কথা হচ্ছিলো সোনারগাঁ আওয়ামী লীগের এক কট্টর সমর্থকের সাথে। নির্বাচনী রাজনীতি নিয়ে ষাটোর্ধ্ব এই আওয়ামী সমর্থকের বিশ্লেষণধর্মী কথাবার্তা অবাক করার মতো। তিনি বললেন, ‘আসন ভাগাভাগির গ্যাড়াকলে আটকে থাকা কায়সার হাসনাতের মুখের হাসির দেখা মিলেছে ১০ বছর পর। ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি।
কিন্তু পরবর্তীতে ২০১৪ এবং ২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচনে ওই আসনে নৌকার জায়গা দখল করে নেয় জাতীয় পার্টির লাঙ্গল। ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও এই ১০ বছর সোনারগাঁবাসী নৌকায় ভোট দিতে পারেননি। জাতীয় পার্টির লাঙ্গল নিয়ে টানা ২ টার্ম এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন নারায়ণগঞ্জ থেকে হঠাৎ উড়ে আসা মৌসুমী পাখি লিয়াকত হোসেন খোকা। এই পাখির ঠোকর থেকে আত্মরক্ষা করতে গিয়ে কায়সারের মুখের হাসিও উবে গিয়েছিলো। এবারও এই আসনটি জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দেয়া হতে পারে বলে গুজব ওঠেছিলো। কিন্তু গুজবের ফানুসকে তছনছ করে আসন ভাগাভাগির লড়াইয়ে লিয়াকত হোসেন খোকা ছিটকে পড়েন। প্রার্থীতা নিশ্চিত হওয়ার পর কায়সারের মুখে হাসি ফুটে।’
কায়সার হাসনাতের গোটা পরিবারই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। তার পিতা প্রয়াত আবুল হাসনাত সোনারগাঁ আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। তার মাতা মমতাজ বেগম ছিলেন সোনরগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক। তার চাচা মোবারক হোসেন এই আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম এবং তৃতীয় সংসদ নির্বাচনে ২ বার এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন।
এরপর টানা ২৫ বছর বঞ্চিত থাকার পর ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে কায়সার হাসনাত বিএনপির প্রার্থী অধ্যাপক রেজাউল করিমকে প্রায় ১ লাখ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে ওই আসনের এমপি নির্বাচিত হতে পেরেছিলেন। ২০০৮ এর নির্বাচনে নৌকার পক্ষে গণ জোয়ার তৈরী হয়েছিলো।
এবারও সেই লক্ষণ দেখা যাচ্ছে দাবি করে সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের এক নেতা বলেন, ‘১০ বছর সোনারগাঁয়ের মানুষ নৌকায় ভোট দিতে না পেরে হতাশায় ভুগছিলেন। এবার তারা নিজেদের মার্কা পেয়ে যারপর নাই আনন্দিত। নিজেদের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে তারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে নেমেছেন। কায়সার হাসনাতের গণসংযোগে জনতার ঢল দেখা যায়। তিনি যেখানেই যাচ্ছেন সেখানেই উপচেপড়া ভিড় পরিলক্ষিত হচ্ছে। ৭ জানুয়ারির নির্বাচনে তিনি নৌকার বিজয় ছিনিয়ে এনে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনটিকে উপহার দেবেন বলেই ভোটাররা বিশ্বাস করেন।’
তবে জাপার প্রার্থী লিয়াকত হোসেন খোকাও বসে নেই। তিনি এবং তার স্ত্রী আলাদাভাবে লাঙ্গলের পক্ষে গণসংযোগ করছেন। এবারই প্রথম কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখী হতে হচ্ছে তাকে। আগের দু’টো নির্বাচনে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছিলেন বলে নির্বাচনি পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়নি। সোনারগাঁয়ে জাতীয় পার্টি তেমন শক্তিশালী নয়।
কিন্তু নির্বাচন করতে গেলে কর্মিবাহিনীর প্রয়োজন পড়ে। খোকার পাশে কর্মিদের দেখা যায় না। ভাড়াটে লোক নিয়ে তিনি মিটিং মিছিল করছেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। বিএনপির ভোটব্যাংকের দিকেই তার নজর। বিএনপি নির্বাচনে না এলেও খোকা যেকোন মূল্যে তাদেরকে ভোটকেন্দ্রে নেয়ার চেষ্টা করছেন বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রের দাবি।
আজ ২৫ ডিসেম্বর কায়সার হাসনাতের জন্মদিন। ১৯৭১ সালের এদিনে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। ৩ ভাই ও ১ বোনের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়। ২ কন্যা সন্তানের জনক কায়সার সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক। সোনারগাঁ আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের নেতাকর্মি কায়সার হাসনাতকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। এস.এ/জেসি


