জেলা যুবদল ও ছাত্রদলকে আগলে রেখেছেন রনি-দোলন
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৯ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৩:৫৭ পিএম
# গুরু-শীর্ষকে মামলা দিয়েও দাবিয়ে রাখা যাচ্ছে না
দীর্ঘ দেড় যুগ যাবৎ ক্ষমতার বাহিরে থাকা দেশের সবচাইতে বড় বিরোধী দল জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। বর্তমানে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল প্রত্যাখান করে কয়েক দফায় হরতাল-অবরোধের মতো কঠোর কর্মসূচি পালন করে আসছেন দলটি যাকে ঘিরে বিএনপির নেতাকর্মীদের নামে মামলা পাহাড় সমান হয়ে দাঁড়িয়েছে।
যার পরিপ্রেক্ষিতে সারা দেশের ন্যায় আতঙ্কে ঘর-বাড়ি ছাড়া বিএনপির হাজারো নেতাকর্মী গ্রেফতারের ভয়ে নামতে রাজি নন নেতারা এমতা অবস্থায় কৌশলে গ্রেফতার এড়িয়ে রাজপথে হরতাল-অবরোধ পালনে কমতি না রেখে জেলা যুবদলকে নেতৃত্ব দিয়ে জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি তারই শীর্ষ জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান দোলন আন্দোলন সংগ্রামে ব্যাপক ভূমিকা পালন করে আসছে।
এদিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপিসহ অন্যান্য অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের হরতাল অবরোধে দেখা না মিললে ও মশিউর রহমান রনির নির্দেশনায় তার অনুসারী নেতাকর্মীদের ঠিকই রাজপথেই দেখা মিলছে। ইতিমধ্যে দশ দফা অবরোধের প্রত্যেকটিতেই রনির অনুসারী নেতাকর্মীরা সরব ভূমিকা পালন করে আসছেন।
তা ছাড়া তারই সহযোগী হিসেবে পরিচিত যাকে হাতে ধরে রাজনীতি শিখিয়েছেন সেই নেতা ফতুল্লা থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ও জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান দোলন উনি রনির দেখানো পথে চলেই রাজনীতিতে অগ্রসর আছেন। জেলা ছাত্রদল থেকে রনি জেলা যুবদলে যাওয়ার পর ও শীর্ষ দোলন মশিউর রহমান রনির আদেশেই বিগত দিন থেকে চতুরমুখীভাবে রাজপথে রয়েছেন।
বর্তমানে এই হরতাল-অবরোধে যখন জেলা ছাত্রদল মুখ ফিরিয়ে রেখেছেন তখনই জেলা ছাত্রদলকে আগলে রেখেছেন এই দোলন। আন্দোলনের এই কঠোর প্রহরে মশিউর রহমান রনি সেনারাই যেন মূল নেতাদের ডাল হয়ে পাশে আছেন।
তা ছাড়া হরতাল ও অবরোধকে ঘিরে নারায়ণগঞ্জের প্রত্যেকটি থানায় মশিউর রহমান রনি প্রায় ১৫টি মামলা হয়েছে বলে জানা গেছে, একই সাথে তার শীর্ষ ছাত্রদলের দোলনের নামে ফতুল্লা থানা ৫টি মামলা দায়ের হয়েছে। তার পরে ও এই মামলা-হামলাকে উপেক্ষা করেই রাজপথে সরকার বিরোধী আওয়াজ তুলছেন রনির অনুসারীরা।
তৃণমূলের দাবি, বিগত দিনে জেলা ছাত্রদলে থাকাকালীন সময়ে ও আন্দোলনের অনড় ভূমিকায় ছিলেন রনির অনুসারীরা এই কঠোর প্রহরে ও কর্মীদের ছেড়ে পিছপা না হয়ে রাজথেই আছেন রনি। যার কারণে বলা চলে আন্দোলনে মশিউর রহমান রনির ভূমিকা অতুলনীয়।
দলীয় সূত্র বলছে, গত ২৮ অক্টোবরের পর থেকেই বর্তমান সরকারের পদত্যাগের দাবিতে টানা হরতাল-অবরোধ কর্মসূচি পালন করে আসছে বিএনপি। আগে তাদেও কর্মসূচিগুলো সভা সমাবেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন তাদের কর্মসূচিপালিত হচ্ছে কঠোর।
আর এই কঠোর কর্মসূচি হরতাল-অবরোধকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপি ও অনেক অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা রাজপথ থেকে হারিয়ে গেছেন। বিভিন্ন অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মাঝে মাঝে দেখা মিললেও মূল দলের নেতাকর্মীরা রাজপথ থেকে একেবারেই হারিয়ে গেছেন।
সেই জায়গায় নারায়ণগ জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি ও তার অনুসারীরা প্রতিটি অবরোধ কর্মসূচিতে কোনো না কোনোভাবে নিজেদের জানান দিয়ে আসছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর রক্তচক্ষু কিংবা নানা প্রতিবন্ধকতা কোনো কিছুই তাদের দমিয়ে রাখতে পারছে না।
এদিকে ছাত্র রাজনীতিতে ও মশিউর রহমান রনি ছিলো আন্দোলনে অনড় সভা সমাবেশগুলোতে তার সাহসিকতাপূর্ণ বক্তব্য নজর কেড়েছে নারায়ণগঞ্জ ও কেন্দ্রীয় নেতাদের। এমতাই অবস্থায় জেলা যুবদলে শক্তিশালী নেতৃত্ব না থাকায় গত বছরের ১৬ মার্চ কেন্দ্রীয় যুবদলের দপ্তর সম্পাদক কামরুজ্জামান দুলালের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে তিন সদস্য বিশিষ্ট নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।
আর এই কমিটিতে আহ্বায়ক করা হয়েছিল জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক খোকনকে ও সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছিল ভিপি কবির হোসেনকে। একই সঙ্গে সদস্য সচিব করা হয়েছিল জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মশিউর রহমান রনিকে। তার পর থেকেই জেলা যুবদল আবারো খোকন-রনিতে শক্তিশালী হয়ে উঠে।
পরবর্তীতে গত বছরের ১৫ নভেম্বর জেলা বিএনপিতে গেলাম ফারুক খোকন স্থান পাওয়ায় আর সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ভিপি কবির হোসেন রাজপথে নিস্কীয় হয়ে পরলে একাই জেলা যুবদলের ভার বহন করে এসেছেন মশিউর রহমান রনি। এমতা অবস্থায় শক্তিশালী ছিলেন জেলা যুবদলের সকল ইউনিট।
পরবর্তীতে আহ্বায়ক না থাকায় গত ২৯ আগষ্ট আবারো জেলা যুবদলের ৩ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ঘোষনা করা হয় সেখানে নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের আহ্বায়ক পদে আছেন সাদেকুর রহমান সাদেক, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক খায়রুল ইসলাম সজীব ও আবারো সদস্য সচিব করা হয় মশিউর রহমান রনিকে।
তার পর পর একাই জেলা যুবদলের ব্যানারে মশিউর রহমান রনিকে বিশাল আকারে পোগ্রাম করতে দেখা গেছে। তা ছাড়া গত ২৯ অক্টোবরের পর থেকেই শুধু দুই-এক বার আহ্বায়ক ও সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ককে দেখা গেলে ও মশিউর রহমান রনি একাই আন্দোলনের ভূমিকায় অনড় ভূমিকা পালন করেছেন।
শুধু তার এলাকা ফতুল্লায় নয় আড়াই হাজার, সোনারগাঁও, রূপগঞ্জে ও মশিউর রহমান রনি ঘুরে ঘুরে অবরোধ কর্মসূচি পালনে তাদের অনুসারীদের উৎসাহ করেছেন। এদিকে তার শীর্ষ মেহেদী হাসান দোলন ফতুল্লার আহ্বায়ক থেকে জেলা ছাত্রদলের সভাপতির পদপ্রার্থী হয়ে প্রত্যাশী পদ না পেলেও দাবিয়ে রাখা যায়নি এই দোলনকে।
রনির নির্দশনা মোতাবেক সকল কার্যক্রম পালনে দোলন এবার ও অনড় ছিলেন সেই বিগত দিনের মতোই। এদিকে জেলা ছাত্রদলের কমিটি শহরকে অবহেলা করে শীর্ষ নেতৃত্ব শহরের বাহিরে রূপগঞ্জ-আড়াইহাজার দিলে হতাশা হয়ে পরেন নেতাকর্মীরা। কিন্তু এই আন্দোলনের কঠোর সময়ে সকলের হতাশাকে নিশিয়েই শেষ করে দিলেন মেহেদী হাসান দোলন।
রনির নির্দেশনা মোতাবেক প্রথম থেকে দশম অবরোধ পর্যন্ত রাজপথে ব্যাপক ভূমিকা পালন করেছেন। যে সময় জেলা ছাত্রদলের সভাপতি নাহিদ হাসান ভূইয়া ও সাধারন সম্পাদক জুবায়ের রহমান জিকু কোন ভয়ে কোন পোগ্রাম করছে না সে সময় জেলা ছাত্রদলের মান রাখছেন মেহেদী হাসান দোলন।
বর্তমানে অঙ্গসংগঠনের রাজনীতিতে জেলা যুবদল ও জেলা ছাত্রদলের আরেক নাম মশিউর রহমান রনি ও মেহেদী হাসান দোলন তাদেরকেই নেতাকর্মীরা আন্দোলনের সময়ের আস্থার প্রতিক হিসেবে আখ্যা দিয়ে আসছেন।


