Logo
Logo
×

রাজনীতি

নৌকা পেয়েও উৎকণ্ঠায় কায়সার

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৯ ডিসেম্বর ২০২৩, ১০:১৮ পিএম

নৌকা পেয়েও উৎকণ্ঠায় কায়সার
Swapno

 

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১০ বছর পরে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে আব্দুল্লা আল কায়সার হাসনাত নৌকার প্রার্থী হয়েছে। কেননা দীর্ঘ দিন যাবত এখানে নৌকার প্রার্থী দেয়ার দাবী জানিয়ে আসছে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারা। কিন্তু রাজনৈতিক বোদ্ধমহলের মতে এই আসনে দলের মনোনয়ন নৌকা পেয়েও উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় রয়েছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থী। কেননা এখানে যেমন নৌকার বিপক্ষে লাঙলের শক্তিশালী প্রার্থী রয়েছে তেমনি স্বতন্ত্রপ্রার্থী নৌকার জন্য কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছে, ভোটের আগে আপাতত নৌকা প্রতীক ধরে রাখাই প্রার্থীর জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেননা ইতোমধ্যে জাতীয় পার্টির শীর্ষ মহল ৩০-৪০ টি আসনে সমঝোতা চেয়েছে। অর্থাৎ তাদের চাওয়া আসন গুলোতে যেন নৌকার প্রার্থী না থাকে। বিএনপি এখনো মনে করে তত্তাবধায়ক সরকার গঠনের মাধ্যমে পূন তফসিল ঘোষনা করে নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে সেই আশায় রাজপথে আন্দোলনে রয়েছে। কিন্তু বিএনপির সেই আশা কি আদৌ পুরণ হবে। তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।  

 

এদিকে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী দলগুলো আপাতত আলাদা প্রার্থী দিলেও শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের শরিক ও সমমনা দলগুলোর সঙ্গে আসন সমঝোতা করেই নির্বাচন হতে পারে। এমনকি সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সঙ্গেও আসন ভাগাভাগি করে হতে পারে নির্বাচন। এমনটাই গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। যদিও জাতীয় পার্টি বলছে তারা সাবালোক।

 

নির্বাচনের মাধ্যমে নিজেরা ক্ষমতায় আসতে চায়। এছাড়া তারা নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনে জাতীয় পার্টি প্রার্থী ঘোষনা করেছে। বিপরীতে আওয়ামী লীগ ৪ টি আসনে নৌকার প্রার্থী ঘোষনা করেছে। এখানে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে নৌকার প্রতীকে মনোনীত হয়েছে সাবেক সাংসদ আব্দুল্লাহ আল কায়সার হাসনাত। এছাড়া নৌকার প্রার্থীর স্ত্রী রুবিয়া সুলতানা স্বতন্ত্রপ্রার্থী হয়েছে।

 

অপরদিকে নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ) আসনে একাধিক স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে বেশ কিছু সমীকরণ রয়েছে। সেসকল সমীকরণ পর্যালোচনা করলে দেখা যায় নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ) আসনে টানা দ্বিতীয় বারের মত জাতীয় পার্টি ছাড় দেয়ার পর তৃতীয়বারে নৌকার মনোনীত প্রার্থী দেয়া হয়। কিন্তু নৌকার মনোনীত প্রার্থী দেয়া হলেও নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ) আসনে জাতীয় পার্টি জোটের হিসেবে এখনো এই আসনটিকে নজরে রেখেছে।

 

যার কারণে জোট হলে আসনটিতে নৌকার প্রার্থীকে সড়িয়ে নেয়া হতে পারে। আর এতে করে কপাল পুড়তে পারে নৌকার প্রার্থী কায়সার হাসনাতের। কিন্তু ডামি প্রার্থী হিসেবে তার স্ত্রীকে রেখেছেন। তবে ডামি প্রার্থী হিসেবে সুকৌশলে একাধিক স্বতন্ত্র প্রার্থীর কারণে নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ) আসনে জাপার সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হলেও ভোটের সমীকরণে জাতীয় পার্টির রাস্তা ফাঁকা থাকবে।

 

জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের ডামি প্রার্থী বেশি থাকায় জাতীয় পার্টির প্রার্থী লিয়াকত হোসেন খোকাও সহজে ছাড় পাচ্ছে না। এখানে আওয়ামী লীগ থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য এরফান হোসেন দীপ, আরেক সদস্য মারুফুল ইসলাম ঝলক, এম এইচ মাসুদ দুলাল, সাবেক সাংসদ কায়সার হাসনাতের স্ত্রী রুবিয়া সুলতানা।

 

সূত্র জানায়, বর্তমান একাদশ জাতীয় সংসদে বিরোধী দল জাতীয় পার্টিসহ সরকারের শরিক দলগুলোর ৩২ জন সদস্য রয়েছেন। এসব আসনে সবাইকে বহাল রেখেই দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে আরও বেশি আসন দাবি করছে দলগুলো। তার মাঝে নারায়ণগঞ্জ-৩ এবং নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনটিও রয়েছে। যদিও নারায়ণগঞ্জ-৫ সদর বন্দর আসনে নৌকার প্রার্থী দেয়া হয় নাই। তাই নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনেও লিয়াকত হোসেন খোকাও অপেক্ষায় রয়েছে এখানে যেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী সরিয়ে নেয়া হয়।

 

তাছাড়া তিনি পাশা পাশি মাঠে ঘাটে মানুষের সাথে দেখা করে ভোট চাইতে বাকি রাখেন নাই। বিপরীতে কায়সার হাসনাতও বসে নেই। তিনি আওয়ামী লীগকে ঐক্য করে যাচ্ছে। যদিও স্বতন্ত্রপ্রার্থীরা তার গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে এখানকার নৌকার প্রার্থী অনেকটা উদ্বেগ উৎকন্ঠার মাঝে রয়েছে। কিন্তু সব কিছু পরিষ্কার হয়ে যাবে ১৭ ডেিসম্বর প্রত্যাহারের শেষ দিন। এস.এ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন