Logo
Logo
×

রাজনীতি

কারা আ.লীগের অনুগত নন

Icon

শুভ্র কুমুদ

প্রকাশ: ২৩ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৭:২২ পিএম

কারা আ.লীগের অনুগত নন
Swapno

 

আওয়ামী লীগের সূতিকাগার হিসেবে পরিচিত নারায়ণগঞ্জ। দীর্ঘ ১৫ বছরের অধিক সময় ধরে আওয়ামী লীগ দেশের নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছে। আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনেও হটসিটে আওয়ামী লীগ। বিএনপি নির্বাচনে না এলেও আওয়ামী লীগের এই জয়জয়কারে মন খারাপ নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) অধ্যুষিত আওয়ামী লীগ কর্মীদের। এখানে সব আওয়ামী লীগ কর্মীদের বললেও ভুল হবে, আবার কিছু সংখ্যক আওয়ামী লীগ কর্মীদের বললেও ভুল হবে না।

 

দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ২৯৮ আসনে মনোনয়ন দেন। নারায়ণগঞ্জ-৫ ও কুষ্টিয়া দুই আসনটি। মজার বিষয় হচ্ছে পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনটি মহাজোটের আসন ভাগাভাগিতে আওয়ামী লীগ জাতীয় পার্টিকে ছাড় দিয়েছিল কি না সেটাও অস্পষ্ট। এবারের নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ক্ষেত্রে নমনীয় ভূমিকায় আওয়ামী লীগ থাকার পরেও গত কয়েকবছর নৌকা চাই, নৌকা চাই বলে চিৎকার চেচামেচি করা আওয়ামী লীগ নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার সাহস দেখাননি।

 

তাহলে প্রশ্ন জাগতেই পারে, সারাদেশে আওয়ামী লীগের এতো স্বতন্ত্র প্রার্থীর চেয়ে এই আসনের আওয়ামী লীগ নেতাদের মনে আওয়ামী লীগ প্রীতি বেশি নাকি সাহস কিংবা নিজ নীতি কোনটি সেটি নিরূপণ করতে না পারা। 

 

জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে গত দুই মেয়াদে প্রার্থী হয়ে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন সেলিম ওসমান। দক্ষিণ বলয় হিসেবে পরিচিত জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাই, সাবেক সহসভাপতি আবদুল কাদির, আরজু রহমান ভূঁইয়া, আদিনাথ বসু, এড. আসাদুজ্জামান আসাদ, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম আবু সুফিয়ান, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবীব, সাংগঠনিক সম্পাদক জিএম আরাফাত, মহানগর যুব লীগের সাধারণ সম্পাদক আলী রেজা উজ্জলসহ আরো দীর্ঘ আওয়ামী লীগ নেতারা জাতীয় পার্টির এমপিকে মেনে নিতে পারেননি।

 

২০১৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীও ফলাও করে জাতীয় পার্টির এমপিকে নিয়ে বিষেদাগার করেছেন। এখন পর্যন্ত এই নেতৃবৃন্দ জাতীয় পার্টির প্রার্থী সেলিম ওসমানের পক্ষে মাঠে নামেননি। তাহলে এই আসনে আওয়ামী লীগ কী সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাও এই সকল নেতৃবৃন্দের কাছে স্পষ্ট নয়। যদি জাতীয় পার্টিকে ছাড় দিয়েই থাকে, তবে তো লাঙ্গল প্রতীককেই সমর্থন দিয়েছে আওয়ামী লীগ, আর যদি সেটিই হয় লাঙ্গলের প্রতি আপত্তি থাকা মানে আওয়ামী লীগ অর্থাৎ দলের সিদ্ধান্তের প্রতিই আপত্তি।

 

মাত্র কিছু দিন আগে পর্যন্ত ওসমান পরিবারের সঙ্গে থাকা আওয়ামী লীগ নেতাদের দক্ষিণ বলয়ের নেতা লাঙ্গল মার্কা আওয়ামী লীগ বলে আখ্যায়িত করতেন। তাছাড়া দক্ষিণ বলয়ের নেতারা কথায় কথায়, কখনো হাইব্রীড, কখনো কাউয়া আবার কখনো লাঙ্গলমার্কা আওয়ামী লীগ বলে দুয়ো দিতেই ওসব নেতাদের।

 

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মো. বাদল, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মীর সোহেল আলী, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এড. খোকন সাহা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জিএম আরমান, শাহ নিজাম, সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরুল আলম হেলাল, মহানগর যুব লীগের সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন সাজনুসহ আরো বেশ কয়েকজন নেতাকে উদ্দেশ্য করে দক্ষিণ বলয়ের আওয়ামী লীগ নেতারা তীর্যক মন্তব্য করতেন।  

 

দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থীর পক্ষে সভা-সমাবেশ ও কার্যক্রম চালানোতে ভূমিকা রাখছেন এই নেতারা। তাহলে আওয়ামী লীগের প্রার্থী না দেয়ার সিদ্ধান্তটিকে তারা মহাজোটের সিদ্ধান্ত বলেই ধরে কাজে নেমেছেন বলে ধরা যায়। তাহলে এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে মহাজোটের প্রার্থীকে অসহযোগিতা করছে কারা।

 

জাতীয় পার্টিকে যারা দুচোখে সহ্য করতে পারেননি, সেই জাতীয় পার্র্টির প্রার্থী সেলিম ওসমান যখন আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে প্রথমবারের মতো সহযোগিতার ডাক নিয়ে গেলেন তখন নিজেদের আওয়ামী লীগ কার্যালয় ফেলেই বা তারা কোথায় ছিলেন? যদিও এর দু’দিন পর মেয়র আইভীর নেতৃত্বে দক্ষিণপন্থী আওয়ামী লীগ নেতারা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে জড়ো হয়েছেন, তবে সেটি আদৌ মহাজোটের প্রার্থী সেলিম ওসমানকে সহযোগিতার করার বিষয়ে কি না সেটিই বিরাট প্রশ্ন। 

 

এবার অনেকেই প্রশ্ন রাখতে পারেন, সর্বশেষ সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর পক্ষে প্রথম দিকে আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন নেতা নামেননি। তবে কেন্দ্রীয় নেতাদের সরাসরি হস্তক্ষেপে এবং পদ রক্ষার্থে শেষ পর্যন্ত দেখানোর জন্য হলেও আওয়ামী লীগ নেতারা ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর পক্ষে নামতে বাধ্য হন। জয় নিয়েই ঘরে ফেরেন ডা. আইভী। তাহলে এবার কেন্দ্রীয় নেতারা আসছেন না বিধায়ই কি দক্ষিণমেরুর আওয়ামী লীগ নেতারা জাতীয় পার্টির প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী মাঠে নামছেন না!

 

যদিও সেলিম ওসমানের বিপরীতে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী নেই, তবে আওয়ামী লীগের নিবেদিত প্রাণ বলে মুখে ফেনা তুলে ফেলা নেতারা যদি নিজ দলের সিদ্ধান্তই অগ্রাহ্য করেন তবে সেটি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেই যায়। আসলে দল নাকি ব্যক্তিকেন্দ্রিক রাজনীতিতে এখানকার আওয়ামী লীগ নেতারা সীমাবদ্ধ সেই প্রশ্ন উঠাটাই স্বাভাবিক। আর সেটি খুব ভালোভাবে বুঝতে পারে বলেই কি না আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা স্থানীয় এসব নেতাদের কথা খুব একটা পাত্তা দেন না! এস.এ/জেসি
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন