অনেক নাটকীয়তার পর আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর সাথে আসন ভাগাভাগি শেষ করেছে আওয়ামী লীগ। সর্বশেষ প্রাপ্ত খবরে জানা গেছে, জাতীয় পার্টিকে (জাপা) আওয়ামী লীগ ২৬টি আসন ছেড়ে দিয়েছে। ছেড়ে দেয়া আসনগুলোর মধ্যে নরায়ণগঞ্জ-৫ আসনটিকে অন্যতম বলে মনে করা হয়।
এই আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হলেন নারায়ণগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী ওসমান পরিবারের সন্তান একেএম সেলিম ওসমান। শুধুমাত্র তার বিজয়কে সুনিশ্চিত করতেই এই আসনে আওয়ামী লীগের কোন প্রার্থী রাখা হয়নি বলে গুঞ্জন রয়েছে। ভাগাভাগির লড়াইয়েও সেলিম ওসমানের আসনটিকে নিরাপদে রাখা হয়েছে। এর পেছনের কারণটাও সবারই জানা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বয়ং ওসমান পরিবারের দেখভাল করছেন।
কোন শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে সেলিম ওসমানের বিজয় এখন সময়ের ব্যাপারে রূপ নিয়েছে। সেলিম ওসমানের লাঙ্গল মার্কার নির্বাচনী প্রচারণায় এখন জাতীয় পার্টির পাশাপাশি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদেরও দেখা যেতে পারে। আবার ভোটকেন্দ্রে গিয়েও আওয়ামী লীগের ভোটাররা তাদের দলীয় প্রতীক নৌকার পরিবর্তে লাঙ্গলে ভোট দিতে বাধ্য হবেন। এসব দেখেশুনে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির এক বিদ্রোহী নেতা মন্তব্য করলেন, ‘ইহাকেই পলিটিক্স বলে!’
এ প্রসঙ্গে কথা বলার জন্য রাত ৯টা ১৫ মিনিটে সেলিম ওসমানের মোবাইলে ফোন দিলে তিনি তা রিসিভ করেননি। কিন্তু ৪ মিনিট পর তিনি নিজেই ফোন ব্যাক করেন। তার কাছে জানতে চাওয়া হয়, আসন ভাগাভাগির লড়াইয়ে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে আওয়ামী লীগ এবং জাতীয় পার্টি আপনাকেই বেছে নিয়েছে। বিজয় এখন আপনার হাতের মুঠোয়। এ মুহূর্তে আপনার মনে কি প্রতিক্রিয়া কাজ করছে?
জবাবে তিনি খুব মোলায়েম কণ্ঠে বলেন, ‘এ মুহূর্তে কয়েক হাজার মানুষ আমার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। আমি তাদের সাথে কথা বলছি। আপনার সাথে না হয় পরে কথা বলি।’
সেলিম ওসমানের নির্বাচনী এলাকার কয়েকজন নতুন ভোটারের সাথে আলাপ করলে তারা বলেন, জীবনে প্রথম ভোট দেয়ার সুযোগটাকে কাজে লাগাতে চাই। আমাদের আসনে তো সেলিম ভাই ছাড়া অন্যকোন প্রার্থী দেখছি না। তাছাড়া তিনি তো সবদিক দিয়েই যোগ্য। আমরা বিগতদিনে তার কর্মকান্ড দেখেছি। শিক্ষার প্রতি তার আলাদা একটা টান রয়েছে।
স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরাও তাকে খুব পছন্দ করে। তিনি একজন নামকরা ব্যবসায়ীনেতা। নারায়ণগঞ্জের নিটিং এবং গার্মেন্টস সেক্টর তার হাত ধরেই আজ সফলতার মুখ দেখেছে। তিনি গার্মেন্টস শ্রমিকদেরকেও যথেষ্ট মূল্যায়ণ করেন। তার দূরদর্শি নেতৃত্বের কারণেই নারায়ণগঞ্জের গার্মেন্টস শিল্পে কোন অরাজকতা দেখা দিতে পারে না।
জেলা আওয়ামী লীগের মধ্যম সারির এক নেতা বলেন, আমার দল যেহেতু জাতীয় পার্টির প্রার্থী সেলিম ওসমানকে সমর্থন করেছে সেহেতু আমি দলের নির্দেশনা মেনে নিতে বাধ্য। এস.এ/জেসি


