Logo
Logo
×

রাজনীতি

আসন ভাগাভাগিতে ঝুলছে খোকা-কায়সারের ভাগ্য

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ১২ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৮:১২ পিএম

আসন ভাগাভাগিতে ঝুলছে খোকা-কায়সারের ভাগ্য
Swapno

 

নির্বাচনে আওয়ামী লীগের শরিক মিত্রদের আসন ভাগাভাগিকে শ্যাম রাখি না কুল রাখি অবস্থা বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, সব শরীক চায় নৌকা। মুখে বলছে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন; কিন্তু সবই তো নৌকা প্রতীকের মাঝি হতে চায় শরীকরা। তাছাড়া নির্বাচন ঘিরে জাতীয় পার্টি ৩০ থেকে ৪০ টি আসনে নৌকার প্রার্থী প্রত্যাহার চান এমন আলোচনা উঠেছে রাজনৈতিক অঙ্গনে।

 

যদিও জাতীয় পার্টির মহাসচিব বলছে তারা এখন সাবালক। এজন্য আসন্ন নির্বাচনে তারা সরকার গঠন করতে চায়। কিন্তু রাজনীতিবিদদের মাঝে আলোচনা হচ্ছে গোপনে আওয়ামী লীগের সাথে আলোচনা করে তাদের চাওয়া আসন গুলোতে জয়ের ব্যাপারে কিংবা ওই আসন গুলোতে যেন নৌকার প্রার্থী না থাকে তা বলা হচ্ছে। কিন্তু তাদের এই কথা কতটুকু টিকবে ১৭ ডিসেম্বরের প্রত্যাহার শেষ হলেই পরিষ্কার হবে।

 

এদিকে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনীত নৌকার প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবাদুল্লাহ আল কায়সার হাসনাত। বিপরীতে এই আসনে বর্তমান জাতীয় পার্টির বর্তমান এমপি লিয়াকত হোসেন খোকায় লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে প্রার্থী হয়েছেন। দুজনেই পুরোদমে বিভিন্ন এলাকায় মানুষের সাথে দেখা করে কথা বলছেন।

কিন্তু নারায়গগঞ্জ-৩ আসনের জাতীয় পার্টির প্রার্থী এমপি খোকার সমর্থকরা মনে করছেন এখানে আওয়ামী লীগের প্রার্থী প্রত্যাহার করা হবে। আগের মত তারা সহজে জয় পেয়ে যাবেন। কিন্তু এখানে নৌকার প্রার্থী যদি দলীয় সিদ্ধান্তের কারনে প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেন তারপরেও লাঙলের প্রার্থীর গলার কাটা থাকবে। কেননা এখানে নৌকার প্রার্থী কায়সার হাসনাতের স্ত্রী রুবিয়া সুলতানা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছে। তাছাড়া বিএনপির নেতার মন্তব্য অনুযায়ী নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনেও আসন ভাগাভাগিকে শ্যাম রাখি না কুল রাখি অবস্থায় ঝুলে রয়েছে।

 

অপরদিকে আওয়ামী লীগের শরীক দল নৌকার বিপরীতে প্রার্থী দেওয়ার জন্য ১৪ দলের শরিকরা প্রস্তাব দিয়েছেন, কিন্তু ১৪ দলের যে সকল প্রার্থী তাদের নিজ থানায় বসবাস করেন সেই থানাতেই কমিটি নেই। এলাকায় তাদের জনপ্রিয়তা নেই বললেই চলে। সাংগঠনিক অবস্থাও দুর্বল, এমনকি তাদের জন্য পরিচিতি নেই। যা নিয়ে আওয়ামী লীগ বিপাকে রয়েছে।

 

এছাড়া দলীয় সুত্র বলছে, শেখ হাসিনা গত দুই বছর ধরে সারা দেশে নির্বাচন নিয়ে লাগাতার জরিপ করেছেন। শুধুমাত্র যে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে জরিপ করা হয়েছে তা নয়, আন্তর্জাতিক খ্যাতিমান বিভিন্ন জরিপকারী প্রতিষ্ঠানকেও এই কাজে নিয়োগ করেছিলেন। প্রতিটি নির্বাচনী আসনে কারা কারা জনপ্রিয়, কারা কারা প্রার্থী হতে পারেন, কাদের কী অবস্থান; তা আওয়ামী লীগ সভাপতির নখদর্পণে। শরিকরা যে আসনগুলো চাচ্ছে সেই আসনে যাদের নাম দেওয়া হচ্ছে তাদের অবস্থান কি।

 

দলীয় সুত্র বলছে, জাতীয় পার্টি যে আসনগুলি চেয়েছিল সেই আসনের মধ্যে বিচার বিশ্লেষণ করেও আওয়ামী লীগ দেখেছে যে, ১০ থেকে ১২টি আসনের বেশি আসনে জাতীয় পার্টির জনপ্রিয়তা নেই এবং জয়ের সম্ভাবনাও নেই। তবুও আওয়ামী লীগ জাতীয় পার্টিকে রাখার স্বার্থে এবার নির্বাচনে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করবে।

 

গত নির্বাচনে জাতীয় পার্টিকে ৪১টি আসন ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। এবারও জাতীয় পার্টিকে ৪১টি আসনই ছেড়ে দেওয়ার জন্য প্রস্তাব দিয়েছেন। তবে কয়েকটি আসন নিয়ে এখনও জটিলতা রয়েছে। এই আসনগুলোর ব্যাপারে আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারকরা অনড় অবস্থান গ্রহণ করেছেন। জাতীয় পার্টির থেকে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী এমপি খোকার সমর্থরা সেই সমঝোতার অপেক্ষায় প্রহরগুনছে বলে জানান। এস.এ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন