অভিমান ভাঙাতে আ.লীগ নেতাদের দ্বারে সেলিম ওসমান
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২২ ডিসেম্বর ২০২৩, ০১:৩১ পিএম
আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হাওয়ার সাথে নারায়ণগঞ্জের ৫ টি আসনের এমপি প্রার্থীরা ব্যস্ততাময় সময় পার করছে। বিশেষ করে ১৮ ডিসেম্বর প্রতীক পাওয়ার পর থেকে নারায়ণগঞ্জ ৫ আসনের জাতীয় পার্টির প্রার্থী সেলিম ওসমান পুরোদমে ব্যস্ততাময় সময় পার করছে।
প্রতীক পাওয়ার সাথে সাথে জেলা মহানগর আওয়ামীলীগের একটি অংশ সেলিম ওসমানকে নিয়ে নগরীর ২ নম্বর রেলগেট এলাকা আওয়ামীলীগের কার্যালয়ে মতবিনিময় সভা করেন। এই সভায় জেলা মহানগর আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত হয়ে জাতীয় পার্টির এই প্রার্থীকে জয়ী করার জন্য ঐক্যবদ্ধ ভাবে মাঠে নামার ঘোষনা দেন।
সেই সাথে তাকে সমথর্ন জানান আওয়ামীলীগের উত্তর বলয়ের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। বিশেষ করে সাংসদ শামীম ওসমান বলেয়র নেতারা তার পক্ষে মাঠে নামার ঘোষনা দিয়েছে। এদিকে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগে উত্তর দক্ষিন বলয়ে পরিচিত স্থানীয় নেতা কর্মীরা।
সাংসদ শামীম ওসমানের অনুুসারীরা উত্তর বলয়ের নেতা কর্মী হিসেবে পরচিত। বিপরীতে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা.সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেয়র নেতা কর্মীরা আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে দক্ষিন মেরু হিসেবে পরিচিত। কিন্তু নারায়ণগঞ্জ ৫ আসনের জাতীয় পার্টির প্রার্থী সেলিম ওসমানের পক্ষে মাঠে নেমেছেন।
তার মাঝে ১৮ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দের পর জেলা মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে জাতীয় পার্টির প্রার্থী সেলিম ওসমান উপস্থিত হয়ে মতবিনিময় করেন আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দের সাথে। এই সভায় জেলা আওয়ামীলীগের সাধরণ সম্পাদক এড. আবু হাসনাত মো. শহিদ বাদল জাপার এই প্রার্থীকে সমথর্ন জানিয়ে বক্তব্য রাখে। তাছাড়া তার নির্বাচনী পরিচালনায় মহানগর আওয়ামীলীগের সাধরণ সম্পাদক এড. খোকন সাহা কাজ করে যাচ্ছেন।
এছাড়া যুবলীগ নেতা এহসানুক হাসান নিপু, সাফায়াত আলম সানি, বন্দর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এম এ রশিদ, সেক্রেটারি কাজিম উদ্দিন সেলিম ওসমানের পক্ষে মাঠে নামার ঘোষনা দিয়েছেন। তারা প্রত্যেকেই শামীম ওসমানের অনুসারী হিসেবে রাজনীতিতে পরিচিত।
তবে দক্ষিন বলয়ের মেয়র আইভীর অনুসারীরা জাপার প্রার্থী সেলিম ওসমানের পক্ষে মাঠে নামেন নাই। তাছাড়া দল থেকে কারো পক্ষে কাজ করার কোন নির্দেশনা দেয়া হয় নাই। যদিও বিগত নির্বাচনে আওয়ামীলীগের সাথে জাতীয় পার্টির মহাজোট থাকায় তখন আওয়ামীলীগের উত্তর দক্ষিন মেরুর দুই বলয়ের নেতা কর্মীরা তার পক্ষে কাজ করেছে। কিন্তু আসন্ন নির্বাচনে সেই বাধ্যতামূলক নির্দেশনা নেই।
দলীয় সুত্রমতে জানা যায়, ২০০৮ সন থেকে নারায়ণগঞ্জ ৫ আসনটি জাতীয় পার্টির দখলে রয়েছে। একই সাথে তখন থেকে এই আসনটি ওসমান পরিবারের নিয়ন্ত্রনে আছে। ২০০৮ সনে নারায়ণগঞ্জ ৫ আসনে জাতীয় পার্টি থেকে মনোনীত হয়ে প্রয়াত এমপি নাসিম ওসমান নির্বাচিত হন। তিনি ২০১৪ সনে মারা যাওয়ার পর এখান থেকে সেলিম ওসমান জাতীয় পার্টি থেকে লাঙল প্রতীক নিয়ে উপ নির্বাচনে এমপি হয়ে জনপ্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হন।
পরবর্তীতে ২০১৮ সনের ৩০ ডিসেম্বরের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাপা থেকে মনোনীত হয়ে তিনিই নির্বাচিত হন। সর্বোপরি ২০২৪ এর ৭ জানুয়ারি নির্বাচনেও নারায়ণগঞ্জ ৫ আসন থেকে জাতীয় পার্টির মনোনয়ন নিয়ে তৃতীয়বারের মত এমপি হওয়ার পথে রয়েছেন সেলিম ওসমান। যদিও ২০১৮ সনের নির্বাচনের পর থেকে এই আসনে নৌকার প্রার্থী দেয়ার জন্য আওয়ালীগের নেতা কর্মীরা দাবী জানিয়ে আসছেন।
বিশেষ করে ২০২২ সনের জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনে এই দাবী জোরালো ভাবে তুলে ধরা হয়। এছাড়া এখানে আওয়ামীলীগের এমপি না থাকায় স্থানীয় নেতা কর্মীরা অবহেলিত হয়ে রয়েছে এমন অভিযোগ তুলেন। আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ তাদের দুঃখ কষ্ট জাপার এমপির কাছে গিয়ে বলতে পারেন না। তাছাড়া জাপার এমপি তাদের তেমন ভাবে ডাকেন ও না। কিন্তু নির্বাচনে সেলিম ওসমান এমপি প্রার্থী হয়ে জাপার অফিসে না গিয়ে আওয়ামীলীগের কার্যালয়ে গিয়েছেন। সেখানে তিনি বক্তব্যও রেখেছেন।
এমপি সেলিম ওসমান বলেছেন, নারায়ণগঞ্জ ৫ আসনটি যখন খালি রাখা হলো তখন আমি অবাক হয়ে যাই। আমি জানতে চাইতে আমাকে বলা হয় ঘরের ছেলে ঘরে রাখা হোক। নারায়ণগঞ্জের ৫ আসনে যারা আওয়ালীগ করেন এখানে নৌকা না থাকায় তাদের কষ্ট পাওয়ারই কথা। আমাকে প্রধানমন্ত্রী কেন পছন্দ করলেন। এখানে নৌকা দেয়া প্রয়োজন ছিল।
এখান থেকে কে আওয়ামীলীগের নমিনেশন পাবে এজন্য এখানকার নেতৃবৃন্দের আমার সাথে বসা উচিৎ ছিল। আজকে আমি জোর গলায় বলতে পারি আওয়ামীলীগ আমাকে ভালোবাসে। আমরা আওয়ামীলীগ, জাতীয় পার্টি বিএনপি চিনি না দলমত নির্বিশেষে সকলকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করে যেতে চাই। আওয়ামীলীগের কার্যালয়ে গিয়ে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন তাকে জয়ী হতে হলে পূর্বের মত নারায়ণগঞ্জ ৫ আসনের আওয়ামীলীগের নেতা কর্মীদের উপর নির্ভর করতে হয়। কেননা এখানে সাংগঠনিক ভাবে জাতীয় পার্টি শক্তিশালী নয়। যতটা শক্তিশালী আওয়ামীলীগ। তাই রাজনৈতিক সচেতন মহলের আসন্ন নির্বাচন কঠিন হবে। তাছাড়া ভোটারদের উপস্থিতি বাড়াতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বার বার বলেছেন নিজেদের জনপ্রিয়তায় এবার পাশ করে আসতে হবে। যদিও সেলিম ওসমানের বিপক্ষে তেমন শক্তিশালী প্রার্থী না থাকায় তিনি জয়ের জন্য আওয়ামীলীগের উপর নির্ভর করতে হচ্ছে তাকে। তাই রাজনৈতিক বোদ্ধামহলের মতে সেলিম ওসমান জাপার প্রার্থী হলেও আওয়ালীগ নেতাদের ছাড়া জয় হওয়া তার পক্ষে অনিশ্চিত। আগামী ৭ জানুয়ারী ভোটাররা তাদের ভোট প্রয়োগ করে পছন্দের প্রার্থীকে বেছে নিবেন। এস.এ/জেসি


