নির্বাচনকে ঘিরে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে তোড়জোড় নেই
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ১০ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৯:২৬ পিএম
আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সারাদেশে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশের বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে। চিহ্নিত সন্ত্রাসী, অস্ত্র বিক্রেতা ও নির্বাচনে সহিংসতা চালাতে পারে এমন ব্যক্তিদের তালিকা ধরে চলবে এ অভিযান। গতকাল শনিবার (৯ ডিসেম্বর) এ অভিযান শুরু হয়েছে, চলবে আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। ২৩ দিনের টানা এ অভিযানে অধিক গুরুত্ব পাচ্ছে দেশের সীমান্তবর্তী অঞ্চল।
সীমান্ত হয়ে অবৈধ অস্ত্রের প্রবেশ রোধে নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে; গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো হচ্ছে অবৈধ অস্ত্র পাচারের রুটগুলোতে।রাজনীতির জন্য সবসময় উত্তপ্ত থাকা নারায়ণগঞ্জে এখনো অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে প্রশাসনের তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়নি। পুলিশ সদর দপ্তর গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশ নিয়মিত অভিযান করে থাকে।
নির্বাচনের আগে সন্ত্রাসীসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে যারা, তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান জোরদার করা হয়। নির্বাচনকে সামনে রেখে সারাদেশেই অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অভিযান জোরদার করতে বলা হয়েছে। এছাড়া তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এরই মধ্যে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে ৬৪ জেলার পুলিশ সুপারদের (এসপি) এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এ নির্দেশনায় একই সময়ে মাদক উদ্ধারের কথাও বলা হয়েছে।
নারায়নগঞ্জে সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য হিসেবে কুখ্যাতি রয়েছে। জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে পলাতক দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসীরাও এসময় সরব হয়।এছাড়া সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জে কিশোর গ্যাং ও বালু সন্ত্রাস ও ঝুট সেক্টরের বিভিন্ন সন্ত্রাসী গ্রুপের কাছে অবৈধ অস্ত্র থাকার বিষয়টি নানা সময় গণমাধ্যমে উঠে এসছে।
বিগত সময়ে বেশ কয়েকজন দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী নিহত হলেও তাদের অবৈধ অস্ত্রগুলোও বিভিন্ন সন্ত্রাসী গ্রুপের কাছে ভাড়ায় খাটছে বলে জানা গেছে। বিশেষ করে নিহত সন্ত্রাসীদের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড হিসেবে পরিচিতরা কেউ রাজনৈতিক লেবাস লাগিয়ে এসব অস্ত্র ভাড়ায় খাটাচ্ছে, কেউ নেপথ্যে থেকে কিশোর গ্যাং পরিচালনা করছে। এবার সেই সন্ত্রাসীরা সক্রিয় হয়ে উঠেছে আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে।
কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে বিভিন্ন মিছিল মিটিংয়ে সভা সমাবেশে দেখা মিলে নানা ধরণের অস্ত্রের মহড়া। নির্বাচনকে সামনে রেখে সক্রিয় রয়েছে চিহ্নিত সন্ত্রাসীরাও অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করছে। রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রছায়ায় থাকায় অনেক কিশোর গ্যাংয়ের হাতেও অবৈধ অস্ত্রের যোগান রয়েছে বলে জানা গেছে। বিশেষ করে, গোগনগর, ফতুল্লা, সিদ্ধিরগঞ্জ, রূপগঞ্জ, সোনারগাঁ ও আড়াইহাজার এলাকাগুলোতে বিভিন্ন গ্রুপ ও কিশোরগ্যাংয়ের হাতে বেশি দেখা মেলে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার।
ইতিপূর্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক সভা-সমাবেশে মিছিল মিটিংয়ে অনেককে অস্ত্র উচিয়ে ধরে হুংকার দিতে অথবা কোমড়ে অস্ত্র রেখে দেখিয়ে বেড়াচ্ছেন অনেকে। আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দেশে বৈধ-অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহারের আশঙ্কা রয়েছে।
সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে ‘দেশে বৈধ লাইসেন্সপ্রাপ্ত অস্ত্র রয়েছে ৫০ হাজার ৩১০টি। এর মধ্যে ব্যক্তির নামে ৪৫ হাজার ২২৬টি এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে ৫০ হাজার ৮৪টি। এসব বৈধ অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে একনলা, দোনলা বন্দুক, শটগান, পিস্তল, রিভলভার ও রাইফেল। এসব অস্ত্র ব্যবহারকারীর মধ্যে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও প্রতিষ্ঠান এমনকি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীও রয়েছেন।
অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের তৎপরতা প্রসঙ্গে জানতে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার গোলাম মোস্তাফা রাসেল এর মুঠো ফোনে একাধিক বার ফোন দিলেও তিনি ফোনটি রিসিভ করেনি।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার ডিবি তরিকুল ইসলাম এর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য পরে দেয়া হবে।
সম্প্রতি নির্বাচন উপলক্ষে বৈধ ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অভিযান পরিচালনায় পদক্ষেপ নিতে মঙ্গলবার লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন ন্যাশনাল ল’ইয়ার্স কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট এস এম জুলফিকার আলী জুনু। নোটিশে বলা হয়, সংসদ নির্বাচনে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার বৃদ্ধি পেতে পারে বলে বিশিষ্টজনরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাই দ্রুত বৈধ লাইসেন্সধারী অস্ত্র স্থানীয় থানায় জমাদানের বিশেষ নির্দেশনা ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অভিযান পরিচালনার জন্য বিশেষ নির্দেশনা দিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে (সিইসি) অনুরোধ জানানো হয়।
এব্যাপারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেছেন, ভোটের মাঠে কেউ বৈধ অস্ত্র প্রদর্শন করলেও নির্বাচনী কর্মকর্তারা ব্যবস্থা নেবেন। এস.এ/জেসি


