Logo
Logo
×

রাজনীতি

পলাতক নন আত্মগোপনে বিএনপি

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ০২ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৮:১৩ পিএম

পলাতক নন আত্মগোপনে বিএনপি
Swapno

 

দীর্ঘ এক মাস যাবৎ মামলা-হামলা ও গ্রেফতারে রাজপথে ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছে বিএনপির নেতারা কিন্তু দলীয় আন্দোলন হরতাল ও অবরোধ ঝটিকা মিছিলের মাধ্যমেই পালন করে আসছে দলটির নেতাকর্মীরা। এমতাবস্থায় দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমেজ আনতে শুরু করেছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। তফসিলের পর এবার মনোনয়নের দাখিলের সময় শেষ তফসিল অনুযায়ী নির্বাচনের দিকে যাচ্ছে দলটি। কিন্তু বিএনপি বর্তমানে তাদের ১ দফা দাবিতে অনড় হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহন থেকে পিছিয়ে আছে।

 

কিন্তু বিএনপির নেতাকর্মীরা বলছে, এই সরকার এক তরফা নির্বাচন করার লক্ষে বিরোধী দল বিএনপিকে মামলা-হামলা দিয়ে আত্মগোপনে রেখেছে কিন্তু তারা এভাবে বিরোধী দলকে দাবিয়ে রেখে দেশের জনগণের নাকের ডগা দিয়ে নির্বাচন করে যাবে এটা সম্ভব নয়। এ দিকে জানা গেছে, পরিবর্তন হবে, এমন প্রত্যাশা নিয়ে এগুচ্ছে বিএনপি।

 

গত ২৮ অক্টোবরের পর পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে টানা হরতাল-অবরোধ কর্মসূচিতে রয়েছে দলটি। চলমান আন্দোলনে দৃশ্যমান কোনো সফলতা এখনো পর্যন্ত না আসায় দলটির সাধারণ নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে কিছুটা হতাশা বিরাজ করলেও নেতৃত্বের পর্যায়ে এমন কোনো লক্ষণ পরিলক্ষিত হয়নি।

 

আন্দোলন পরিচালনার সাথে জড়িতরা আশাবাদী যে, অবস্থার পরিবর্তন হবে এবং সেটি যেকোনো সময় হতে পারে। তাই নেতা-কর্মীদের হতাশ না হয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে নতুন করে। এছাড়া ও বিএনপির নেতাকর্মীরা বলছে, আমরা বর্তমানে আত্মগোপনে আছি এর মাধ্যমেই আমাদের কার্যক্রম পরিচালিত করছি। সামনে আমাদের আরো তীব্র মাত্রা নিয়ে আন্দোলন আসছে তার মাধ্যমেই দেশের জনগণ তাদের দাবি ফিরে পাবে।

 

সূত্র বলছে, দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় শেষ এবার একদফার আন্দোলনকে এগিয়ে নিতে নতুন কৌশল গ্রহণ করতে যাচ্ছে বিএনপি। এক মাস ধরে হরতাল-অবরোধের কর্মসূচি ঘিরে কৌশলে নিরাপদে থাকা নেতা-কর্মীরা যাতে স্বাভাবিক পরিবেশে রাজনীতি করতে পারে সেই প্রচেষ্টা চালাচ্ছে দলটি। লক্ষ্য, নেতা-কর্মীদের আতঙ্কিত অবস্থা থেকে বের করে আনা।

 

কর্মসূচিতে বৈচিত্র্য আনা এবং আগামীর আন্দোলনের জন্য নতুন করে শক্তি সঞ্চয় করতে নির্বাচনের মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় শেষ হওয়ার পর হরতাল-অবরোধ থেকে সাময়িকভাবে বের হয়ে আসতে চায় দলটি। নেতারা বলছেন, সরকার শেষ পর্যন্ত একতরফা নির্বাচনের পথে হাঁটলে তা বয়কট করে ভোট ঠেকানোর আন্দোলনে নামতে হতে পারে। সে কারণে হরতাল-অবরোধের বিকল্প কর্মসূচি শীঘ্রই আসার পথে।

 

এছাড়াও বিএনপির হাইকমান্ডের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে, ধারাবাহিক আন্দোলন এবং পশ্চিমা বিশ্বের অব্যহত চাপে শিগগির পরিস্থিতির ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটবে। সেজন্য আরো কিছুদিন আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে। এদিকে বিএনপির একাধিক নেতাকর্মীরা বলছে, গত ১৫ বছরে বিএনপি মামলা-হামলা-গ্রেফতারের মাধ্যমেই রাজপথে ছিলো বর্তমানে এর মাত্রা যতই বড় হোক না কেন বিএনপি তাদের এই মামলা-হামলাকে প্রতিহত করবে রাজপথে। তারা আরো বলছে, বিএনপি পালায় না বিএনপি আন্দোলনে আছে, বিগত দিনে ও বিএনপির পালানোর কোন রেকর্ড আসেনি।

 

এ বিষয়ে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সহ-অর্থ বিষয়ক সম্পাদক মাহমুদুর রহমান সুমন যুগের চিন্তাকে বলেন, এই স্বৈরাচারী সরকার বিরোধী দলকে দাবিয়ে রাখতে সব সময়ই মামলা-হামলা করেই দাবিয়ে রাখার চেষ্টা করে। তারা আর কিছু পারে না, তারা এখন বিরোধী দলকে মামলা হামলা দিয়ে দূরে রেখে এক তরফা নির্বাচনের দিকে ঝুঁকছে কিন্তু এটাতে তারা সফল হবে না, দেশের জনগণ তাদের এই পাতানো নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রত্যাখ্যান করেছে আর সফল ও হতে দিবে না।

 

আর তারা কিন্তু বিএনপিকে মামলা-হামলা করে দেশে ছেড়ে পালিয়ে রাখতে পারে না। আমরা আত্মগোপনে রেখে ও আমরা আমাদের কেন্দ্রীয় আন্দোলন চলমান রেখেছি। আর তাদের তো একটা বিষয়ই আছে তারা কিছু হলেই পালিয়ে যায় দেশ ছেড়ে আর বিএনপির এমন কোন নজির নাই। আর বর্তমানে আমরা আন্দোলনে আছি এটাই আমাদের ভরসা এই আন্দোলনের মাধ্যমেই দেশ স্বৈরাচার মুক্ত হবে।

 

মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এড.সাখাওয়াত হোসেন খান যুগের চিন্তাকে বলেন, আমাদের উপরে এই সরকার তাদের ইচ্ছে মতো নির্যাতন চালাচ্ছে। এদিকে প্রায় ১৫ বছর যাবৎ দেশের জনগণকে জিম্মি করে বিএনপির নেতাকর্মীদের উপরে মামলা ও হামলার বোমা নিক্ষেপ করে দেশ চালাচ্ছে যা সামনে কোন মতেই হতে দিবে না দেশের জনগণ আমরা আন্দোলনের উপরেই আছি আর এই আন্দোলনের মাধ্যমেই আমাদের নির্যাতনের জবাব দিবো।

 

তিনি আরো বলেন, এখন তারা একটা সাজানো নির্বাচন করতে প্রস্তুতি নিচ্ছে যা দেশের জনগণের বাহিরে। আর বিএনপিকে নির্বাচন থেকে সরিয়ে রেখেছে মামলা-হামলা দিয়ে কিন্তু বিএনপিকে যদি বলা হয়ে তারা পালিয়ে আছে এটা ভূল আমরা দেশের এই কঠোর আন্দোলনে আত্মগোপনে আছি আর নিরাপদ আছি আমরা দেশ ছেড়ে পালাই নাই।

 

মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম সজল যুগের চিন্তাকে বলেন, এই দেশের মানুষ এই সরকারকে আর ক্ষমতায় দেখতে চায় না। তারা চায় দেশে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন যার মাধ্যমে দেশে জনগণরে সরকার প্রতিষ্ঠা হবে। যার কারণে বিএনপি রাজপথে সেই দাবি আদায়ে নেমেছে আর আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। এদিকে বিএনপিকে দাবিয়ে রাখতে এই সরকার নানা নীল নকশা করছে কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই তাদের সব নকশার দুয়ার ভেঙ্গে যাবে।

 

জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি যুগের চিন্তাকে বলেন, বিএনপি কিন্তু জনসমর্থন দল, এই দলকে পালিয়ে রাখতে কখনো পারবে না এই সরকার। পালায় আওয়ামী লীগ-বিএনপি সকল বাধা উপেক্ষা করেই রাজপথে ছিলো ও সামনে থাকবে। এই সরকার মনে করছে বিএনপিকে দাবিয়ে রাখতে পারবে কিন্তু এটা তার ভূল ধারনা। বিএনপি কিছুদিনের জন্য আত্মগোপনে আছে কিন্তু আন্দোলন চলমান। বিগত দিনে ও এই আন্দোলন ছিলো সামনে ও থাকবে। যে পর্যন্ত এই সরকারের পতন না হবে, আর বিএনপির নেতারা দেশের জনগণের দাবি ফিরিয়ে দিতে বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিতে ও রাজি আছে।

 

মহানগর যুবদলের সদস্য সচিব শাহেদ আহম্মেদ যুগের চিন্তাকে বলেন, আমরা বর্তমানে আন্দোলনে আছি, এই আন্দোলনকে সফল করতে আমাদের যত ত্যাগ স্বীকার করা লাগে আমরা করবো। আমরা আমাদের আন্দোলনকে সফল করতে বদ্ধপরিকর এবং সামনে অবশ্যই আমাদের আন্দোলনের গতি এই মাসে আরো বৃদ্ধি পাবে। আর তাদের পাতানো নির্বাচনের আরো বহুদিন বাকি আমরা যেহেতু আন্দোলনের উপরে ভরসা রেখেছি এই আন্দোলনে আমাদের সফলতা আসবেই। আর আমাদের মামলা-হামলা থেকে বিএনপির নেতাকর্মীরা মুক্ত হবে। এস.এ/জেসি 
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন