স্বতন্ত্র না থাকলেও জাপায় ঘাম ঝরছে বাবুর
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৪ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৮:১৯ পিএম
আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত অংশ গ্রহণ করছে কি না তা স্পষ্ট ভাবে পরিষ্কার করে দিয়েছে দল দুটি। তবে নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধিত ৪৪ দলেরে মাঝে ৩০ টি দল নির্বাচনে অংশ গ্রহন করছে। তার মাঝে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়া মন্ত্রী এবং এমপিদের স্বস্তিতে থাকার কথা থাকলেও তারা অসস্তিতে রয়েছে। তারা মোটেও স্বস্তিতে নেই। বরং তারা আতঙ্কে আছেন।
অনেক মন্ত্রী এমপি চাচ্ছেন ২০১৪ বা ২০১৮ সালের মতো বিনা শ্রমে আবার নির্বাচিত হতে। কিন্তু সেই সুযোগ তারা এবার পাচ্ছেন না । স্বতন্ত্র প্রার্থীরা তাদের চোখ রাঙাচ্ছে। এছাড়া নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন আসনে আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী না থাকলেও প্রতিটি আসনেই জাতীয় পার্টির প্রার্থী রয়েছে। জাপার প্রার্থীরাই তাদের ঘাম ঝরাচ্ছে।
এদিকে আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড থেকেও জানিয়ে দেয়া হয়েছে যে, নিজের জনপ্রিয়তা এবং যোগ্যতাতেই প্রার্থীদের জয়ী হয়ে আসতে হবে। এরকম পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বিপদে আছে গত দুটি নির্বাচনে যারা ভোট ছাড়া এমপি হয়েছেন তারা। এলাকায় বিতর্কিত হয়েও যারা আবার টিকেট পেয়েছেন, এই নির্বাচন তাদের জন্য কঠিন পরীক্ষা।
নারায়ণগঞ্জ-৪ শামীম ওসমান ও নারায়ণগঞ্জ-২ নজরুল ইসলাম বাবুর আসনে আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী না থাকলেও জাতীয় পার্টির প্রার্থী নেই। কিন্তু নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে জাতীয় পার্টি থেকে হেভিওয়েট প্রার্থী রয়েছে। এখানে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য আলমগীর শিকদার লোটন প্রার্থী হিসেবে হয়েছেন। এর আগের নির্বাচনেও তিনি প্রার্থী হওয়ার জন্য দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছে।
তখন আওয়ামী লীগের সাথে জাতীয় পার্টির মহাজোট থাকায় এই আসনটি আওয়ামী লীগকে ছাড় দিতে হয়। কিন্তু এবার আওয়ামী লীগের সাথে জাতীয় পার্টির মহাজোট না থাকায় তার প্রার্থীতায় কোন বাধা নেই। তবে আওয়ামী লীগ হতে স্বতন্ত্র প্রার্থী রাখার নির্দেশনা থাকলেও এখানে সেই নির্দেশনা মানা হয় নাই। কিন্তু এবার আর একক ভাবে পার হতে পারছে না নৌকার প্রার্থী নজরুল ইসলাম বাবু।
অপরদিকে জাতীয় পার্টির সমঝোতায় নারায়ণগঞ্জের ৩টি আসন চেয়েছে। তার মাঝে নারায়ণগঞ্জ-২ আসন রয়েছে। কিন্তু আওয়ামী লীগ কীভাবে তাদের সাথে সামঝোতা করবে তা এখনো পরিষ্কার নয়। সুত্রমতে, অন্তত ১০০ আসনে আওয়ামী লীগের বর্তমান মন্ত্রী এবং এমপিরা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে। অন্য সময়ে নির্বাচনে প্রশাসন এবং আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বর্তমান এমপিদের পক্ষে কাজ করে। কিন্তু এবার প্রশাসন এবং আইন শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীও মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।
ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশন, সব ওসি এবং এক বছরের বেশী সময় থাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের বদলির আদেশ দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, জেলা প্রশাসকরা কঠোর নজরদারীতে আছেন। এমপিদের অনেকেই গত ৫ বছরে এলাকায় নানা কারণে বিতর্কিত হয়েছে। কারো কারো সাথে এলাকার যোগাযোগও কম ছিলো। এবার যখন তারা নির্বাচনের মাঠে নামছেন, তখন তারা এলাকায় জনপ্রিয় প্রার্থীদের চ্যালেঞ্জের মুখে পরছেন। সাধারণ মানুষও নতুন মুখ চায়। যারা এতোদিন কথা দিয়ে কথা রাখেনি, ভোটের মাধ্যমে তার প্রতিশোধ নিতে চায়। এই নির্বাচন সেই সুযোগ সৃষ্টি করেছে।
জানা যায়, টানা চতুর্থবারের মত এমপি হওয়ার জন্য নৌকা নিয়ে মাঠে রয়েছেন আড়াইহাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নজরুল ইসলাম বাবু। এর আগে তিনি কেন্দ্রীয় ছাত্র লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০০৮ সনের নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে সংসদ সদস্য পদে নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।
তবে এবারের নির্বাচনের প্রেক্ষাপট ভিন্ন থাকায় তার সহজে জয় পাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেননা এখান থেকে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য আলমগীর শিকদার লোটনও ব্যাপক পরিচিত রয়েছে। তিনি এর আগেও এখান থেকে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী হয়ে এখানকার মানুষের কাছে পরিচিত হয়ে রয়েছেন। তাই তাকে নিয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বেকায়দায় রয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এবারের নির্বাচনের প্রেক্ষাপটেই বলে দিচ্ছে নির্বাচন কঠিন হতে যাচ্ছে। আর এতে করে আওয়ামী লীগের এমপিরা যদি মনে করেন তারা সহজে জয় পেয়ে যাবেন তাহলে এটা তাদের ভুল ধারণা। এজন্য নারায়ণগঞ্জে-২ আসনে নৌকার প্রার্থীকে ঘাম ঝরাচ্ছে জাতীয় পার্টির প্রার্থী। এখানে আওয়ামী লীগ থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী না থাকলেও জাতীয় পার্টির প্রার্থীই নৌকার জন্য গলার কাঁটা হয়ে রয়েছে। তবে নির্বাচনের ভোটের মাধ্যেমে পরিষ্কার হবে ভোটাররা কাকে বেঁছে নেয়। এস.এ/জেসি


