কী কারণে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে আওয়ামী লীগ তথা নৌকার প্রার্থী রাখা হয়নি তা ইতোমধ্যেই জেনে গেছেন নারায়ণগঞ্জবাসী। অতীতের মতো এই আসনটি জাতীয় পার্টি তথা লাঙ্গল মার্কার জন্য বুক করে রাখা হয়েছে, তা বুঝতে কারো অসুবিধে হচ্ছে না। বরাবরের মতো এবারও এই আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হয়েছেন সেলিম ওসমান। তিনি ওসমান পরিবারের সন্তান। আর ওসমান পরিবারের ভালোমন্দ দেখার দায়িত্ব খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার নিজের কাঁধে বহন করছেন বলে স্বীকার করেছেন।
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে ওসমান পরিবারের আরেক সদস্য সেলিম ওসমানের ছোটভাই শামীম ওসমানকেও শক্ত কোন প্রতিদ্বন্দ্বির মুখে পড়তে হচ্ছে না। তফসিল ঘোষণার পর যদিও একজন এই আসনে মনোনয়ন নেয়ার জন্য লাফালাফি করছিলেন সেই পলাশও ক্রাশ খেয়ে অন্দরমহলে লুকিয়েছেন। ফলে দুইভাই এখন ফাঁকা মাঠে গোল করার অপেক্ষায় আছেন।
তবে জেলা এবং মহানগর আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতাকর্মীই সেলিম ওসমানকে মেনে নিতে পারছেন না। তাদের অভিযোগ সেলিম ওসমান লাঙ্গলমার্কা আওয়ামী লীগ করেন। তিনি চরম সুবিধাবাদী। দুই পা দুই দলে রেখে দুইদিকের ফায়দাই লুটছেন। তার এই দ্বৈত ভূমিকার কারণে বন্দর ও সদরে আওয়ামী লীগ সাংগঠনিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ছে। নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগের জন্ম হলেও ওসমানদের কারণে এখানে লাঙ্গলমার্কা আওয়ামী লীগ গজিয়ে উঠেছে।

এতে আওয়ামী লীগে বিভক্তি দেখা দিয়েছে। চেইন অব কমান্ড ভোঁতা হয়ে গেছে। কেউ প্রকাশ্যে আবার কেউ গোপনে লাঙ্গল মার্কার হয়ে কাজ করছেন। তারা আরো অভিযোগ করেন, সেলিম ওসমান দু’হাত খুলে টাকা বিলিয়ে আওয়ামী লীগে কোন্দল লাগাচ্ছেন। সম্প্রতি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে সেলিম ওসমান একটি সভা করেছেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব আনোয়ার হোসেন বলেই ফেলেছেন, ‘ঐটা তো লাঙ্গলমার্কা আওয়ামী লীগের সভা।’
জেলা আওয়ামী লীগের একজন সদস্যের মতে, লাঙ্গলমার্কা আওয়ামী লীগে ঘেঁষলেই মধুর আস্বাদ নেয়া যায়। সেলিম ওসমান দিলখোস মানুষ। তিনি হাতখুলে দান করতে ভালোবাসেন। তার দানের ভান্ডার অনেক বড়। মানুষ তো তার কাছেই ভিড় জমাবে। তিনি তো দল খুঁজে দান করেন না।
ভোটেরদিন আওয়ামী লীগের অনেকেই কেন্দ্রে যেতে আগ্রহী নন বলে বিশ্বস্ত সূত্রের দাবি। এ বিষয়ে তাদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, আওয়ামী লীগ করে যদি নৌকাতেই ভোট দিতে পারা না যায়, তবে আর কেন্দ্রে গিয়ে লাভ কি! এস.এ/জেসি


