৪৩ দিন পর আবার রাজপথে জমায়েত হবে বিএনপি
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ১০ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৯:১৮ পিএম
বাংলাদেশ জাতীয়বাদী দল বিএনপি দফায় দফায় দ্বাদশ জাতীয় সাংসদ নির্বাচনকে প্রত্যাখ্যান করে হরতাল-অবরোধের মতো কর্মসূচি দিয়ে আসছে দলটি। যাকে ঘিরে ইতিমধ্যে মামলার বেড়া জালে আটকে আছে দলটির নেতাকর্মীরা। বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মীদের দাবি, রাজপথে কোনভাবেই পুলিশ তাদের জমায়েত হতে দিচ্ছে না হলেই তাদের উপরে গুলি বর্ষন করছে ও যাকেই পাচ্ছে মামলা থাকুক আর না থাকুক গ্রেফতার করছে পুলিশ এমনটাই বলছে নেতাকর্মী। যার কারণে বিএনপির নেতাকর্মীরা আত্মগোপনে রয়েছেন আর তাতে করেই ঝটিকা মিছিলে সীমাবদ্ধ হয়ে রাজপথে কোন রকম দলীয় কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছে দলটি।
জানা গেছে, গত ২৮ অক্টোবরের পর বিএনপির নেতাকর্মীরা রাজপথে বড় আকারে জমায়েত হয়ে কর্মসূচি পালন করতে পারেনি। কিন্তু এবার দীর্ঘ দেড় মাস পর মানববন্ধনের নামে জমায়েত হচ্ছে বিএনপি। ২৮ অক্টোবরের পর আজকে ১০ ডিসেম্বর (রোববার) ঢাকাসহ সারা দেশের জেলা সদরে গুম-খুন হওয়া দলীয় নেতা-কর্মীদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মানববন্ধন করবে বিএনপি। তাদের সঙ্গে থাকবে সমমান দলগুলোও। কিন্তু বিএনপির একাধিক নেতাকর্মীরা বলছে, ১০ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবসকে কেন্দ্র করেই এই আয়োজন করেছেন বিএনপি।
এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামীকাল বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করবে দলটি। তাছাড়া সারা জেলার ন্যায় নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা থাকবে এই মানববন্ধন পালনে তা ছাড়া বিএনপির যে যে নেতাকর্মীরা হত্যা-গুম-গ্রেফতার হয়েছেন তাদের স্বজনরা ও সুধিজনেরা থাকবেন এই মানববন্ধনে। তাছাড়া গ্রেফতার এড়িয়ে বিএনপির একাধিক নেতাকর্মীরা ও থাকতে পারে বলছেন অনেকে। তাছাড়া দীর্ঘদিন পর মানববন্ধনে তারা একটা বড় জমায়েত হতে চায় আর নেতাকর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করতে চায়।
সূত্র মতে জানা গেছে, ২৮ অক্টোবরের ঘটনার পর থেকে গ্রেপ্তার আতঙ্কে আত্মগোপনে থাকা নেতা-কর্মীদের মাঠে চাঙ্গা করতেই বিএনপির এমন উদ্যোগ। জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ১০ ডিসেম্বর এবারের আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস সরকারবিরোধী আন্দোলনে থাকা দলগুলো বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। মানবাধিকার দিবসে মানববন্ধন কর্মসূচিকে ঘিরে ৪৩ দিন পর (২৮ অক্টোবর থেকে ১০ ডিসেম্বর) আবার দলের নেতা-কর্মীদের মাঠের জমায়েতে ফিরিয়ে আনাই বিএনপির লক্ষ্য। এর মাধ্যমে সরকার ও পুলিশের আচরণ কী হয়, সেটিও দেখা। এর ভিত্তিতেই পরবর্তী কর্মসূচি ঠিক হতে পারে।
ইতিমধ্যে গত মাসের ৩০ নভেম্বর মনোনয়ন দাখিলের সময় ও শেষ হয়ে গেছে, এমনকি যাচাই বাছাই করা ও শেষ এখন শুধু ১৭ ডিসেম্বরের দিকে তাকিয়ে আছে ক্ষমতাসীন দল ও নির্বাচনে অংশ নেওয়া দলের নেতাকর্মীরা তার পরই নির্বাচনী আমেজ শুরু হবে বলে জানা যাচ্ছে। বিএনপির একটি সুত্র বলছে, বিএনপি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে ১০ ডিসেম্বরের জন্য। নাটকীয় কিছু ঘটতে যাচ্ছে কি না এমন ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।
কিন্তু বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা ফেসবুকে নানা স্ট্যাটাস দিয়ে লিখছেন ১০ ডিসেম্বর দেখা হবে রাজপথে সকলেই চোখ রেখে দেখেন কি হয়। তাছাড়া ৭ জানুয়ারি নির্বাচন শেষ পর্যন্ত হবে কি না, তা নিয়েও বিএনপির কারও কারও মধ্যে নানা রকম সন্দেহ রয়েছে। অধীর আগ্রহে বিএনপি অপেক্ষা করছে, কিছু একটা ঘটবে। কিন্তু যেহেতু বর্তমানে বিএনপি নেতাকর্মীরা দীর্ঘদিন আত্মগোপনে রয়েছে তাদের মনোবল চাঙ্গা করতেই আবারো জমায়েত হওয়ার আকাঙ্ক্ষা পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু কোন নাটকীয় হওয়ার আকাঙ্ক্ষা পাওয়া যাচ্ছে না। সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীরাই বলছে, আমরা শান্তিপূর্ন মানববন্ধন করতে চাই।
এ বিষয়ে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন খান যুগের চিন্তাকে বলেন, আগামীকাল ১০ ডিসেম্বরের জাতীয় মানবাধিকার দিবসে আমাদের কেন্দ্রীয়ভাবে মানববন্ধন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। মানববন্ধন পালনে আমাদের ব্যাপক প্রস্তুতি রয়েছে। এই কর্মসূচি পালন করতে আমরা পুলিশ প্রশাসনের সহযোগীতা কাম্য করছি।
আর এই মানববন্ধন কর্মসূচিতে আমাদের যারা নির্যাতিত নেতাকর্মীরা রয়েছে তাদের পরিবার ও স্বজনরা ও সেখানে উপস্থিত থাকবে। আমাদের আরো বেশ নেতাকর্মী সেখানে উপস্থিত হয়ে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করবে। আর যেহেতু জনসমর্থন দল মনে করি কর্মসূচি পালনে জনগণে বিশাল জমায়েত সৃষ্টি হতে পারে। কিন্তু সেখানে সকলই লক্ষ্য রাখবে যে কোন বিশৃঙ্খলা না হয়। শান্তিপূর্ণভাবেই মানববন্ধন পালিত হবে।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক খোকন যুগের চিন্তাকে বলেন, আগামী কাল আমরা জেলা ও মহানগর বিএনপি যৌথভাবে জাতীয় মানবাধিকার দিবসের সেই মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করবো। বর্তমানে আমরা সরকারে বিরুদ্ধে যে চলমান হরতাল-অবরোধ অবহৃত রেখিছি। সেদিন আমরা শান্তিপূর্ণভাবে মানববন্ধন পালন করবো। আর সরকার দলের নেতাকর্মীদের একটাই কাজ তারা কিভাবে আমাদের নেতাকর্মীদের উপরে হামলা চালিয়ে কর্মসূচি বাঞ্চাল করতে চায়। কিন্তু এই বার এমন কিছু হবে না বলে আমরা আশা করছি, আমরা আমাদের কর্মসূচি যথাযথভাবে পালন করবো। আর মামলাকৃত নেতারা না থাকলে ও জনগণ ধারাই এই মানববন্ধন সফল করবো।
জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি যুগের চিন্তাকে বলেন, আমরা যথাযথভাবেই দলীয় সকল কর্মসূচি পালন করে আসছি। এবার ও আত্মগোপনে থেকে হলেও এই দলীয় কর্মসূচি মানববন্ধন আমরা পালন করবোই। ইতিমধ্যে জেলা বিএনপি ও মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীদের সাথে আমাদের আলোচনা রয়েছে আমরা অঙ্গসংগঠন যেভাবে বিগত দিনে তাদের সাপোর্ট দিয়েছি এবার ও গ্রেফতার এড়িয়ে সহযোগীতা করবো। আমি মনে করছি হাজারো নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণ তাদের কষ্টের কথা এই মানববন্ধনে বলবে। এস.এ/জেসি


