Logo
Logo
×

রাজনীতি

নির্বাচনী ক্লাসের ‘আদুভাই’ তৈমূর খন্দকার

Icon

ইউসুফ আলী এটম

প্রকাশ: ১১ ডিসেম্বর ২০২৩, ১১:১৫ পিএম

নির্বাচনী ক্লাসের ‘আদুভাই’ তৈমূর খন্দকার
Swapno

 

নারায়ণগঞ্জের আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলতেই বেশী স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন এড. তৈমূর আলম খন্দকার। হোক সেটা টিভি টকশো, সালিশী বৈঠক, জনসভা কিংবা আলোচনা সভা। সব আসরেই তিনি আঞ্চলিক ভাষা ব্যবহার করেন।

 

এমনকি একজন আইনজীবী হিসেবে এজলাসে যুক্তিতর্ক চলাকালেও তৈমূর আলম খন্দকার নারায়ণগইঞ্জা ভাষাতেই কথা বলেন। তার এই আঞ্চলিকতাপ্রীতি সবাই প্রাণভরে উপভোগ করেন। অনেক সময় হাসির খোরাক জোগালেও তিনি এই প্রশ্নে নাছোড়বান্দা।

 

বিএনপি থেকে বহিষ্কারের পর তৈমূর আলম খন্দকার দৈবক্রমে জাতীয় নেতার কাতারে উঠে এসেছেন। তিনি এখন তৃণমূল বিএনপির মহাসচিব পদে অধিষ্ঠিত।

 

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে তিনি তার জন্মস্থান নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসন থেকে তৃণমূল বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। গুঞ্জন রয়েছে, এ আসনটি তাকে ছেড়ে দেয়া হতে পারে। সরকারের উপর মহল থেকে এমন আশ্বাস পাওয়ার পরই নাকি তিনি তৃণমূল বিএনপিকে নির্বাচনে আনতে উৎসাহী হয়েছেন।

 

তফসিল ঘোষণার পর সরকারের পক্ষ থেকে তাকে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে তাগিদ দেয়া হয়েছিলো। এতে তিনি মনঃক্ষুণ্ন হন। এ নিয়ে তার একটি ভিডিও কথোপকথন ভাইরাল হওয়ার পর তিনি নারায়ণগঞ্জ-১ আসনেই মনোনয়নপত্র জমা দেন। ওই আসনে নৌকার প্রার্থী হয়েছেন সরকারের পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী গাজী গোলাম দস্তগীর।

 

উক্ত নির্বাচনী এলাকার ভোটারদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, এবার গাজীর অবস্থা সুবিধাজনক নয়। তার দলের বেশীরভাগ নেতাকর্মী তার ব্যাপারে উদাসীন। কারণ হিসেবে তারা বলেন, গাজী এবং তার ছেলের স্বেচ্ছাচারিতায় রূপগঞ্জবাসী ক্ষুব্ধ।

 

তফসিল ঘোষণার পর থেকেই তারা নতুন মুখের সন্ধানে ছিলেন। এলাকার সন্তান তৈমূর আলম খন্দকার প্রার্থী হওয়ায় ভোটাররা তার দিকেই ঝুঁকছেন বলে বিভিন্ন সূত্রের দাবি।

 

নারায়ণগঞ্জের আঞ্চলিক ভাষায় তৈমূরের খোলামেলা কথাবার্তা ভোটারদের আকৃষ্ট করছে। অপরদিকে রূপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান ভূঁইয়া এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় গাজীর ভোট ভাগ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

 

কিন্তু অতীত বলছে, তৈমূর আলম খন্দকারের নির্বাচনী রাশি ভালো নয়। তিনি যে কয়টি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন তার সবটিতেই নির্মমভাবে পরাজিত হয়েছেন।

 

২০১১ সালের ৩০ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রথম নির্বাচনে বিএনপি থেকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে শামীম ওসমান এবং ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। নির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলার এক পর্যায়ে তার নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশে নিজেকে কোরবানী দিয়ে আইভীকে সমর্থন জানিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। বিজয়ী হন ডা. আইভী।

 

দ্বিতীয়বার ২০২২ সালের ১৬ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে নিজ দলের বিরুদ্ধে গিয়ে মেয়র পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আইভীর কাছে শোচনীয় পরাজয় বরণ করেন। এ কারণে নির্বাচনী পরীক্ষায় তৈমূর আলম খন্দকার ‘আদুভাই’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন।

 

আবুল মনসুর আহমদের লেখা ‘আদুভাই’ গল্পটি যারা পড়েছেন তারা জেনে গেছেন, তিনি সারাজীবন ক্লাস সেভেনে পড়তেই ভালোবাসতেন। তার ক্লাসমেটরা একে একে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে চাকরি বাকরি করলেও তিনি ক্লাস সেভেন থেকে গেছেন। কিন্তু যে বছর তার ছেলে ক্লাস সেভেনে উঠলো তখন তার বোধোদয় হলো, এবার তাকে প্রমোশন নিতে হবে। এস.এ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন