ক্ষমতার বাহিরে থাকা বিরোধী দল বিএনপি তফসিল ঘোষণার পর থেকেই তফসিল প্রত্যাখ্যান ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে হরতাল-অবরোধের কর্মসূচিতে জোর দেখাতে চাইলে ও গতি ফিরে পাচ্ছে না বিএনপি। এদিকে গত ১৫ নভেম্বরের তফসিল অনুযায়ী ধীরে ধীরে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল।
ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ৩০ নভেম্বর। মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ১ থেকে ৪ ডিসেম্বর। প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ১৭ ডিসেম্বর। প্রতীক বরাদ্দ ১৮ ডিসেম্বর এই সকল কার্যক্রম ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। গতকাল প্রতীক বরাদ্দের মধ্যে দিয়ে ৭ জানুয়ারির নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হল। আজ থেকে প্রচার-প্রচারণায় রাজপথে নামছে ক্ষমতাসীনদলসহ নির্বাচনের অংশ নেওয়া দলগুলো।
নির্বাচন ঠেকানো বা নির্বাচনকে নিরুত্তাপ করার জন্য বিএনপি যে চেষ্টা করেছিল সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। যদিও বিএনপিসহ তাদের বেশ কিছু শরিক দলগুলো নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত অংশগ্রহণ করেনি। কিন্তু তারপরও নির্বাচন হচ্ছে এবং নির্বাচনে এক ধরনের উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নারায়ণগঞ্জে ভোটের লড়াইয়ে ৩৪ জনসহ প্রায় ১৯০০ প্রার্থী এবার নির্বাচনে দলীয় এবং স্বতন্ত্রভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। যেদিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে থাকবে বিএনপি।
কিন্তু বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় আওয়ামী লীগের সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী। কিন্তু বিএনপির নেতাকর্মীরা বলছে, এখানে কোন প্রার্থী নেই সবই আওয়ামী লীগ আর আওয়ামী লীগ তাদেরই একটি সাজানো খেলা হবে। এটাকে নির্বাচন বলে কখনো দেশের জনগণ ও বহির্বিশ্ব মেনে নিবে না। তাছাড়া আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বলছে, বিএনপি এখনো দাবি করে যাচ্ছে যে এই নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হচ্ছে না কিংবা ভোটারদের কোন আগ্রহ নেই অথবা ভোটাররা এই নির্বাচন বর্জন করেছে, এমন বক্তব্যগুলো আর ধোপে টিকবে না।
এরকম বাস্তবতায় বিএনপির এক দফা আন্দোলন বা নির্বাচন প্রতিরোধের আন্দোলন মুখ থুবড়ে পড়বে এমনটাই দাবি ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের। ইতিমধ্যে দেখা যাচ্ছে কঠোর আন্দোলন হরতাল-অবরোধে ও বিএনপির মিলছে না কোন গতি কর্মীরা এখন হতাশাগ্রস্ত হয়ে তাকিয়ে আছেন নেতাদের দিকে। আর নেতাকর্মীরা তাকিয়ে আছেন কেন্দ্রীয় নেতাকর্মীদের দিকে। তাছাড়া মামলায় জর্জরিত হয়ে রাজপথে নামছে না নারায়ণগঞ্জ বিএনপির মূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
নিয়মিত আলোচনা হচ্ছে না কর্মীদের সাথে সকলেই কি হবে, কি হচ্ছে তা নিয়ে হতাশায় তাছাড়াও আজকে সারাদেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক দিয়েছে বিএনপি কিন্তু বিগত দিনের মতোই কোন মূল নেতাকে দেখা যাবে না। শুধু ঝটিকা মিছিলের মাধ্যমেই কর্মসূচি পালন হবে এমনটাই শোনা যাচ্ছে। ইতিমধ্যে যেহেতু নির্বাচন নিয়ে ভাবছে না বিএনপি সেহেতু নির্বাচনের পর কি করনীয় তা নিয়েও কর্মীদের সাথে কোন আলোচনার আভাস পাওয়া যাচ্ছে না। সব মিলিয়ে বিএনপি বর্তমানে হ-য-ব-র-ল অবস্থায় রয়েছে।
সূত্র বলছে, গত ২০১৪ সালেও বিএনপি এবং জামায়াত জোট জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করেছিল এবং ওই নির্বাচন প্রতিহতের ডাক দিয়েছিল। সেই সময় সারা দেশে বিএনপি একটি দৃশ্যমান আন্দোলন গড়ে তুলতে পেরেছিল। ঢাকা ছাড়া সারা দেশেই বড় ধরনের আন্দোলন হয়েছিল, নাশকতা হয়েছিল এবং ওই নির্বাচনে ১৫৩ জন প্রার্থী বিনা ভোটে নির্বাচিত হয়েছিলেন।
কিন্তু এবার দ্বাদশ নির্বাচন ২০২৪ সুষ্ঠ হবে এমনটাই দাবি জানিয়েছে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। কারণ আওয়ামী লীগ কৌশলগত ভাবে কোন প্রার্থী যেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত না হন তা নিশ্চিত করেছে। প্রত্যেকটি জায়গায় স্বতন্ত্র প্রার্থী দিয়ে নির্বাচনকে আকর্ষণীয় করার চেষ্টা করছে। কিন্তু বিএনপি বলছেন এখানে তো নেই কোন বিরোধী দলের নেতাকর্মী যারা স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছে তারা তো সকলেই আওয়ামী লীগের প্রার্থী আর আওয়ামী লীগের সেই স্বতন্ত্র প্রার্থী তো চাইবে না যে নৌকা বিজয় না হোক।
সেই সুযোগ নিয়ে এবারের পাতানো নিবার্চন এমনটাই বলছে বিএনপি। আরেক দিকে বিএনপির আরেকটি লক্ষ্য ভোটাররা যেন ভোট কেন্দ্রে উপস্থিত না হয়। কিন্তু আওয়ামী লীগ ভোট কেন্দ্রে যাতে সকলে পৌঁছাতে পারে সেই লক্ষ্য নিয়েই এবার প্রচার-প্রচারনার মাধ্যমে আলোচনা করা হবে। যার কারণে বিএনপি ইতিপূর্বে ও ইতিমধ্যে যে যে কৌশল অবলম্বন করে আগাতে পারছে না। তাদের এমন কৌশলও মনে হয় কাজে নাও আসতে পারে বলছে সূত্র।
তাছাড়া ২০১৪ সালে বিএনপি যেভাবে আন্দোলন করেছিল এবার সেভাবে আন্দোলন করতে ও পারছে না। আজকে বিএনপির ডাকে সারা দেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালিত হবে। কিন্তু এই ধরনের ঝটিকা মিছিলের হরতালগুলো ক্রমশ অকার্যকর এবং ব্যর্থ হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে। এমন ঝটিকায় সীমাবদ্ধ ও নেতারা আত্মগোপনে থেকে নির্বাচন ঠেকানো বিএনপির পক্ষে সম্ভব নয় বলছে অনেকেই। যেহেতু আন্তজার্তিক বহির্বিশ্ব বার বারই বলে যাচ্ছে বাংলাদেশে একটি সুষ্ঠ নির্বাচন ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দেখাতে চাই।
তাই বিএনপি মনে করছে যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় নির্বাচনের ব্যাপারে একটি হস্তক্ষেপ করবে। এই হস্তক্ষেপের ফলে শেষ পর্যন্ত নির্বাচন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাবে না। এটা ছাড়া নিজের শক্তিতে বিএনপি কিছু করতে পারছে না। আর এটি হলো বিএনপির আন্দোলনের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা। এদিকে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির যারা পদ-প্রত্যাশী হিসেবে আশায় ছিলেন আজকে তারা কেউ রাজপথে নেই। যাকে ঘিরে ক্ষোভ প্রকাশ করছে বিএনপির কর্মীরা। কিন্তু তারা ঘোষণা দেয় আন্দোলন কিন্তু মাঠে চলে ঝটিকা মিছিল। সবশেষে ফটো সেশনেই বিএনপির আন্দোলন। এস.এ/জেসি


