Logo
Logo
×

রাজনীতি

নির্বাচন আসলে তৃণমূলের কদর বাড়ে

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ১২ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৭:৩৮ পিএম

নির্বাচন আসলে তৃণমূলের কদর বাড়ে
Swapno


# ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতা কর্মীদের ডেকে নির্বাচনী কমিটি করছে
আসন্ন দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হওয়ার পর থেকে নাারায়ণগঞ্জের আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা নড়েচড়ে বসেছে। নিজেদের নির্বাচনী মাঠ প্রস্তুত করতে ব্যস্ত রয়েছেন কৌশলী প্রচারণায়। এছাড়া আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা তৃনমুলের নেতা কর্মীদের নিয়ে কেন্দ্র ভিত্তিক নির্বাচনী পরিচালনা কমিটি গঠন করছেন।

 

 

একই সাথে ওয়ার্ড ভিত্তিক নেতা কর্মীদের নিয়ে বৈঠক করছেন। কেননা এবারের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি বাড়ানো আওয়ামী লীগের জন্য অন্যতম চ্যালেঞ্জ। আর এজন্য নিবার্চনকে ঘিরে আওয়ামী লীগের তৃণমূল পর্যায়ের নেতা কর্মীদের কদর বেড়েছে। তৃণমূলের কর্মীরাই বাড়ি বাড়ি গিয়ে নৌকার জন্য ভোট প্রার্থনা করে থাকেন। এমনকি নৌকার প্রার্থীকে জয়ী করার জন্য রাত দিন পরিশ্রম করে যায় তৃণমূলের নেতা কর্মীরা।

 

 

কিন্তু নির্বাচন শেষ হলে নৌকার প্রার্থীরা যখন এমপি হয়ে যান তখন তাদের অবদানের কথা ভুলে যান। এমনকি পরবর্তিতে তাদের তেমন ভাবে মূল্যায়ন করা হয় না বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে রাজনৈতিক সচেতন মহল বলছেন নির্বাচন আসলেই এই তৃনমুলের কদর বেড়ে যায়। কেননা তৃণমূল ছাড়া এমপি প্রার্থীরা জয়ের আশা করাটা কঠিন বিষয়।

 


এদিকে দলীয় সুত্রমতে জানা যায়, আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা শুধুমাত্র তারা দলের নেতাকর্মীদের না, ১৪ দলের সাথে বৈঠকেও একটি বার্তা দিয়েছেন। তা হলো যে এবার নির্বাচনে জয়ী হতে হবে নিজের যোগ্যতায়। কাউকে জিতিয়ে দেওয়া হবে বা সমঝোতা করে কাউকে পার করে আনা হবে এমন কাজ তিনি করবেন না।

 

 

এ রকম যদি কেউ স্বপ্ন দেখে থাকে তাহলে তারা ভুল করছেন। দলে যারা এমপি মনোনয়ন পেয়েছেন তাদেরকেও এই বার্তা আওয়ামী লীগ সভাপতির পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে। এখন আবার নতুন করে তাদেরকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। তারা যেন শুধুমাত্র জনগণের ভোটের জন্য চেষ্টা ছাড়া অন্য উপায়ে জয়ী হওয়ার চেষ্টা না করেন।

 

 

আর এই চেষ্টা করলে তার ফল ভাল হবে না বলেও আওয়ামী লীগ সভাপতির পক্ষ থেকে সতর্কবার্তা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাই নারায়ণগঞ্জের নৌকার প্রার্থীরা আসন্ন নির্বাচনে সহজে জয় পাচ্ছে না বলে দলের মাঝে আলোচনা হচ্ছে।

 


জানাযায়, আগামী বছরের ৭ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন ভোট গ্রহনের তারিখ নির্ধারণ করেছে। ওই দিন ভোটাররা ভোটের মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থীকে বেছে নিবেন। তাই এখন থেকে তোর জোর করে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের নৌকার প্রার্থী এমপি শামীম ওসমান কৌশলী ভাবে মাঠে প্রচার প্রচারণায় থেকে কেন্দ্র ভিত্তিক নির্বাচনী পরিচালনা কমিটি গঠন করে যাচ্ছেন।

 

 

একই সাথে তার নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ডে নির্বাচনী ক্যাম্প ্উদ্বোধন করা হচ্ছে। দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ জানান ফতুল্লার বিভিন্ন এলাকায় নৌকার ক্যাম্প উদ্বোধন করা হয়েছে। এছাড়া সিদ্ধিরগঞ্জেও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের প্রার্থী শামীম ওসমানের বিশেষ নজর রয়েছে।

 

 

ইতোমধ্যে তিনি ফতুল্লা সিদ্ধিরগঞ্জে বিশাল আকারে শোডাউন করে জানান দিয়েছেন আসন্ন নির্বাচনে যেন তাকে নৌকায় ভোট দিয়ে নির্বাচিত করা হয়। তবে নিরব ভোট নিয়ে অনেকটা ভয়ে রয়েছেন।

 


অপরদিকে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে নৌকার প্রার্থী দেয়া হয় নাই। এখানে নৌকার প্রার্থী না দেয়ায় জেলা মহানগরের শীর্ষ নেতারা বুক ভরা চাপা কষ্ট নিয়ে এখন বেকার সময় পার করছেন। কিন্তু ্এই আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী সেলিম ওসমান লাঙল প্রতীক নিয়ে প্রার্থী হয়েছেন।

 

 

এখানে টানা দ্বতীয় বার সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেও এই সাংসদ জাতীয় পার্টিকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করতে পারেন নাই। ঘুরে ফিরে তাকেই আওয়ামী লীগের উপরই নির্ভর করতে হচ্ছে। কেনান বিগত নির্বাচনেও তিনি আওয়ামী লীগের উপর ভর করে নির্বাচিত হয়েছেন খোদ ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতারা বলে আসছে।

 


দলীয় সুত্র বলছে, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনটি সদর বন্দর নিয়ে গঠিত হওয়ায় এই এলাকাটি গুরুত্বপূর্ণ জোন হিসেবে পরিচিত। সেলিম ওসমানের বিপক্ষে তেমন কোন শক্তিশালী প্রার্থী না থাকলেও তিনি বন্দরের আওয়ামী লীগের তৃনমুল ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতা কর্মীদের নিয়ে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করছেন।

 

 

যাতে করে তার জয় পেতে কোন ব্যাগ পেতে না হয়। সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের হেভিওয়েট প্রার্থী বন্দরের বিভিন্ন এলাকার ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতা কর্মীদের নিয়ে কমিটি গঠন করছেন।

 


রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছে যে কোন সংগঠনের মূল শক্তি হলো তৃণমূল। কেননা তৃনমূল পর্যায়ের নেতা কর্মীরাই মানুষের কাছে গিয়ে ভোট চেয়ে যাচ্ছে। সেই সাথে এবারের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি বাড়ানোর জন্য এই তৃণমূলকেই কাজ করতে হবে।

 

 

তাই এখন এমপিরা তৃনমূলকে বাদ দিয়ে অন্য কিছু করে পার পাবে তা চিন্তা করতে পারছে না। এজন্য তৃণমূলের নেতা কর্মীদের কদর বেড়েছে। কিন্তু নির্বাচন চলে গেলে তাদের এই কদ থাকে না বলে অভিযোগ রয়েছে। তাই রাজনৈতিক সচেতন মহল মনে করেন নির্বাচন আসলেই তৃণমূলের কদর বাড়ে।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন