Logo
Logo
×

রাজনীতি

বিএনপির ভোটে নজর জাপা প্রার্থীদের

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ২৪ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৮:৩০ পিএম

বিএনপির ভোটে নজর জাপা প্রার্থীদের
Swapno

 

আসন্ন দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের প্রচারণায় ব্যস্ততাময় সময় অতিবাহিত করছেন নারায়ণগঞ্জের এমপি প্রার্থীরা। জেলার ৫টি আসনেরে মাঝে ৪টিতেই আওয়ামী লীগের প্রার্থী রয়েছে। তার মাঝে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে জাতীয় পার্টির মনোনীত কোন প্রার্থী নেই। কিন্তু নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে নৌকার কোন প্রার্থী না দেয়ায় এখানকার আওয়ামী লীগের একটি অংশ বেকার সময় পার করছেনন তারা এখানকার জাতীয় পার্টির প্রার্থীর পক্ষে মাঠে না নামায় হতাশা প্রকাশ করেছে জাপার প্রার্থী সেলিম ওসমান।

 

নির্বাচন কমিশন সুত্রমতে, নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি সংসদীয় আসনে ৪০ জন প্রার্থী মাঠে নেমে লড়াই করছেন। কিন্তু এখানকার দুটি আসন ব্যতিত অন্যান্য আসনে তেমন কোন শক্তিশালী প্রার্থী নেই। নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের নৌকার মনোনীত প্রার্থী এমপি শামীম ওসমান অনেকটা এক মাঠ কাপিয়ে যাচ্ছেন। তার বিপক্ষে তেমন ভাবে কেউ প্রচারণার মাঠে নেই।

 

এছাড়া জয়ের ব্যাপারেও সাংসদ শামীম ওসমান নিশ্চিত হয়ে রয়েছেন। তবে এই নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে অন্য প্রার্থীরা হলেন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সৈয়দ হোসেন, তৃণমূল বিএনপির আলী হোসেন, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির সেলিম আহমেদ, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের হাবিবুর রহমান, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির শহীদ উন নবী এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের গোলাম মোর্শেদ রনি। কিন্তু তাদের কাউকে তেমন ভাবে ভোটের মাঠে প্রচরানায় দেখা যায় না।

 

একই ভাবে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী সেলিম ওসমান একক ভাবে মাঠ চসে বেরাচ্ছেন। তার বিপক্ষ কোন প্রার্থীকে মাঠে দেখতে পান না ভোটাররা। তিনিও জয়ের ব্যাপারে অনেকটা নিশ্চিত জেনেও ভোটারদের উপস্থিতি বাড়ানোর চ্যালেঞ্জ নিয়ে প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছেন। একই সাথে তিনি দলমত নির্বিশেষে আওয়ামী লীগ বিএনপি জাপা সকলকে নিয়ে মাঠে নেমে ভোটার উপস্থিতি বাড়াতে চান। কিন্তু তার এই চেষ্টা কতটুকু সফল হবে তা ভোটের দিনই বুঝা যাবে।

 

তার বিপক্ষে অন্যান্য প্রার্থীরা হলেন, ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশের এ এম এম একরামুল হক, তৃণমূল বিএনপির আব্দুল হামিদ ভাষানী ভূঁইয়া এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি ছামসুল ইসলাম।

 

দলীয় সুত্রমতে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে আসন্ন দ্বাদশ সংসদ নিবাচনের প্রচারনার জমে উঠেছে। এখানে মুলত লড়াই হবে আওয়ামী লীগের মনোনীত নৌকার প্রার্থী কায়সার হাসনাত ও জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী লিয়াকত হোসেন খোকা। নৌকার প্রার্থী ২০০৮ সনের নির্বাচনে এমপি নির্বাচিত হয়ে জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

 

পরবর্তীতে ২০১৪ সনের নির্বাচনে এখানে জাতীয় পার্টির প্রার্থী লিয়াকত হোসেন খোকা এমপি নির্বাচিত হন। একই ভাবে ২০১৮ সনের নির্বাচনেও তিনি এমপি নির্বাচিত হন। এই দুটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সাথে জাতীয় পার্টির মহাজোট থাকায় আসন দুটি নৌকার প্রার্থীকে ছাড় দিতে হয়। কিন্তু এবারের নির্বাচনের চিত্র ভিন্ন হওয়ায় নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে সাবেক বর্তমান এমপিদের মাঝে লড়াই হচ্ছে। দুজনেই মানুষের ধারে ধারে গিয়ে ভোট চেয়ে যাচ্ছেন।

 

কিন্তু সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির ঘাটি হিসেবে পরিচিত। এখানে বিএনপির বিশাল ভোট ব্যাংক রয়েছে। জাতীয় পার্টির প্রার্থী লিয়াকত হোসেন খোকা বিএনপির ভোটারদের প্রতি নজর রেখে ভোটের মাঠেে এগিয়ে যাচ্ছেন। সেই সাথে এখানকার বিএনপি সমর্থিত ভোটাররা যেন তাকে ভোট দিতে আসে এজন্য তিনি মাঠে ময়দানে নেমে হাটে ঘাটে কাজ করে যাচ্ছেন।

 

তাকে এবারের নির্বাচনে জয়ী হতে হলে বিএনপির ভোটার আলাদা নজর রেখে এগিয়ে যেতে হবে বলে মনে করেন র্জানৈতিক সচেতন মহল। যদিও বিএনপি এবারের নির্বাচনকে বর্জন করে সরকার পতনের আন্দোলন করে যাচ্ছে। এমনকি তারা নির্বাচনকে ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েছে বলে মনে করে রাজনৈতিক বোদ্ধমহল।

 

নারায়ণগঞ্জ-২ আসনেও আওয়ামী লীগের প্রার্থী নজরুল ইসলাম বাবুর সাথে জাতীয় পার্টির প্রার্থী আলমগীর শিকদার লোটনের লড়াই হবে। দুজনে মাঠে প্রচারনায় নেমে কথার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। নৌকার প্রার্থীকে উদ্দেশ্য করে আলমগীর শিকদার লোটন বলেন, আড়াই হাজারটা কারো নামে লেখে দেয়া হয় নাই। বিপরীতে লাঙলের প্রার্থীকে উদ্দেশ্য করে এমপি নজরুল ইসলাম বাবু বলেন, বাড়িতে থাকতে দেয়া হবে না।

 

কিন্তু এখানেও জাতীয় পার্টির প্রার্থী বিএনপির ভোটারদের প্রতি নজর রেখে যাচ্ছেন। সেই সাথে বিএনপি সমর্থিত ভোটার কাছে টানার চেষ্টা করে যাচ্ছেন তিনি। কেননা বিএনপি সমর্থিত ভোটাররা নৌকায় ভোট দিবে না এটা জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা খুব ভালো করে জানেন। কিন্তু বিএনপি নির্বাচনকে বর্জনের ডাক দিয়ে তাদের সমর্থকরা যেন ভোট দিতে না আসে সেই আহ্বান জানান।

 

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছে, আসন্ন নির্বাচন হবে কঠিন। অন্যান্য নির্বাচনের মত হবে না। ইতোমধ্যে প্রশাসনকে কোন পক্ষ না নেয়ার জন্য কঠোর বার্তা দেয়া হয়েছে। এছাড়া এবারের নির্বাচনে সকাল বেলা ব্যালট পেপার নির্বাচনের কেন্দ্র গুলোতে পাঠানো হবে। সুষ্ঠ এবং নিরপেক্ষ ভোট হলে নৌকার প্রার্থীদের তলানী হতে পারে।

 

এছাড়া বিএনপির সমর্থকরা ভোট প্রয়োগ করলে কয়েকটি আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাড়িয়েছে নির্বাচিত হওয়া। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও মনে করেন জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের ভরসা এখন বিএনপির সমর্থকদের ভোট। এস.এ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন