Logo
Logo
×

রাজনীতি

‘যদি’তে আবদ্ধ খোকা-কায়সারের লড়াই

Icon

ইউসুফ আলী এটম

প্রকাশ: ০৭ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৮:৪৭ পিএম

‘যদি’তে আবদ্ধ খোকা-কায়সারের লড়াই
Swapno

 

মহাজোটের টিকেটে গত দুই টার্ম প্রায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন জাতীয় পার্টির লিয়াকত হোসেন খোকা। ওসমান পরিবারের সাথে ঘনিষ্ঠতার সুবাদে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের এমপি প্রয়াত নাসিম ওসমানের হাত ধরেই তিনি জাতীয় পার্টিতে নাম লেখান। এর আগে তিনি সাংবাদিক হওয়ার কসরত করেছিলেন। কিন্তু হালে পানি না পেয়ে ওসমান পরিবারের আশীর্বাদ নিয়ে রাজনীতিতেই থিতু হন। আর তাতেই কপাল খুলে যায় খোকার।

 

হাবাগোবা টাইপের খোকা ছিলেন সোনারগাঁয়ের মৌসুমী পাখি। স্থায়ী বসতি নারায়ণগঞ্জ শহরে। হাওয়া বদলাতে তিনি মাঝে মাঝে সোনারগাঁয়ে নিজ গ্রামে যেতেন বলে এলাকাবাসীর সাথে আলাপ করে জানা যায়। এলাকায় তার তেমন পরিচিতি ছিলো না। কিন্তু ২০১৮ সালে হঠাৎ করেই এলাকায় এসে জুড়ে বসলেন। আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের অভিযোগ, শেখ হাসিনার কৃপায় বিনা ভোটে এমপি নির্বাচিত হয়েই আওয়ামী লীগের এলাকা হিসেবে পরিচিত সোনারগাঁয়ে টানা ১০বছর একক রাজত্ব করেছেন মহাজোট তথা জাতীয় পার্টির এই এমপি।

 

১০ বছর তিনি সরকারি প্রভাব খাটিয়ে নিজের আখের গোছাতে পারলেও এলাকায় আহামরি গোছের কোন উন্নয়নমূলক কাজ করতে পারেননি বলে তার প্রতিপক্ষের অভিযোগ। তার কোটি টাকার গাড়ি কেনার উৎস নিয়েও ইতোমধ্যেই বিভিন্নমহলে নানা কৌতূহলের উদ্রেক করেছে। অভিযোগ রয়েছে; বিগত ১০ বছরে নগদ টাকা ছিটিয়ে আর নানা প্রলোভন দেখিয়ে সোনারগাঁ আওয়ামী লীগে নানা গ্রুপ এবং উপগ্রুপ সৃষ্টি করে দলটিকে গ্রুপিংয়ের জটাজালে আবদ্ধ করে রেখেছেন হাবাগোবো বেশের মুখোশধারী চতুর খোকা।

 

তবে তার কোন কূটকৌশলই নির্বাচনী মাঠে কাজে আসবে না বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। বিভাজন ভেঙ্গে সোনারগাঁ আওয়ামী লীগ এক পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে নৌকায় ভোট দেয়ার জন্য উন্মুখ হয়ে আছে বলে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা জানান। বিগত ১০ বছর নৌকায় ভোট দিতে না পারার ক্ষুধা মিটাতে উদগ্রীব তারা।

 

অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখেই পড়তে হচ্ছে খোকাকে। সোনারগাঁয়ের ঐতিহ্যবাহী আওয়ামী পবিারের সন্তান সাবেক এমপি কায়সার হাসনাত নৌকা প্রতীক নিয়ে খোকার লাঙ্গলের সাথে লড়বেন। বলতে দ্বিধা নেই, খোকা এবারই সত্যিকার অর্থে প্রথমবারের মতো প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ভোটের লড়াইয়ে অবতীর্ণ হতে যাচ্ছেন। এই লড়াইয়ে তার ছিটকে পড়ার সম্ভাবনাই বেশী বলে আন্দাজ করছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকমহল।

 

তবে ভোটের এই লড়াইয়েও কিছু ‘যদি’ দেখা দেয়ার সম্ভাবনা উঁকিঝুঁকি মারছে। যদি দীর্ঘদিনের জিইয়ে থাকা আওয়ামী লীগের কোন্দল এ মুহূর্তে না মিটে, যদি গত দু’বারের মতো এবারও কেন্দ্র থেকে এ আসনটি জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দেয়ার ঘোষণা আসে, কিংবা যদি ভূঁইয়া সাহেব তার প্রিয় খোকার মায়ার জাল ছিন্ন করতে না পারেন! যদি আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র চার প্রার্থী বেঁকে বসেন। আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন, মারুফ ইসলাম ঝলক, এরফান হোসেন দীপ, এ.এইচ.এম মাসুদ এবং রুবিয়া সুলতানা।

 

যদি তারা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার না করেন। যদি গোপনে গোপনে তারা খোকার সাথে হাত মিলিয়ে বসেন। তবে আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংক বিভক্তি হয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকবে। বিগত ১০ বছর যাবৎ খোকার কাছ থেকে সুবিধাভোগীরা যদি উল্টোস্রোতে গা না ভাসায়। নির্বাচনকে সামনে রেখে উঁকিঝুঁকি মারা এই ‘যদি’ গুলোর নিষ্পত্তি না হলে নির্বাচনী ফলাফল কোন দিকে গড়াবে তা বলা বড় কঠিন বৈকি! এস.এ/জেসি  

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন