সোনারগাঁয়ে ডাবল রূপগঞ্জে চতুর্মুখী খেলা
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৯ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৭:২৯ পিএম
দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনের ৭ জানুয়ারি ভোটের আগেই নারায়ণগঞ্জ-৪ (সিদ্ধিরগঞ্জ-ফতুল্লা), নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসনে ভোটারদের আগ্রহে ভাটা পড়েছে। গতকাল জেলার পাঁচটি আসনে চূড়ান্ত ৩৪ প্রার্থীর মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ শেষ হয়েছে। জাতীয় পার্টির সাথে মহাজোটের মূল দল আওয়ামী লীগের আসন ভাগাভাগিতে কেবল নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনটিই জাতীয় পার্টি নির্ভেজালভাবে তাদের দখলে রাখতে পেরেছে। এই আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী সেলিম ওসমান সহজ জয়ের পথে রয়েছেন।
আওয়ামী লীগের প্রার্থী কিংবা স্বতন্ত্র কোন প্রার্থীর সঙ্গে তাকে লড়তে হচ্ছে না। নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে শামীম ওসমানও একেবারে নির্ভেজাল জয়ের পথে রয়েছেন। জাতীয় পার্টির প্রার্থী ছালাউদ্দিন খোকা মোল্লা ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী নজরুল ইসলাম বাবুর সাথে জাতীয় পার্টির প্রার্থী আলমগীর শিকদার লোটন নির্বাচনে তেমন কোন প্রভাব বিস্তার করতে পারবেননা বলে অনুমান করা হচ্ছে।
নারায়ণগগঞ্জের পাঁচটি আসনের মধ্যে তিনটি আসনেই ভোটের খেলা নিরামিষ হলেও নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ) ও নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে (রূপগঞ্জ) জমজমাট ভোটযুদ্ধ হওযার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সোনারগাঁয়ে আওয়ামী লীগ জাতীয় পার্টিকে ছাড় না দেওযায় এবং শেষ মুহূর্তে আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থীরা আওয়ামীলীগের প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে নিজেদের নির্বাচন থেকে সরিয়ে নেয়ায় জাতীয় পার্টির প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকা ও আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল কায়সার হাসনাতের মধ্যে জমজমাট দ্বিমুখী ভোটযুদ্ধ হওয়াটাই অবশাম্ভাবী বলছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য আব্দুল্লাহ আল কায়সারকে এতোদিন ব্যাকফুটে মনে করা হলেও শেষ পর্যন্ত স্বতন্ত্র প্রার্থী কায়সার হাসনাতের স্ত্রী রুবিনা সুলতানা, কায়সারের চাচাতো ভাই এরফান হোসেন দীপ, সোনারগাঁ উপজেল আওয়ামী লীগের সদস্য মারুফুল ইসলাম ঝলক নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোয় কায়সারের পক্ষে জনসমর্থন বেড়েছে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বোদ্ধারা। আর গত দুই জাতীয় নির্বাচনে মহাজোটের পক্ষে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আসন ভাগাভাগিতে পার পেয়েছিলেন জাতীয় পার্টির লিয়াকত হোসেন খোকা।
তবে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এবার সেটি না হওয়ায় এবং শেষ মুহূর্তে স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা এইচ এম দুলাল কায়সার হাসনাতকে সমর্থন করে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোয় লিয়াকত হোসেন খোকার কপালে চিন্তার ভাঁজ কয়েকগুন হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বোদ্ধারা। ফলে ভোটের মাঠে খোকার তুলনায় কায়সার মনস্তাত্ত্বিকভাবে এগিয়ে থেকেই প্রচারণা শুরু করবেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বোদ্ধারা।
এদিকে নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনের মধ্যে গোল্ডেন সিট হিসেবে খ্যাত নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনটি। এবার নির্বাচনের শুরু থেকেই এই আসনকে ঘিরে সারাদেশে আগ্রহ তৈরি হয়। কেননা কিংস পার্টি খ্যাত তৃণমূল বিএনপির মহাসচিব তৈমূর আলম খন্দকার এই আসন থেকে সোনালী আঁশ প্রতীক নিয়ে অংশগ্রহণ করার ঘোষণা দেন।
গত তিনটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী গোলাম দস্তগীর গাজী (বীর প্রতীক) যেভাবে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছিলেন এবার তার চিত্র ভিন্ন। তিনি টানা তিনবার জয়ী হওয়ার পুরস্কার স্বরূপ বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সুযোগ পান। আওয়ামী লীগের পক্ষে প্রভাব বিস্তার করতে তিনি রূপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব নেন। কিন্তু বিধি বাম। তার ছায়াতলে থেকেই রূপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিন হন শাহাজাহান ভূঁইয়া।
তিনি রূপগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্বেও ছিলেন। কিন্তু দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে তিনি এবার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করেন। ফলে গোলাম দস্তগীর গাজীর বিপক্ষে তৈমূরের সাথে চিন্তার ভাঁজ তৈরি করেছেন শাহজাহান ভূঁইয়াও। এখানেই শেষ নয়। রূপগঞ্জে জাতীয় পার্টিও ছেড়ে কথা বলেনি। ফলে এই আসনে জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল ইসলামও নির্বাচনে গাজী-তৈমূর-শাহজাহানের সাথে ভোটযুদ্ধে লড়বেন।
গোলাম দস্তগীর গাজীর সাথে শক্তি হিসেবে দাঁড়াতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বাজপাখি প্রতীক নিয়ে দাঁড়িয়েছেন গোলাম দস্তগীর গাজীর ছেলে পাপ্পা গাজী। ফলে জেলার সবকটি আসনের মধ্যে সবচাইতে শক্তিশালী নির্বাচনী ভোট যুদ্ধ হবে রূপগঞ্জে। প্রার্থীরা ইতিমধ্যে প্রতীক পেয়েছেন। ৭ জানুয়ারির ভোটে রূপগঞ্জ ও সোনারগাঁ যে সারাদেশবাসীর প্রত্যক্ষ নজরে থাকবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এস.এ/জেসি


