Logo
Logo
×

রাজনীতি

নিরাপত্তা এখন সোনারগাঁয়ের নির্বাচনে প্রধান ইস্যু

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ২৪ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৯:৪২ পিএম

নিরাপত্তা এখন সোনারগাঁয়ের নির্বাচনে প্রধান ইস্যু
Swapno

 

# সন্ত্রাস আর উন্নয়নকে ইস্যু করে নির্বাচন বয়কট করা বিএনপির ভোটারদের কাছে টানছেন লিয়াকত হোসেন খোকা

 

 

সোনারগাঁয়ে এবারের নির্বাচনে প্রধান ইস্যু হচ্ছে নিরাপত্তা ইস্যু। কারণ এই আসনে বিগত পনেরো বছর ধরে বিএনপির কোনো এমপি নেই। পনেরো বছরের প্রথম পাঁচ বছর এমপি ছিলেন কায়সার হাসনাত আর পরের দশ বছর এমপি ছিলেন লিয়াকত হোসেন খোকা। কিন্তু এই পনেরো বছরে কার সময়ে মানুষ নিরাপদে ছিলো এটাই এখন ওই অঞ্চলের মানুষের প্রধান আলোচ্য বিষয়। যা ফলে জনগনের নিরাপত্তাই এখন এবারের এই নির্বাচনে প্রধান ইস্যু হয়ে উঠেছে বলে জানা গেছে।

 

২০০৮ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন আওয়ামী লীগের কায়সার হাসনাত। ওই নির্বাচনে তার সাথে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করে হেরেছিলেন বিএনপির প্রার্থী অধ্যাপক রেজাউল করিম। কিন্তু কায়সার হাসনাত এমপি হওয়ার পর গোটা সোনারগাঁ জুরে শুরু হয় বেপরোয়া সন্ত্রাস। বিএনপির নেতাকর্মীদের মারধোর করা হয়। তবে পরের দুই নির্বাচনে নির্বাচিত হয়েছিলেন জাতীয় পার্টির লিয়াকত হোসেন খোকা। কিন্তু বিগত তিন নির্বাচনে এই দুই প্রার্থীর মাঝে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বীতা হয়নি।

 

কারণ আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি দলীয় পর্যায়ে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে একে অপরকে ছাড় দিয়েছিলো। কিন্তু এবার এই আসনটি নিয়ে দলীয় পর্যায়ে কোনো সমঝোতা না হওয়ায় দুই প্রার্থীর মাঝে যার যার দলীয় প্রতিক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীতা হচ্ছে। আর বিএনপি নির্বাচন বয়কটের ডাক দিয়েছে। তবে খোকা আর কায়সারের মাঝে প্রতিদ্বন্দ্বীতা হওয়ায় এবার সোনারগাঁয়ের মানুষ হিসাবে মিলাচ্ছে তারা কোন এমপির সময়ে কেমন ছিলেন।

 

তবে নির্বাচনী এলাকাটিতে বিএনপির ব্যাপক জনপ্রিয়তা থাকলেও এবারের নির্বাচনে ভোট বর্জন করায় বিএনপির ভোটাররা রয়েছে নিশ্চুপ আর নেতারা রয়েছেন আন্দোলনে। কারন বিএনপি মনে করে এই সরকারকে ক্ষমতায় রেখে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু হতে পারে না। আর বিএনপি নির্বাচনে আসতে চাইলেও তাদেরকে আসতে দেয়া হতো না। বিএনপির প্রার্থীদেরকে আদালতের রায়ে কারাগারে নিক্ষেপ করা হতো।

 

