নির্বাচনী মাঠে ইতোমধ্যেই ‘আদুভাই’ হিসেবে পরিচিতি পাওয়া এড. তৈমূর আলম খন্দকারের বরাতে আরেকটি নতুন খেতাব জুটতে যাচ্ছে। বিএনপি এবং আওয়ামী লীগের নেতারা তার ললাটে চাপাবাজের তকমা লেপ্টে দিয়ে বলছেন, বাস্তবিক অর্থেই তৈমূর একজন চাপাবাজ। তার চাপায় অনেক জোর। তিনি মুখে মুখে ‘এই করেঙ্গা সেই করেঙ্গা’ বললেও বাস্তবে কিছুই করে দেখাতে পারেন না কিংবা পারছেন না।
তাদের মতে; দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের পূর্বমুহূর্ত্বে তিনি তৃণমূল বিএনপিতে যোগ দিয়েই চাপার জোরে মহাসচিবের পদটি বাগিয়ে নেন। এরপর সরকারের উপরমহলে নিয়মিত যোগাযোগ করে চাপার বিদ্যা ঝারতে থাকেন। নির্বাচনীকাজে যুক্ত সংশ্লিষ্টদের বুঝাতে সক্ষম হয়েছেন যে, তৃণমূলের সভাপতি শমসের মবিন চৌধুরী এবং তিনি দীর্ঘদিন বিএনপি রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন বিধায় বিএনপির অনেক নেতাকর্মীর সাথেই তাদের সুসম্পর্ক রয়েছে।
বিএনপির অনেক জাঁদরেল নেতাই তৃণমূলে যোগ দিয়ে নির্বাচন করবেন। এতে বিএনপির ভোটব্যাংকে হানা দেয়া সহজ হবে। কারণ ওই নেতারা বিএনপির ভোট টানবেন। ৩শ’ আসনে প্রার্থী দিয়ে তারাই হবেন সংসদে প্রধান বিরোধী দল। তার এই চাপাবাজিতে ধরাশায়ী হন আওয়ামী লীগের নির্বাচন কাজে যুক্ত মহল। শেষ মেস তিনি চাপার জোরে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ লাভেও সমর্থ হন।

মনোনয়নপত্র জমা দেয়া এবং প্রার্থীতা বাছাইয়ের পর নির্বাচনী মাঠের সার্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ শেষে আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্টমহলে হতাশা নেমে আসে। তৈমূরের চাপাবাজি ধরা পড়ে যায়। বিএনপির নামকরা কোন নেতাকেই তৃণমূলে যোগদান করাতে ব্যর্থ হন তৈমূরগং। আর যাদেরকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে, তাদের বেশীরভাগই এলাকার অপরিচিতমুখ। ভোটাররা অনেকের নামও শোনেননি। তৃণমূল বিএনপির নির্বাচনী প্রতীক নিয়েও প্রার্থীরা শঙ্কিত।
ভোটারদের কাছে ‘সোনালী আঁশ’ প্রতীকটি সম্পূর্ণ নতুন। প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দল জাসদের হাসানুল হক ইনু এবং ওয়ার্কার্স পার্টির রাশেদ খান মেননের মতো জাঁদরেল নেতারাও পরাজয়ের ভয়ে যখন নিজেদের দলীয় প্রতীক বাদ দিয়ে নৌকায় ওঠেন তখন তৃণমূল কোন ভরসায় এমন রিস্ক নিতে গেলো তা বোধগম্য নয়। ভোটগ্রহণ যদি অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু হয় তবে কারোরই জামানত থাকবে না।
এখন দেখার পালা, তৈমূর আলম খন্দকার এবং শমসের মবিন চৌধুরীর ভাগ্যে কী ঘটতে যাচ্ছে! এই দু’জনও যদি নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে না পারেন, তবে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। এরা এখন সরকারের করুণার পাত্রে পরিণত হয়েছেন। তাদের পাশ-ফেল সরকারের ইচ্ছের ওপরই নির্ভর করছে। সরকার তাদেরকে নিজেদের চাহিদা মতো ব্যবহার করতে পারেনি। তবে যতটুকুই হয়েছে তাও কম কিছু নয় বলে মনে করেন বোদ্ধামহল। এস.এ/জেসি


