Logo
Logo
×

রাজনীতি

কী যাদু দেখাবেন আদুভাই!

Icon

ইউসুফ আলী এটম

প্রকাশ: ২০ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৮:৩৫ পিএম

কী যাদু দেখাবেন আদুভাই!
Swapno

 

নির্বাচনের দিন পাট দিয়ে কী যাদু দেখাতে চান আদুভাই! কোন সে যাদু, যেটিতে পারদর্শী আদুভাইয়ের নতুন দল তৃণমূল বিএনপি? এতোদিন যিনি নির্বাচনকে ছেলেখেলা হিসেবেই দেখে এসছেন, সেই তৈমূর আলম খন্দকার কি এবারও আদুভাইয়ের নামটিই বুকে আঁকড়ে রাখবেন! পরাজয় নিশ্চিত জেনেও তিনি বার বার কী কারণে নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন, তা কারো বোধগম্য নয়।

 

প্রসঙ্গত, ২০১১ সালে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে তিনি মেয়র পদে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে নিজেকে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী রূপে দাঁড় করাতে সক্ষম হয়েছিলেন। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে ২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় তৈমূর খন্দকারের বিজয়ের পাল্লা ভারি ছিলো বলে ধারণা করছিলেন বোদ্ধামহল। কারণ হিসেবে তারা বলছেন, আওয়ামী লীগের ভোট তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে যেতো। কিন্তু বিএনপি এবং জামায়াতের সিংহভাগ ভোটই পেতেন তৈমূর আলম খন্দকার।

 

এছাড়া আওয়ামী লীগের একভাগ ভোটও তার বাক্সেই জমা হতো। আবার অন্য একসূত্রের দাবি ছিলো, আইভী এবং তৈমূরের মধ্যে ভোট ভাগের খেলা হতো। মাঝখান দিয়ে শামীম ওসমান বিজয়ের মালা নিজের গলায় তুলে নিতেন। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কানে এমন আভাস পৌঁছামাত্রই তৈমূরকে কোরবাণী দিয়ে দিলেন। তিনি তার জাতশত্রু শামীম ওসমানের বিজয়কে ঠেকাতে গিয়ে নির্বাচনের একেবারে শেষ মুহূর্তে তৈমূরকে নির্বাচন থেকে সরিয়ে নিলেন।

 

বেচারা তৈমূর মিডিয়ার সামনে কাঁদতে কাঁদতে তার অসহায়ত্বের কথা জানালেন। কিন্তু নির্বাচনের ৭ ঘন্টা আগে শুধু মুখে মুখে বললেই যে প্রার্থীতা প্রত্যাহার করা যায় না, একথাটাও তার মাথায় ছিলো না। ফলে ভোট গণনাকালে দেখা গেছে, তৈমূরের বাক্সে ৭ হাজারেরও বেশি ভোট পড়েছে। অপরদিকে তৈমূরের সব ভোট আইভীর বাক্সে জমা হওয়ায় তিনি ১ লাখেরও বেশি ভোট পেয়ে শামীমকে পরাজিত করেন।

 

২০২২ সালেও তিনি নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে আইভীর প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মেয়র পদে প্রার্থী হন। তার দল বিএনপি এই নির্বাচন বয়কট করলেও তিনি দলের বিরুদ্ধে গিয়ে শুধুমাত্র ওই নির্বাচনটিকে বৈধতা দিতে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হন বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রের দাবি। লোকজন যাতে বলতে না পারে যে, আইভী একতরফা নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন। নির্বাচনে তিনি ৯২ হাজার ১৬৬ ভোট পেয়েছিলেন। আর আইভীর নৌকা মার্কা বাক্সে পড়েছিলো ১ লাখ ৫৯ হাজার ৯৭ ভোট।

 

এ নির্বাচনে অংশ নিয়ে তৈমূর খন্দকার আম-ছালা দু’টোই হারিয়েছেন। তিনি নির্বাচনে হেরেছেন এবং বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন। অনেক চেষ্টা তদবির করেও তিনি বিএনপিতে ফিরতে না পেরে তৃণমূলে ঘাঁটি গেড়েছেন। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এবার তিনি নারায়ণগঞ্জ-১ আসন থেকে তৃণমূল বিএনপির প্রার্থী হয়েছেন। গুঞ্জন রয়েছে, তৃণমূল বিএনপি নাকি সরকারি প্রেসক্রিপশানে গড়ে ওঠা ‘কিংস পার্টি’।

 

নির্বাচন এগিয়ে এলেই সরকার ওই রকম কিছু দল গড়ে তুলেন যাতে বড় কোন দল নির্বাচন বয়কট করলেও কোন সমস্যায় পড়তে না হয়। বড় দল বিএনপি এবারও নির্বাচনের বাইরে থাকায় সুযোগ নিচ্ছে তৃণমূল বিএনপি। মাত্র ১৪২টি আসনে প্রার্থী দিয়েই তৈমূর আলম খন্দকার বিরোধী দলে যাওয়ার অলীক স্বপ্ন দেখছেন। তৃণমূল বিএনপির নির্বাচনী প্রতীক ‘সোনালী আঁশ’ সোজা বাংলায় যার নাম ‘পাট’। এবার তিনি পাট নিয়ে যাদু দেখাতে চান। নারায়ণগঞ্জবাসী এবার আদুভাই তৈমূরের যাদু দেখতে উন্মুখ হয়ে আছেন। এস.এ/জেসি   

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন