বিজয় দিবসে ঢাকায় শোভাযাত্রা করবে না.গঞ্জ বিএনপি
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৭ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৭:৫১ পিএম
দীর্ঘদিন পর রাজধানীতে জমায়েত হয়ে বিজয় র্যালী বের করবে বিএনপি। মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আজকে অন্যান্য কর্মসূচির পাশাপাশি, শোভাযাত্রা বের করবে দলটি। জানা গেছে, বিএনপির কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, সকালে দলের কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ।
এছাড়া, সকাল সাড়ে ১০ টায় শেরে বাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করা হবে দলের পক্ষ থেকে। বিজয় দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনা সভা ছাড়াও, দলের বিভিন্ন ইউনিট ও সহযোগী সংগঠন সারাদেশে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বিজয় দিবস পালন করবে।
এদিকে, বিজয় দিবসে মিছিল-সমাবেশের অনুমতি চেয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারকে চিঠি দিয়েছে বিএনপি। এর পারমিশন পেলেই নয়াপল্টনে বিজয় দিবসে র্যালী করবে দলটি। এদিকে একাধিক নেতাকর্মীরা ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে বিজয় র্যালী সফল করতে। নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের সাথে যোগাযোগ করে জানা গেলো সকল নেতাকর্মী ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করেছে।
তারা সকলেই বিভিন্ন স্থান থেকে মিছিল নিয়ে নয়াপাল্টনের মূল মিছিলে অংশ গ্রহণ করবেন। ইতিমধ্যে কঠোর আন্দোলন হরতাল ও অবরোধ পালন করতে গিয়ে বিএনপির একাধিক নেতাকর্মী মামলায় জর্জরিত হয়ে গ্রেফতার এগিয়ে আত্মগোপনে রয়েছেন। যার কারণে নেতাকর্মীরা রাজপথে জমায়েত হতে পারছে না।
কিন্তু আজকে সকল নেতাকর্মী ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলনে বিজয় দিবসের বিজয় মিছিল পালন করবেন। এদিকে ৭ জানুয়ারী দ্বাদশ জাতীয় সাংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সারাদেশের ন্যায় নারায়ণগঞ্জে নেই কোন আমেজ। নির্বাচনকে ঘিরে সারা দেশে থম-থমে পরিবেশ বিরাজমান রয়েছে। কিন্তু ১৬ ডিসেম্বরে সকল রাজনৈতিক দলগুলো রাজপথে নামায় আমেজ উৎফুল্ল সৃষ্টি হবে দেশ।
সূত্র বলছে, গত ১০ ডিসেম্বরে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবসে নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়ার বার ভবনের সামনে কেন্দ্রীয় ঘোষিত মানববন্ধন করতে গিয়ে লাঞ্চিত হয়েছেন বিএনপির পরিবার ও আইনজীবীরা। অন্যদিকে মামলায় জর্জরিত বিএনপির নেতাকর্মীরা আসতে পারছে না রাজপথে। তা ছাড়া নারায়ণগঞ্জে প্রায় হাজারো নেতাকর্মী কারাগারে রয়েছে। কিন্তু, যারা বাইরে আছে তাদের রাজনৈতিক কর্মকান্ড চোখে পড়ছে না। অবরোধ ডেকেও তাদের খোঁজ নেই।
এছাড়াও মানবাধিকার দিবস পেরিয়ে গেলেও মার্কিনিদের নির্লিপ্ত থাকায় সরকার ও সরকারি দল আওয়ামী লীগ এখন অনেকটাই নির্ভার। বিএনপির নেতাকর্মীরা হতাশ। কিন্তু দীর্ঘদিন পর আবারো রাজপথে জমায়েত হবে বিএনপির নেতাকর্মীরা তাদের দাবি নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করে যে আন্দোলন চলমান রয়েছে সেই গতি আরো শক্ত হবে এই বিজয় মিছিলের মাধ্যমে। আমরা জমায়েত হয়ে শান্তিপূর্ন মিছিল পালন করবো।
এ বিষয়ে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন খান যুগের চিন্তাকে বলেন, এই স্বৈরাচারী সরকার যেভাবে এই স্বাধীন দেশকে হরণ করে মানুষের গণতন্ত্র, ভোটের অধিকার হরণ করেছেন। যা এই স্বাধীন দেশের জনগণ তাদের স্বাধীনতা উপভোগ করতে পারে না। যাকে ঘিরেই বর্তমানে আমরা নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি।
তিনি আরো বলেন, আগামী ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস উপলক্ষে ঢাকায় আমাদের র্যালী শোভাযাত্রা কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন বিএনপির হাইকমান্ড। সেখানে আমরা জেলা ও মহানগর বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা যৌথভাবে উপস্থিত হয়ে র্যালী সফল করবো ইতিমধ্যে আমাদের ব্যাপক প্রস্তুতি রয়েছে। আর আমরা আশা করছি সেদিন যেহেতু বিজয় দিবস তাকে ঘিরে আমরা কোন বাধাগ্রস্ত হবো না যদি এই সরকার কোন বাধা দিতে চায় সেই বাধা মোকাবেলা করেই নেতাকর্মীরা শোভাযাত্রা সফল করবেই।
জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক খোকন বলেন, আগামী কাল ১৬ ডিসেম্বর ঢাকায় যে শোভাযাত্রার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। তাকে ঘিরে আমরা সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের কাছে সেই বার্তা পৌঁছে দিয়েছি। আমরা দীর্ঘদিন পর ঢাকার নয়াপল্টনে সকলে জমায়েত হবো। আর এই কর্মসূচি পালন যদি এই সরকারের লোকেরা বা তাদের প্রসাশন কোন প্রকারের বাধা সৃষ্টি করে আমরা সেটা অতিক্রম করেই ঢাকার র্যালীতে উপস্থিত থাকবো।
বিএনপির নির্বাহী কমিটিরসহ অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক মাহমুদুর রহমান সুমন যুগের চিন্তাকে বলেন, আমরা ধীরে ধীরে রাজপথে নামা শুরু করে দিয়েছি। আর কাউকে আত্মগোপনে রাখা যাবে না সকল নেতাকর্মী ঐক্যবদ্ধ হয়ে সর্বাত্মক আন্দোলনের মাধ্যমে এই পাতানো নির্বাচন বন্ধ করবো ও সরকারকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করবো। আর আগামী কাল বিজয় দিবস উপলক্ষে ঢাকায় শান্তিপূর্ন শোভাযাত্রা করবো আর কোন বাধাকে আমরা বাধা মনে করবো না। এস.এ/জেসি


