Logo
Logo
×

রাজনীতি

পুরনো ওয়াদা নতুন মোড়কে

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ২২ ডিসেম্বর ২০২৩, ০১:১১ পিএম

পুরনো ওয়াদা নতুন মোড়কে
Swapno

 

# জেলার নেতিবাচক প্রচারগুলো মিডিয়ার সৃষ্টি বলে দাবি করেন তিনি
# প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসে বহুবার
# চাঁদাবাজিই বেশিরভাগ অপরাধের জন্ম বলে সচেতন মহলের ধারণা

 

 

দীর্ঘদিন যাবৎ নারায়ণগঞ্জে মাদক, সন্ত্রাস, ধর্ষণ ও চাঁদাবাজির প্রতিবাদে আন্দোলন ও প্রতিবাদ করে আসছে বিভিন্ন সংগঠনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী নেতৃবৃন্দ। আর এই অভিযোগ সাধারণ কোন চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে নয়, অভিযোগের তীরে বিদ্ধ হচ্ছেন নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী দুই পক্ষই। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তারা একে অপরের বিরুদ্ধে পৃষ্ঠপোষকতাসহ শেল্টারদাতা হিসেবে কাজ করে আসছে বলে এই অভিযোগ।

 

যা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মিডিয়ায় উঠে আসছে বড় আকারে। আবার অনেকেই তাদের নিজেদের সাফল্য প্রচার করতে গিয়ে এসব অপরাধ প্রতিরোধ বা দমন করেছেন বলেও নিজেদের পক্ষে সাফাই গাইতে শোনা যায়। আবারও নারায়ণগঞ্জে মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিষয়টি ওঠে এসেছে। নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিত নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের আওয়ামী লীগ সমর্থিত সাংসদ একেএম শামীম ওসমান তিনি এই এধরণের অপরাধ নির্মূলের প্রতিজ্ঞা করেছেন।

 

দেশের অন্যতম শিল্প, ব্যবসা, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে খ্যাতি পাওয়া জেলা হিসেবে পরিচিত নারায়ণগঞ্জ জেলার নেতিবাচক বিষয়গুলোর মধ্যে অন্যতম খুন, ছিনতাই, মাদক, সন্ত্রাস, ধর্ষণ ও চাঁদাবাজির অভিযোগ। স্বনামধন্য এই জেলার দেশ ও জাতির জন্য যে অবদান তার সব কিছুই ফিকে হয়ে আসে এসব দুর্নামের কারণে। অনেক সময় অনেক নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে এগুলোকে মিডিয়ার অতিরঞ্জিত প্রকাশ বলেও অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

 

যারা এসব অপরাধকে নির্মূল না করে এগুলো মিডিয়ার সৃষ্টি হিসেবে জাহির করার চেষ্টা করেন। আবার পরক্ষণেও তারাও স্বীকার করেন এই জেলায় সন্ত্রাস, খুন, ছিনতাই, মাদক, সন্ত্রাস, ধর্ষণ ও চাঁদাবাজির মাত্রা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। যার প্রমাণ শামীম ওসমানের এবারের বক্তব্যে প্রকাশ পেয়েছে।

 

বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী জানা যায়, নারায়ণগঞ্জে মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির ব্যাপক বৃদ্ধি নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করে বিভিন্ন সময় জেলা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধিদের পরস্পরের বিরুদ্ধে দোষারোপ করতে দেখা যায়।

 

জেলার পথচারীদের চলাচলের রাস্তা বা ফুটপাত দখল করে হকারদের বাসিয়ে চাঁদাবাজি করার অভিযোগ, শহরের প্রধান প্রধান সড়কগুলোতে অবৈধ স্ট্যান্ড বসিয়ে চাঁদাবাজি করার অভিযোগ, জুয়ার আসন বাসিয়ে সেখান থেকে মাসোহারার অভিযোগ, শহরের ঘনবসতি এলাকায় মাদকের আখড়া গড়ে তুলো চাঁদাবাজি করার অভিযোগ, অটো ইজিবাইকে স্টিকার দিয়ে চাঁদাবাজি করার অভিযোগ, বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজি করার অভিযোগ, গার্মেন্টস কারখানার জুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চাঁদাবাজি করার অভিযোগ, অবৈধভাবে জমি দখল করার সুযোগ করে দিয়ে চাঁদাবাজি করার অভিযোগসহ নারায়ণগঞ্জের বেশিরভাগ অপরাধের মূলেই এই চাঁদাবাজি বলে মনে করেন সচেতন মহল।

 