তবে এই আসনে বিএনপির ভোট একটি বড় ফ্যাক্টর। এলাকার সাধারণ মানুষ জানিয়েছেন বিএনপির ভোটারদের একটি ছোটো অংশও যদি কেন্দ্রে যায় তাহলে তারা লিয়াকত হোসেন খোকাকেই ভোট দেবেন। কারন তারা খোকার কাছে কায়সারের তুলনায় নিরপদ বলে মনে করেন। কারণ লিয়াকত হোসেন খোকার কোনো সন্ত্রাসী বাহিনী না থাকায় দশ বছর অনেকটাই নিরাপধে ছিলেন তারা। কায়সার আবার নির্বাচিত হলে গোটা সোনারগাঁ জুরে সন্ত্রাস ছড়িয়ে পরবে বলে অনেকে আশকা করেন। তাই বিএনপির ভোটাররা কিছুটা হলেও লিয়াকত হোসেন খোকার দিকে ঝুকে আছেন বলে জানা গেছে।

 

এদিকে সোনারগাঁয়ের বিভিন্ন এলাকার সাধারন মানুষের সাথে কথা বলে জানা গেছে তারা মনে করেন একজন এমপি হিসাবে কায়সার হাসনাতের তুলনায় অনেক ভালো করেছেন লিয়াকত হোসেন খোকা। কারন কায়সারের সময়ে এলাকায় ব্যাপক সন্ত্রাস ছড়িয়ে পরেছিলো। সন্ত্রাস আর দূর্ণীতিকে প্রাধান্য দিয়েছিলেন কায়সার। এমনকি যেকোনো উন্নয়ন কাজ সহ বিভিন্ন কাজে কায়সারের স্ত্রীকে টাকা না দিলে কোনো কাজ হতো না বলে জানিয়েছেন সোনারগাঁয়ের সাধারন মানুষ।

 

এছাড়া মেঘনায় বালু উত্তোলন নিয়ে ওই সময় ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে এবং খুনের ঘটনাও ঘটেছে। ফলে সোনারগাঁবাসী মনে করেন আবারও যদি কায়সার হাসনাত নির্বাচিত হন তাহলে আগের মতোই নতুন করে ছড়িয়ে পড়বে সন্ত্রাস। বিপরিতে লিয়াকত হোসেন খোকা গত দশ বছর কোনো রকম সন্ত্রাসীদের প্রশ্রয় দেননি। যার ফলে সোনারগাঁয়ের সাধারন মানুষ বেশ শান্তিতেই ছিলেন। এছাড়া গত দশ বছর লিয়াকত হোসেন খোকা এমপি এলাকার রাস্তাঘাটের ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। গ্রামেগঞ্জে এমন কোনো রাস্তা নেই যা তিনি করেননি।

 

গোটা সোনারগাঁ এলাকায় তিনি রাস্তা ও ব্রিজ কালভার্ট সহ সব ধরনের উন্নয়নে নিয়োজিত ছিলেন। ফলে জাতীয় এবং স্থানীয় গণমাধ্যমগুলিতেও খোকা এমপি কোনো রকম সন্ত্রাস বা দূর্ণীতি করেছেন এমন কোনো রিপোর্ট প্রকাশ হয় নাই। তাই সোনারগাঁয়ের সাধারন মানুষ বেশ শান্তিতে ছিলেন। যার ফলে বিভিন্ন এলাকার সাধারন মানুষ মনে করেন গোটা সোনারগাঁ উপজেলাকে শান্তপূর্ণ রাখার জন্য আবারও লিয়াকত হোসেন খোকার কোনো বিকল্প নেই।

 

কেনোনা কায়সার হাসনাত আবারও সুযোগ পেলে নতুন করে শুরু হবে বেপরোয়া সন্ত্রাস। যার ফলে এলাকার শান্তিশৃংখলা বজায় রাখার স্বার্থে সাধারন ভোটাররা এবার লিয়াকত হোসেন খোকাকেই বেঁছে নেবেন বলে জানিয়েছেন ওই এলাকার বহু ভোটার। এলাকার সাধারন মানুষের পরিস্কার বক্তব্য হলো তারা শান্তিতে বসবাস করতে চান কোনো রকম সন্ত্রাস চান না। এছাড়া লিয়াকত হোসেন খোকা যে ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন তার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য তাকেই ভোট দেওয়ার জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে সাধারন ভোটারদের অনেকে জানিয়েছেন। এস.এ/জেসি


 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন