আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে জাতীয় পার্টিকে বিশ্বাস করা নিয়ে সন্দিহান। নির্বাচনে জাতীয় পার্টি তাদের ৩৫ থেকে ৪০টি প্রার্থী জয়ের ব্যাপারে নিশ্চয়তা চেয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থীতা প্রত্যাহার করার জন্য প্রস্তাব দিয়েছে।
কিন্তু তাদের এই প্রস্তাবে আওয়ামী লীগ কোন সমঝোতার সিদ্ধান্ত না জানিয়ে উল্টো স্বতন্ত্রপ্রার্থীদের যেন কোন রকম বাধা দেয়া না হয় জানান। তবে আর মাত্র কয়েক দিন পরেই সকল এমপি প্রার্থীরা প্রচারনায় নামতে যাচ্ছেন। যদিও জাতীয় পার্টি আশায় রয়েছে আসন ভাগাভাগি নিয়ে আওয়ামী লীগের সাথে একটা সমঝোতা হবে। কিন্তু তাদের সেই আশার বালিতে কালো ঝড় বইছে।
দলীয় সুত্রমতে, বৃহত্তর রংপুরের ১০ থেকে ১২টি ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ আসন বাদে আর কোথাও ভোটে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার শক্তি নেই জাপার। ঢাকা-৪ আসনে সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এবং নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে লিয়াকত হোসেন খোকা ছাড়া জাপার বাকি এমপিরা আওয়ামী লীগের কর্মসূচিতে সমর্থন দিতে পারেনি। এলাকায় ও রাজপথে শক্তি দেখাতে পারেননি। জাপার কো-চেয়ারম্যানদের অবস্থাও নড়বড়ে। কেউ কেউ চার-পাঁচবার এমপি হলেও জামানত রক্ষার ভোট নেই।
তাদের জন্য আসন ছাড়তে রাজি নয় আওয়ামী লীগ। এতেই আসন সমঝোতা ঝুলে যাচ্ছে। তাছাড়া নারায়ণগঞ্জের ২ টি আসনে জাতীয় পার্টি শক্তিশালী প্রার্থী দিতে পেরেছে। তার মাঝে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে সেলিম ওসমান জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচরে মাঠে রয়েছে। নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী লিয়াকত হোসেন খোকা থাকলেও তাকে ঠেকাতে মাঠে রয়েছে সাবেক সাংসদ কায়সার হাসনাত। এছাড়া এখানে আওয়ামী লীগের একাধিক স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন।
তাছাড়া নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী শামীম ওসমানের বিপক্ষে জাপার প্রার্থী সালাউদ্দিন খোকা মোল্লা এবং নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী নজরুল ইসলাম বাবুর বিপক্ষে জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য আলমগীর শিকদার লোটন মাঠে রয়েছে। কিন্তু তার আগের মত রাজনৈতিক প্রভাব না থাকায় তিনি এখন দুর্বল হয়ে রয়েছেন। জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে এমপি খোকা অনেকটা বেকায় রয়েছেন। তবে ১৭ ডিসেম্বর আসন সমাঝোতার সিদ্ধান্ত হলে তিনি বীরদর্পে মাঠে থাকবেন।
এদিকে আসন সমঝোতার কথা অস্বীকার করলেও আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ দুই দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা গতকাল মঙ্গলবার রাতেও গুলশানের একটি বাড়িতে বৈঠক করেন। কী আলোচনা হয়েছে, জানাননি তারা। তবে বৈঠক সূত্র জানিয়েছে, সমঝোতা এবং আসন বণ্টনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। নৌকা ও ‘আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী’ সরিয়ে ৪১ আসন ছাড়লেই সন্তুষ্ট জাপা। স্বতন্ত্রের বিরুদ্ধে লড়তে হলে তারা চাইছে অন্তত ৬০ আসন। তবে এত আসন ছাড়তে নারাজ ক্ষমতাসীনরা উল্টো জাপাকে রেখেছে পাল্টা চাপে।
জাপা সূত্রে বলছে, আসন সমঝোতা নিয়ে অসন্তোষ বা অন্য কোনো কারণে জাপা চেয়ারম্যান জি এম কাদের সরে গেলেও রওশনের নেতৃত্বে দলটিকে নির্বাচনে রাখা হবে। যেভাবে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন জাপার প্রতিষ্ঠাতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বর্জন করলে দলের একাংশ রওশনের নেতৃত্বে অংশ নিয়েছিল।
আওয়ামী লীগের কাছে দুই প্রস্তাব রেখেছে জাপা। প্রথম প্রস্তাব অনুযায়ী, জাপাকে যেসব আসন ছাড়া হবে সেখানে নৌকা এবং আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বঞ্চিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ভোটে থাকবেন না। নামসর্বস্ব দলের সঙ্গে লড়ে জিতে সংসদে গিয়ে ফের প্রধান বিরোধী দল হবে জাপা। এক্ষেত্রে ৩৫টি আসনে ছাড়লেই হবে।
অপরদিকে নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ দেখাতে স্বতন্ত্র প্রার্থী সরানোর দায়িত্ব নিতে রাজি নয় আওয়ামী লীগ। গতকালও শাসক দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নির্বাচনে অংশ নিতে বাধা দিতে পারে না আওয়ামী লীগ। গতকাল রাতের বৈঠকেও একই কথা বলেন। জাপার দ্বিতীয় প্রস্তাব হলো, ৬০ আসন ছাড়তে হবে। যেখানে নৌকা না থাকলেও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা থাকবেন। তাদের বিরুদ্ধে লড়ে জাতীয় পার্টি অন্তত ৩০ আসন জিতে প্রধান বিরোধী দল হবে। আগের চেয়ে উদারতা দেখালেও শেষ পর্যন্ত কত আসন ছাড়বে, তা গতকালও বলেনি আওয়ামী লীগ।
ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আসন সমঝোতার কথা হয়নি। কীভাবে নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।
মুজিবুল হক চুন্নুও বলেন, আওয়ামী লীগ বিশ্বাস করুক বা সন্দেহ করুক; জাপা নির্বাচনে থাকবে। কেউ যদি এতে অবিশ্বাস করে, তা তার ব্যাপার। নির্বাচনই সরকার পরিবর্তনের পথ। নির্বাচনে বিএনপি নেই। আওয়ামী লীগ বিরোধী ভোট অনেক বেশি। তা পেলে জাপাই জিতবে। জাতীয় পার্টি নির্বাচন কমিশন ও সরকারের কাছে শুধু ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ চেয়েছে। এ দাবি পূরণ হলে নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার কারণ নেই। এস.এ/জেসি


