# আ’লীগ জাপার সমঝোতায় নেই নারায়ণগঞ্জ-৩
# আ’লীগের সমর্থনেই নির্বাচিত হতেন খোকা
# সরে দাঁড়িয়েছেন আ’লীগের তিন স্বতন্ত্র প্রার্থী
অবশেষে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাথে সমঝোতায় যেতে সক্ষম হয়েছে জাতীয় পার্টি। দর-কষাকষির মাধ্যমে তারা আওয়ামী লীগ থেকে ২৬টি আসনের নিশ্চয়তা পেয়েছে বলে জানা গেছে। এই ২৬ আসনের মধ্যে বহুল ও ব্যাপক আলোচিত নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের একেএম সেলিম ওসমানের লাঙ্গল প্রতীকের আসনটি থাকলেও নেই জাতীয় পার্টি থেকে টানা দুইবারের এমপি লিয়াকত হোসেন খোকার নারায়ণগঞ্জ-৩ আসন।
তাই স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা সেলিম ওসমান এবার অনেকটা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় (কোন শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় নাম মাত্র প্রতিযোগিতা) নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন। কিন্তু এবার কঠিন বিপদে আছেন তারই আরেক দলীয় যোদ্ধা নারায়ণঞ্জ-৩ আসনের জাতীয় পার্টির প্রার্থী লিয়াকত হোসেন খোকা। এরই মধ্যে খোকার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের মনোনীত নৌকার প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল কায়সারের বিজয়কে সহজতর করার জন্য দলীয় তিন স্বতন্ত্র প্রার্থী তাদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় বিশ্লেষকদের মতে এই আসনে টানা দুই মেয়াদ কোনঠাসা থাকার পর এবার বিজয়ী হওয়ার সুযোগ হাতছাড়া করবে না সোনারগাঁও আওয়ামী লীগ। তাই জাতীয় পার্টির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের বর্তমান এমপি লিয়াকত হোসেন খোকা আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কঠিন গ্যাঁড়াকলে আছেন বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।
সূত্র মতে, আবদুল্লাহ আল কায়সার ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর ২০১৪ এবং ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনটি জোটগত কারণে জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দেয় আওয়ামী লীগ। এই দুইবার জাতীয় পার্টির মনোনয়ন ও আওয়ামী লীগের সমর্থন নিয়ে এই আসন থেকে নির্বাচিত হন লিয়াকত হোসেন খোকা।
এরপর ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্থানীয় আওয়ামী লীগের পক্ষ হতে নৌকার প্রার্থী দেওয়ার দাবি ছিল। কিন্তু এই আসনটি জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দেওয়ায় আওয়ামী লীগের সাবেক সাংসদ আব্দুল্লাহ আল কায়সার এই আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেন। এরপক্ষে তখন কায়সার সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘যেকোনো মূল্যে আমি এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব।
উপজেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মী, উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা শহীদ পরিবারের সন্তান ও দলমত-নির্বিশেষে সাধারণ মানুষের আগ্রহের কারণেই আমি এই নির্বাচন করছি।’ নির্বাচনের পূর্বে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সিংহ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনের মাঠে সরব ছিলেন। তবে ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়া সেই নির্বাচনের আগের রাতের সাড়ে ৮টার দিকে নাটকীয়ভাবে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান তিনি।
২৯ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে মোগরাপাড়া ইউনিয়নের ফুলবাড়িয়ায় তার পুরাতন বাড়িতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি আর নির্বাচনে থাকছেন না বলে জানান আব্দুল্লাহ আল কায়সার। তাই সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সহযোগিতা নিয়ে অনেকটা সহজভাবেই নির্বাচিত হন খোকা।
তাই আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের শুরু থেকেই নারায়ণগঞ্জ-৫ এবং নারায়ণগঞ্জ-৩ আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী দেওয়ার জোরালো দাবি ওঠে। শেষ খবর অনুযায়ী এবারের নির্বাচনেও নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের জাতীয় পার্টির প্রার্থী একেএম সেলিম ওসমানের জন্য ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে আব্দুল্লাহ আল কায়সারকে মনোনয়ন দেওয়া হয়।
এবারের নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থীর জন্য মনোনীত হন এই আসনের সাবেক সাংসদ আব্দুল্লাহ আল কায়সার। একই সাথে দলীয় সিদ্ধান্তের উপর ভিত্তি করেই এই আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হন আওয়ামী লীগেরই চার নেতা। তারা হলেন সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য এরফান হোসেন দীপ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মারুফ ইসলাম ঝলক, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপকমিটির সাবেক সদস্য এএইচএম মাসুদ দুলাল এবং কায়সার হাসনাতের স্ত্রী রুবিয়া সুলতানা।
তাই এই আসন থেকে আওয়ামী লীগ দলীয় মনোনয়ন দিলেও স্বতন্ত্র হিসেবে একাধিক দলীয় প্রার্থী থাকায় জাতীয় পার্টির প্রার্থী লিয়াকত হোসেন খোকা অনেকটাই নিশ্চিন্ত ছিলেন বলে জানায় স্থানীয় একাধিক সূত্র। এমনকি আওয়ামী লীগের সাথে জাতীয় পার্টির দর কষাকষিতেও খোকার ভাগ্য পরিবর্তন হতে পারে বলেও ধরে নিয়েছিলেন অনেকে। কিন্তু খোকার সেই আশায় গুড়েবালি।
একদিকে আওয়ামী লীগ থেকে ছাড় পাওয়া ২৬টি আসনের সুযোগে নেই খোকার আসন। তার উপর কায়সারের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে থাকা আওয়ামী লীগের চার স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে এরফান হোসেন দীপ, মারুফ ইসলাম ঝলক এবং রুবিয়া সুলতানা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। দলীয় একমাত্র স্বতন্ত্র প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আছেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপকমিটির সাবেক সদস্য এএইচএম মাসুদ দুলাল।
তাই এবারের নির্বাচনে নৌকা, লাঙ্গল এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে প্রতিযোগিতা হওয়ার সম্ভাবনা দেখা গেলেও দলীয় সমর্থনের কারণে শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের দুই প্রার্থী স্বতন্ত্র ও নৌকার মধ্যেই লড়াইটা সীমাবদ্ধ থাকবে বলে স্থানীয়ভাবে ধারণা করা হয়। স্থানীয় ভোটার এবং সমর্থকদের মতে এই আসনটি মূলত বিএনপি এবং আওয়ামী লীগের সমর্থনই বেশি।
সেই তুলনায় দলগতভাবে জাতীয় পার্টির সমর্থন এখানে খুব একটা নেই বললেই চলে। তাই যেহেতু এবার নির্বাচনে বিএনপি নেই তাই এখানে নৌকা এবং স্বতন্ত্র এই দুই আওয়ামী লীগের মধ্যেই লড়াই হবে বলে মনে করেন তারা। এস.এ/জেসি


