ছিলেন দুঃশ্চিন্তায়, আছেন খোশ মেজাজে
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৩ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৭:৩৬ পিএম
# বিএনপির অংশগ্রহণ নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় ছিলেন তিনি
# জাপার সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় হতাশায় পড়তে হয়
# নৌকার প্রার্থী দেওয়ার দাবি ভুগিয়েছে তাকে
নির্বাচন কমিশনের বর্তমান তফসিল অনুযায়ী আগামী ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। আর এই নির্বাচন নিয়ে বেশ খোশ মেজাজেই আছেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের বর্তমান সাংসদ এবং আসন্ন নির্বাচনের প্রার্থী একেএম সেলিম ওসমান। অথচ বছরের শুরুতে দল, প্রতীক এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে বেশ অশান্তিতে ছিলেন শিল্প ও ব্যবসায় খ্যাতি পাওয়া নারায়ণগঞ্জের প্রভাব শালী পরিবার হিসেবে পরিচিত ওসমান পরিবারের সদস্য সেলিম ওসমান।
অনেককেই আবার রসিকতা করে বলতে শোনা যায় ২০১৪ সালে যেমন নির্বাচন ছাড়াই ১৫৩টি আসনে এমপি হয়েছেন প্রার্থীরা এই আসনটি অনেকটা সেই রকমেরই বলা চলে। তফাৎটা হলো সে সময় কোন প্রতিপক্ষ ছিল না কিন্তু এখন আছে। তবে যারা আছেন তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী না বলে প্রতিপক্ষ হিসেবে উল্লেখ করতেই তারা পছন্দ করছেন বেশি। রাজনীতির বিষয়ে যারা মোটামুটি খোঁজখবর রাখেন তারাও মনে করেন এবার কোন প্রকার প্রচার প্রচারণা ছাড়াই নির্বাচনের পূর্বেই অঘোষিত এমপি হিসেবে নিজেকে ভাবতে পারেন সেলিম ওসমান।
স্থানীয় ভোটার সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোর সূত্র থেকে জানা যায়, এই বছরের শুরুতেও আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন থেকে প্রার্থীতা ও লড়াইয়ের বিষয়ে খুব একটা শান্তিতে ছিলেন না নারায়ণগঞ্জ রাজনীতির প্রভাবশালী পরিবারের সন্তান ও বর্তমান সাংসদ একেএম সেলিম ওসমান। বেশ কয়েক বছর যাবৎ এই আসন থেকে আওয়ামী লীগের পক্ষ হতে নৌকার প্রার্থী দাবী ওঠে আসছিল এখানকার আওয়ামী লীগের তৃণমূল পর্যায় থেকে।
তাই এই বছর শুরু থেকেই এইবার নৌকার প্রার্থী দেওয়ার বিষয়ে আশাবাদী ছিল তারা। একই সাথে আশাবাদী ছিলেন নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। তাই বিষয় নিয়ে বছরের শুরু থেকেই ছিল আলাপ আলোচনা। জেলা ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ থেকেও সবুজ সংকেত ছিল বলে বিভিন্ন সূত্র থেকে খবর পাওয়া যায়। তাই এই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকেই দীর্ঘদিনের হতাশা পূরণের আশায় দলীয় মনোনয়ন সংগ্রহ করেন নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা।
অন্যদিকে জাতীয় রাজনীতিতে তৃণমূল বিএনপি নামের একটি নতুন দল যুক্ত হওয়ায় এবং আওয়ামী লীগের শখ্য দল হিসেবে প্রচার লাভ করায় জোটগত নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভাব হওয়ার লক্ষণ দেখা যায় তাদের। এসব নানা জটিলতায় জাতীয় পার্টির নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা, জোটগত নাকি আলাদা নির্বাচন সেই সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হওয়ায় শেষ পর্যন্ত সেলিম ওসমান বেশ দুশ্চিন্তায় ছিলেন বলেও জানা যায়।
তাছাড়া তফসিল ঘোষণার আগ পর্যন্ত বিএনপির নির্বাচনে আসা নিয়েও সেলিম ওসমান ছিলেন আলাদা টেনশনে। বিশ্লেষকদের মতে একদিকে নির্বাচনী প্রতীক, প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আওয়ামী লীগের প্রার্থী, তৃণমূলের প্রার্থী ও বিএনপির প্রার্থীকে মোকাবিলা করার ঝুঁকিতে ছিলেন তিনি। তাই শুধু নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনের মধ্যেই নয়, সারা দেশের ৩০০টি আসনের মধ্যেই এই আসনটি একটি চতুর্মুখী ও হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা জেগে ওঠে। বিষয়গুলো নিয়ে বেশ চাপে ছিলেন ও সেলিম ওসমান ও তার সমর্থকগণ।
তবে নির্বাচনের শেষ মুহুর্তে এসে এই আসনটিই এখন সবচেয়ে নিরাপদ ও একপেশে নির্বাচন হবে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকগণ। একদিকে বিএনপি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে না আসার সিদ্ধান্তে বহাল থাকায় এখানে একটি বৃহত্তর ও এখানকার অন্যতম শক্তিশালী দলের প্রার্থী নির্বাচনে নেই। তারপর তৃণমূল বিএনপি আওয়ামী লীগের চাহিদা পূরণ করতে না পারায় জাতীয় পার্টির সাথে সমঝোতায় আসে আওয়ামী লীগ।
এর আগেই দেশের ২৯৮টি আসনে প্রার্থী দিলেও এই আসনটিতে কোন প্রার্থী দেননি আওয়ামী লীগ। তাই নৌকা, ধানের শীষের মতো প্রতীক কিংবা তৃণমূল বিএনপিকে মোকাবেলা করতে না হওয়ায় এখন ফুরফুরে মেজাজে আছেন ওসমান পরিবারের এই জাতীয় পার্টির নেতা। এখন এমপি হওয়া তার শুধু সময়ের ব্যাপার বলে মনে করেন স্থানীয়রা।
এমনকি তার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের কোন প্রার্থী স্বতন্ত্র হিসেবেও অংশ না নেওয়া তার জন্য পোয়া বারো বলে মনে করেন তারা। তাই বিশ্লেষকদের ধারণা আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বছরের শুরুতে যিনি সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তায় ও অনিশ্চয়তায় ছিলেন তিনিই এখন নির্বাচনের আগেই বিজয়ের স্বাদ গ্রহণ করে নির্ভার ও ফুরফুরে মেজাজে আছেন। এস.এ/জেসি