আর এই চাঁদাবাজির সুযোগ নিতে কিছু নেতা তাদের চেল্লাদের দিয়ে বিভিন্ন সেক্টরে অবৈধ সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে বলেও মনে করেন তারা। এমনকি জেলার মেয়র এবং এমপিদের মধ্যেও এই চাঁদাবাজি নিয়ে একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনছেন বিভিন্ন সময়।

 

গত নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনের প্রচারণার সময় আওয়ামী লীগের তৎকালীন মেয়র প্রার্থী (বর্তমান মেয়র) ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেন, তিনি থাকতে এই শহরে গুম, খুন, চাঁদাবাজি করা যাবে না। পূর্বেও এইসব কর্মকান্ডের প্রতিবাদ সাহসিকতার সাথে তিনি করেছেন এবং আগামীতে করবেন।

 

তিনি আরও বলেন, আমি এই শহরে চাঁদাবাজি করি না, আমার দু-চারটা বাড়িও নাই, ব্যবসাও নাই। আমি তেল ব্যবসা করি না, ঝুটের ভাগ নিতে যাই না। কথাগুলো তিনি তার প্রতিদ্বন্দ্বিদের উদ্দেশ্যে বলেছেন বলে জানা যায়। এর বাইরেও তিনি চাঁদাবাজির প্রতিবাদে বিভিন্ন সময় বক্তব্য দিয়েছেন।

 

তিনি অভিযোগ করে বলেন, নারায়ণগঞ্জসহ শহরে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কারা করে তা সবাই জানে। শহরে অটোরিকশা চাঁদাবাজি শুরু হয়েছে। এই চাঁদাবাজিগুলো কারা করে আপনারা সবাই জানেন। শুধু পুলিশ কিংবা সাংবাদিকের স্টিকার না এমপি স্টিকারও থাকে। এমপির লোকজন শহরে এখন এমপির স্টিকার লাগিয়েও চাঁদাবাজি করে।

 

কারণ ফুটপাতের হকাররা ও ট্রাক স্ট্যান্ডের লোকজন আমার কথা শোনে না তারা সবাই এমপির কথাই শোনে। এমপি যদি বলে তাহলে একদিনে ফুটপাত থেকে হকার ও নিতাইগঞ্জ থেকে ট্রাক স্ট্যান্ড খালি হয়ে যায়। আর আমি শত অনুরোধ করলেও তারা শোনেন না। শহরের ফুটপাত হকার মুক্ত করার জন্য আমি পদক্ষেপ নিতে যাই। আর তারা এসে হকার বসায়।

 

অভিযোগে পিছিয়ে নেই নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ একেএম শামীম ওসমানও। নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের এক আয়োজনে শামীম ওসমান বলেন, এক পাগলায় বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে বিআইডব্লিউটিএ যে ওয়াকওয়ে তৈরি করেছে, তা দখল করে মালপত্র লোড আনলোডের সময় চাঁদাবাজি হয়। এখান থেকে মাসে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করা হয়। এ চাঁদাবাজি কারা করে? কারা নদী দখল করে?’

 

তিনি আরও বলেন, ’বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডিব্লউটিএ) নারায়ণগঞ্জে অনেক কাজ করলেও নদী দখল ও চাঁদাবাজি চলছে অভিযোগ করে স্থানীয় সংসদ সদস্য শামীম ওসমান বলেছেন, এগুলো কারা করে? ‘শীতলক্ষ্যা নদীর কাঁচপুর ব্রীজের নিচে খাজনা আদায় করছে বিআইডব্লিউটিএ। সেই টাকা কার পকেটে যায়? বিভাগের লোকজনের পকেটে, না ইউনিয়ন নেতার পকেটে? ‘এটা সরকারের সম্পত্তি। সরকারকে রাজস্ব আদায়ের ব্যবস্থা করে দেন। এটা বন্ধ করেন। এ ধরনের অনিয়ম মানবো না।’

 

তবে এবার এ ধরণের অপরাধ নির্মূলের প্রতিজ্ঞা করেছেন শামীম ওসমান। তিনি বলেছেন যে ‘নির্বাচনের পর আমার প্রথম কাজ মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, এগুলো বন্ধ করা। তবে শর্ত হিসেবে তিনি বলেছেন তিনি যদি এবার নির্বাচিত হন কেবল তখনই তার পক্ষে এসব অপরাধ নির্মূলে কাজ করতে পারবেন তিনি।

 

এই ধরণের অপরাধ নির্মূলে কি কারণে কাজ করবেন তার যুক্তি হিসেবে তিনি বলেছেন তিনি আল্লাহকে খুশি করে মরতে চান। গতকাল বৃহস্পতিবার ফতুল্লার কাশীপুর ইউনিয়নে এক নির্বাচনী প্রচারণায় সাংবাদিকদের কাছে এমন বাসনার কথা প্রকাশ করেন এই প্রভাবশালী নেতা। এস.এ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন