নির্বাচনী মাঠে আদুভাই হিসেবে পরিচিত এড. তৈমূর আলম খন্দকার এখন উভয় সংকটে পড়েছেন। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে তিনি নারায়ণগঞ্জ-১(রূপগঞ্জ) আসন থেকে তৃণমূল বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তিনি তৃণমূল বিএনপির কেন্দ্রীয় মহাসচিব। আসন ভাগাভাগির হিসেব-নিকেশ শেষে সরকারের উপর মহল থেকে তৈমূর আলম খন্দকারকে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে নির্বাচন করতে বলা হয়েছিলো।
কিন্তু তিনি সরকারের কথা আমলে না নিয়ে তার পিতৃভূমি রূপগঞ্জ থেকেই নির্বাচন করতে গোঁ ধরেছিলেন। তার এই গোঁয়ার্তুমির কারণ খুঁজতে গিয়ে জানা যায়, বিএনপি আমলে তিনি বিআরটিসির চেয়ারম্যান পদে অধিষ্ঠিত হওয়ার পর রূপগঞ্জের কয়েক হাজার মানুষকে বিনা পয়সায় চাকরি দিয়েছেন। চাকরিপ্রাপ্তদের পরিবারের বিশাল ভোটব্যাংক তার সমর্থনে থাকবে বলেই তিনি বিশ্বাস করেন। প্রবাদ আছে, ‘নুন খাই যার গুণ গাই তার’।
এই নির্বাচনে চাকরিপ্রাপ্তদের পরিবার সোনালী আঁশ মার্কায় ভোট দিয়ে তার নুন খাওয়ার ঋণ শোধ করার সুযোগ হাতছাড়া করবেন বলে মনে করেন না তিনি। এছাড়া তার পরিবারটি রূপগঞ্জের একটি খান্দানি পরিবার হিসেবে সুপরিচিত। এলাকায় তার বাপ-দাদাদের বেশ সুনাম রয়েছে। তিনি নিজেও অনেক আগে থেকেই রূপগঞ্জে সময় দিয়ে আসছেন। প্রায় সময়ই তিনি রূগঞ্জের বাড়িতে মেজবানীর আয়োজন করেন। এই মেজবানি অনুষ্ঠানে প্রচুর লোকের সমাগম দেখা যায়।
মেজবানিতে অংশগ্রহণকারীরা ভোটেরদিন তাকে ভুলে যাবেন না বলেই তার বিশ্বাস। এলাকায় তার নিজস্ব কর্মী-সমর্থকও কম নেই। কিন্তু নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে তার এসবের কিছুই নেই। তাছাড়া ওই আসনে সরকার সমর্থিত জাতীয় পার্টির প্রার্থী হচ্ছেন ওসমান পরিবারের সেলিম ওসমান। বিএনপিতে যোগদানের পর শামীম ওসমানের দাবড়ানি খেয়ে নারায়ণগঞ্জ ছেড়ে স্বপরিবারে ঢাকায় আশ্রয় গ্রহণের কথা কি তিনি ভুলে গেছেন! তো এখন কোন সাহসে ফের ওসমান পরিবারের বিরুদ্ধে নির্বাচন করতে যাবেন!
নির্বাচনে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বি আওয়ামী লীগের প্রার্থী গোলাম দস্তগীর গাজীর দিকে অভিযোগের তীর নিক্ষেপ করে বলেন, গাজীর লোকজন তার পোস্টার, ব্যানার ছিঁড়ে ফেলছেন। চনপাড়া বস্তিতে তার ৩ জন কর্মিকে গাজীর লোকজন পিটিয়েছে। তার কর্মি ও সমর্থকদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে। মুড়াপাড়া বাজারে সোনালী আঁশের পোস্টার ছিঁড়ে সেখানে নৌকার পোস্টার লাগানো হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
এছাড়া গাজীর মালিকানাধীন যমুনা ব্যাংকের ২২ কর্মকর্তাকে প্রিজাইডিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এসব আলামত সুষ্ঠু নির্বাচনের অন্তরায়। এসব ব্যাপারে সংশ্লিষ্টমহলে বার বার অভিযোগ করেও কোন প্রতিকর পাচ্ছেন না বলে জানান তিনি। নির্বাচনে সেনাবাহিনীকে সাক্ষীগোপাল না রেখে ম্যাজিস্ট্রি পাওয়ার দেয়ারও দাবি জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী সুষ্ঠু নির্বাচন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বলেই তৃণমূল বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিয়েছে বলে দাবি করে তিনি বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু করতে ব্যর্থ হলে প্রধানমন্ত্রী নিজেই প্রশ্নবিদ্ধ হবেন। আন্তর্জাতিকভাবেও এ নির্বাচন গ্রহণযোগ্যতা পাবে না।
নির্বচনে বিজয়ের ব্যাপারে তৈমূর আলম খন্দকারের কণ্ঠে হতাশার সুর বাজছে। মাঠের প্রকৃত অবস্থা তিনি বুঝে গেছেন। মূল প্রতিযোগীতা হবে নৌকার গাজী আর বিদ্রোহী প্রার্থী শাহজাহানের মধ্যে। তৈমূরের পাট থাকবে তৃতীয় স্থানে। পাট দিয়ে পাটমন্ত্রীকে ঘায়েল করার তৈমূরের যাবতীয় পরিকল্পনা ভেস্তে যেতে বসেছে বলেই মনে করা হচ্ছে। আদুভাই এখন সটকে পড়ার নানা অজুহাত খুঁজছেন বলেও রূপগঞ্জের আকাশে গুঞ্জন ওড়ছে। এস.এ/জেসি


