত ৪৯৫ জন মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন। তাদের মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য রয়েছেন চারজন।
দলটির চেয়ারম্যান বিএনপি থেকে পদত্যাগকারী (সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান) শমসের মবিন চৌধুরী ও মহাসচিব বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত (দলের চেয়ারপারসনের সাবেক উপদেষ্টা আলম খন্দকার। এর বাইরে পরিচিত কোনো রাজনীতিককে এখন পর্যন্ত দলটি টানতে পারেনি। সাংবাদিকদের একটি প্রশ্নে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, 'সরকারের লোকজন মাঠে নেমেছে তথাকথিত কিংস পার্টিতে লোকজন নেওয়ার জন্য। বিভিন্ন দল থেকে নেতাদের আনতে হাটের মতো দরদাম চলছে।
আওয়ামী লীগের কিংস পার্টিতে যোগ দিতে দেশপ্রেমিক বহু নেতাকে চাপ-প্রলোভন ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে। ছলে-বলে-কৌশলে টোপ দিয়ে কাউকে কাউকে বাগানো হচ্ছে। গণতন্ত্র ও ভোটাধিকারের আন্দোলনে থেকে যারা দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবে তারা ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হবে। এদিকে নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনে বিএনপির যারা মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন।
তাদের মধ্যেই অনেককেই তৃণমূল বিএনপিতে আনতে জোর চেষ্টা চালিছিলেন তৈমূর আলম খন্দকার যা অনেকগুলো দৈনিক পত্রিকায় নিউজ দেখা গিয়েছিলো এদিকে আড়াইহাজারে তৈমূরের টার্গেট ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সাবেক সাংসদ সদস্য আতাউর রহমান খাঁন আঙ্গুর। কিন্তু কোনভাবেই তাকে দলচুত্য করতে সক্ষম হয়নি ‘কিংস পার্টির’ এই নেতা। এছাড়া ও আরো কয়েকটি আসনে বিএনপির সাবেক নেতাদের দিকে ‘কিংস পার্টির’ চোখ থাকলে ও বেশি একটা সুবিধা করতে পারেনি তারা।
এদিকে নির্বাচনের সময় দিন ঘনিয়ে আসছে কিন্তু বিএনপির ভেঙে তাদের দলে নেতা আনতে ব্যর্থ হয়ে পরেন। যার কারণে তৈমূরের আওতাধীন নেতাকর্মীদের দিয়েই নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসন পূরণ করেন। এদিকে তৃণমূল বিএনপির মহা-সচিব এড. তৈমূর আলম খন্দকার বেশ বার বলেছেন তৃনমূল বিএনপি বিরোধী দল কোন জোটে নেই আর নির্বাচন বিরোধী হিসেবেই হবে। কিন্তু গতকাল তৃণমূল বিএনপির মহা-সচিব এডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকারের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে। যেখানে মোবাইলে তাকে অন্য কারও সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়।
ওই ভিডিওতে বিএনপির এই সাবেক নেতাকে বলতে শোনা যায়- 'না, আমি ৫-এ কিনবো না। প্রধানমন্ত্রীর সামনে আমি কথাটা বলেছি, যা বলার বলেছি। এ অবস্থায় আমি কথার পরিবর্তন করবো না। নিশ্চয় গাজী থেকে উনারা বায়াস্টড হইয়া উনারা এ কথাগুলা বলতাছে। ওখানে আপনার সামনে তো যার সাথে কথা বলা দরকার কথা বলা হয়েছে, উনাকে আমি বলেছি। আমি কথা পরিবর্তন করবো না। উনারা আমাদের গিনিপিগ মনে করে, যা খুশি আমাদের দ্বারা করাবে। তা হবে না, তা হবে না।
বইল্যা দিয়েন, তৈমূর আলম খন্দকার এক কথার লোক। আপনার সামনে যার সাথে কথা বলার বলে এসেছি, কথাটা উনি বলুক। যার সামনে আমি বলে এসেছি যে আমি রূপগঞ্জ থেকে করবো। তার সামনে আবার দেখা করাক, তার সামনে আবার কথা পাল্টাই। আপনি জানাই দিয়েন, আল্লাহর কাছে ছাড়া কারও সামনে মাথা নত করার অভ্যাস নেই আমার।” যোগাযোগ করা হলে তৈমূর আলম খন্দকার স্বীকার করেন যে কথাগুলো তার। তবে ফোনের অপরপ্রান্তে কে ছিলেন তা তিনি বলতে রাজি হননি।
এদিকে গতকাল দ্বাদশ জাতীয় সাংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের মনোনয়ন দাখিল করেছেন তৃণমূল বিএনপির মনোনীত প্রার্থী অ্যডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার। তারপরই সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি সংসদীয় আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে তৃণমূল বিএনপির মহা-সচিব এড. তৈমূর আলম খন্দকার। নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি সংসদীয় আসনের প্রার্থী হলেন, নারায়ণগঞ্জ-১ তৈমূর আলম খন্দকার, নারায়ণগঞ্জ-২ কে এম আবু হানিফ হৃদয়, নারায়ণগঞ্জ-৩ মো. চান মিয়া/ আফরোজা বেগম হ্যাপি, নারায়ণগঞ্জ-৪ অ্যাড. আলী হোসেন, নারায়ণগঞ্জ-৫ অ্যাড. আব্দুল হামিদ ভাসানী ভূঁইয়া।
এদিকে নির্বাচনের বাকি নেই আর বেশিদিন যেহেতু বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা বলেই দিয়েছে এই সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাওয়ার প্রশ্নই উঠে না। যার কারণে বুঝতে আর বাকি নেই যে সামনের দিনগুলোতে ও বিএনপির কাউকেই তৈমূর ‘কিংস পার্টিতে’ যোগ দেওয়াতে পারবে না। এস.এ/জেসি


