আসন্ন জাতীয় দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের আগামী ১৭ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। নির্বাচনে কারা থাকছে, কারা থাকছেন না তা পরিষ্কার হবে ১৭ ডিসেম্বরের মধ্যে। তবে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি এবং ১৪ দলের সমীকরণ কি দাঁড়াবে তা বোঝা যাবে ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যেই। কারণ এখন পর্যন্ত জাতীয় পার্টি তাদের প্রার্থীদেরকে প্রতীক বরাদ্দ করেনি।
১৭ ডিসেম্বরের মধ্যেই প্রতীক বরাদ্দের চিঠি স্ব স্ব নির্বাচনী কার্যালয়ে পৌঁছতে হবে। এ কারণে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে চূড়ান্ত ভাবে ফয়সালা হবে নির্বাচনী রাজনীতির মেরুকরণ। নির্বাচনের মাঠে কে থাকছে আর কে থাকছে না। তবে জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ চিঠি ইস্যু না করায় তারাও আতঙ্কে রয়েছে। কি হতে যাচ্ছে তা নিয়ে এখনো জল্পনা কল্পনা চলছে। এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিরোধী দলের নেত্রী ও জাতীয় পার্টির নিতি নির্ধারক রওশন এরশাদ জাতীয় পার্টির সঙ্গে মহাজোট না করার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করেন।
একই সাথে জাতীয় পার্টির সঙ্গে যেন আওয়ামী লীগ আসন ভাগাভাগি না করে সেজন্য আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ করেন। আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অবশ্য তাদের এই মতামতের ব্যাপারে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেননি। তাছাড়া জাতীয় পার্টি ৪১ টি আসন আওয়ামী লীগ যেন তাদের ছেড়ে দেয়া কিংবা জাপার দেয়া প্রস্তাবিত প্রার্থীদের আসেন নৌকার প্রার্থী না রাখা হয়। তাছাড়া স্বতন্ত্রপ্রার্থী নিয়ে জাপা বেকায়দায় রয়েছে। তবে নারায়ণগঞ্জের ক্ষেত্রে ভিন্ন।
খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনের মাঝে ৪টিতেই জাতীয় পার্টির প্রার্থী রয়েছে। তার মাঝে নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে জাপার কোন প্রার্থী না থাকলেও নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে জাতীয় পার্টির হিসেবে রয়েছেন আলমগীর শিকদার লোটন। এই আসনে আওয়ামী লীগের তিনবারের এমপি হিসেবে নজরুল ইসলাম বাবু চতুর্থবারের মত প্রার্থী হয়ে মাঠে রয়েছেন। তবে এখানে জাপার প্রাথী লোটন নৌকার প্রার্থীর বাবুর চেয়ে রাজনীতিতে সিনিয়র হলেও এখন আগের মত দাপট নেই লোটনের।
নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে রয়েছেন টানা দুইবারের বর্তমান এমপি লিয়াকত হোসেন খোকা। তাকে ঠেকাতে এবারের নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী হয়ে সাবেক সাংসদ কায়সার হাসনাত মাঠে রয়েছেন। এখানে আওয়ামী লীগ থেকে স্বতন্ত্রপ্রার্থীও রয়েছেন। নৌকা স্বতন্ত্র নিয়ে বেকায়দায় রয়েছে জাপার প্রার্থী। নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনের মাঝে এই আসনে সবচেয়ে বেশি জটিল সমীকরণ তৈরী হয়ে রয়েছে। তবে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে নৌকার প্রার্থী শামীম ওসমানের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মত কোন জাতীয় পার্টি থেকে শক্তিশালী প্রার্থী নেই।
কিন্তু এই আসনে জাতীয় পার্টির দুর্বল প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন সালাউদ্দিন খোকা মোল্লা। তবে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে নৌকার প্রার্থী না থাকায় জাতীয় পার্টি থেকে মনোনীত হয়ে প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন টানা দুই বারের এমপি সেলিম ওসমান। তৃতীয় বার এমপি হওয়ার জন্য তিনিই এই আসনে সহজ জয়ের পথে রয়েছেন তিনি। কেননা তার বিপক্ষে তেমন কোন শক্তিশালী প্রার্থী নেই। যার প্রার্থী হয়েছেন তারা মেম্বার নির্বাচনে পাশ করবেন কি না তা নিয়ে শংসয় রয়েছে।
অপরদিকে রওশন এরশাদ ও জি এম কাদেরের দ্বন্দ নিয়ে নারায়ণগঞ্জের জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা কোন দিকে যাবে তা এখনো কাটিয়ে উঠতে পারে না তারা নিজেরাই। কেননা ২০১৪ সনের নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে লিয়াকত হোসেন খোকা ও উপনির্বাচনে সেলিম ওসমান রওশন এরশাদের নেতৃত্বে সংসদ সদস্য হন। আসন্ন দ্বাদশ নির্বাচনের মতই দশম নির্বাচনের অবস্থা হয়েছিল ২০১৪ সনের নির্বাচনে। তখন সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ নির্বাচন বয়কট করলেও তার স্ত্রী রওশন এরশাদ নির্বাচনে অংশ গ্রহন করেন। তাছাড়া আগামী ৪৮ ঘন্টা কি হবে তা নিয়েও তারা শংসয় রয়েছে।
দলীয়সুত্র বলছে, জাতীয় পার্টির আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে থাকবে কি থাকবে না, তা এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। জাতীয় পার্টি যে ২৮৭ জন প্রার্থীদের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে তাদেরকে প্রতীক বরাদ্দ করা হয়নি। প্রতীক বরাদ্দের চিঠি আছে জিএম কাদেরের কাছে। জিএম কাদেরের জন্য এবার নির্বাচন প্রত্যাহারের বিষয়টি খুব সহজ।
তিনি যদি শুধুমাত্র চিঠিটি প্রার্থীদের হাতে না দেন তাহলে জাতীয় পার্টি আগামী নির্বাচনে থাকবে না। জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু বলেছেন, জাতীয় পার্টির যারা প্রার্থী হচ্ছেন তাদেরকে প্রতীক বরাদ্দের চিঠি দেওয়া হবে। এই ৪৮ ঘণ্টা সময়ের মধ্যে নানামুখী তৎপরতা চলছে। জাতীয় পার্টিকে নির্বাচনে আনার জন্য যেমন কেউ কেউ চেষ্টা করছেন, তেমনই জাতীয় পার্টিকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখার জন্য অনেকের অন্তহীন প্রচেষ্টা ক্রমশ দৃশ্যমান হচ্ছে। এই ‘টাগ অফ ওয়ারে’ কারা জয়ী হয় সেটাই দেখার বিষয়।
অনেকে মনে করছেন যে জাতীয় পার্টির নির্বাচনে থাকা না থাকার ওপর এবারের নির্বাচনে অনেক কিছুই নির্ভর করছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই সবকিছু পরিষ্কার হবে। বোঝা যাবে কি হচ্ছে নির্বাচনের। কেননা ১৭ ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় পার্টির প্রতীক বরাদ্দের চিঠি দিতে হবে। এছাড়া একই দিনে প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। তা ওই দিন কি হচ্ছে সেদিকে তাকিয়ে রয়েছে জাপার প্রার্থীরা। তাদের ভাগ্যও এই দুদিনের মাঝে পরিষ্কার হবে। এস.এ/জেসি


