আসছে বছর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচন। আগামী বছর জানুয়ারী মাসের ৭ তারিখ নির্বাচনের ভোট গ্রহনের তারিখ ঘোষনা করেছে নির্বাচন কমিশন। গত ১৮ ডিসেম্বর নির্বাচনী প্রর্তীক বরাদ্দ করে দেওয়া হয়েছে প্রার্থীদের মাঝে। নির্বাচনে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠিত করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেয়া শুরু করেছেন নির্বাচন কমিশন। প্রার্থীরাও ভোটারদের কাছে নিজেদের নির্বাচনের প্রচারনার জন্য ব্যস্ত সময় পার করে যাচ্ছে। সব মিলিয়ে নারায়ণগঞ্জ এ নির্বাচনের আমেজ বর্তমানে বলা যায় জমজমাট। তবে এতো কিছুর মধ্যেও সাধারণ মানুষের কী ভাবনা এই নির্বাচন নিয়ে?
নির্বাচন আসেলেই যেন জনমনে আসে নানান রকমের ভাবনা চিন্তা। নারায়ণগঞ্জে আসন্ন নিবাচন নিয়ে কী ভাবছে নগরবাসী। নির্বাচন কে ঘিরে সমাজের উচ্চ থেকে নিম্ন শ্রেনিরলোক সবাই আলাদা আলাদা মনোভাবে পোষন করেন। তবে দেশের মুল দুই রাজনৈতিক দলের মধ্যে বিএনপি নির্বাচনে না থাকায় মাঠ পর্যায় কোনো নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বীতামূলক আমেজের দেখা মিলছে না। যার ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে তেমন কোনো আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না।
নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে জানতে চাইলে বেসরকারি স্কুলের শিক্ষক জনাব সাইফউদ্দিন যুগের চিন্তাকে বলেন, নির্বাচনে যেই দলই জয় লাভ করুক না কেন আমরা চাই নিজেদের ভালো হোক জনগনের ভালো হোক। তবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকায় ক্ষমতাশীন দলের জয় লাভ করাটাই সহজ হবে বলে আমার মনে হয়। আর নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা না থাকলে নির্বাচনের মহলও তেমন জমে না। নির্বাচনের দিন ভোট দিতে যাবেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচনের ভোট গ্রহনের দিন তো অনেক সময় দেখা যায় ঝামেলা হয় মারামারি হয়। যদি এমন কোনো সমস্যা না হয় তখন যাব ভোট দিতে।
নারায়ণগঞ্জ ফতুল্লা এলাকার একজন গার্মেন্টসকর্মীর কাছে নির্বাচন নিয়ে তার প্রত্যাশার কথা জানতে চাইলে তিনি যুগের চিন্তাকে বলেন, ধরেন আমরা এখানে ৫ জন বসে আছি। এখন আমাদের মাঝে যদি একজনই সারাক্ষন কথা বলে বাকিরা চুপচাপ বসে থাকেন তাহলে সেখানে ব্যাপার টা ঠিক জমবে না । বর্তমানের নিবাচর্নের অবস্থাও ঠিক একই রকমের। নির্বাচনের সময় সব দল গুলো যদি মাঠে থেকে ইলেকশন করতো তাহলে সবার মাঝে একটা হাশি খুশি ভাব থাকতো । সবাই তো আর এক দর সার্পোট করে না । যে দল মাঠে আছে তারাই শুধু কথা বলছে। তাহলে বাকিরা সবাই তো বোবা!
সাতচল্লিশ বছর বয়সী একজন রিক্সাচালকের কাছে আগের তাদের সময়ের ভোটের পরিবেশ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভোটের দিন আগে মনে হইতো ঈদের মতো, আমাগো সময় ভোটের একটা আলাদা মজা ছিল এখন তো সেটাই নাই। তার উপর ধরলে শুধু একটা দলই আছে। বাকি গো তো দেখাই মিলে না। তবে যেই দলই আসুক দ্রব্যমূলের দামটা যেন একটু লাঘব হয়। আমাগো মতে মানুষের জীবন চালানো অনেক কষ্ট হইয়া যাইতাছে। ভোট দিতে যাবেন কিনা এমন প্রশ্নে জবাবে তিনি সরাসরি না বোধক উত্তরের সাথে বললেন, নিজের জীবন বাচানোই আগে ফরজ ভোটের দিন যেই মারামারি হয় ওই দিন বাসা থেকে বাইর হইতেই মানুষ ভয় পায়। ভোট কেন্দ্র গেলে অনেক সময় মারামারির মধ্যে পড়া লাগে। তখন কে বাচাইব?
দ্বাদশ নির্বাচন নিয়ে মনোভাব জানতে চাইলে এবারে নতুন ভোটার আশরাফুল নামে কলেজ পড়ুয়া এক ছাত্র বলেন, এবারে নতুন ভোট দিতে যাবো। আনন্দের পাশাপাশি ভয় হচ্ছে। গত নির্বাচনে আমার মা ভোট দিতে কেন্দ্রে যাওয়ার পর শুনতে পারে তার ভোট নাকি হয়ে গেছে। এবার আশা করছি এমন ভোট যেন না হয়। ভয় হওয়ার কারন জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার জন্য এটা এবার নতুন ভোট হতে পারে ঠিকই কিন্তু অনেকের কাছেই শুনছি ভোটের দিন না কি কিসের জামালে হয়, একে অপর দলের সাথে মারামারি লেগে যায় একারনে ভয় হচ্ছে।
এবারের নির্বাচনের পরিবেশ জানতে চাওয়ায় একজন পোষাক ব্যবসায়ী আতঙ্ক নিয়ে বলেন, নির্বাচন আসলেই হরতাল-অবরোধের সৃষ্টি হয়। যার কারণে আমাদের ব্যবসায় নানা রকমের পভাব পরে। আমাদের অনেক সমস্যা হয় এই হরতাল অবরোধের কারণে। তাই যত তারাতারী সম্ভব এই নির্বাচন এর কাজ শেষ হয় ততই আমাদের জন্য মঙ্গল। ভোট দিতে যাবেন কী না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন সুষ্ঠু নির্বাচন হলে অবশই যাব। নির্বাচনের সময় তো নানা ধরণের বিবাদ হয় যার ফলে আমাদের মতো সাধানর মানুষ ভয়ে বের হয় না।
গত নির্বাচনে তো ভোট দিতেই পারি নাই আমরা নারায়ণগঞ্জ বাসির সভাপতি জনাব নুরউদ্দিন এবিষয় যুগের চিন্তাকে বলেন, বর্তমানে সাধারণ মানুষের ধারনা যেমন নারায়ণগঞ্জ ৫ আসনের কথাই ধরি, এই আসনে লাঙ্গল মার্কা প্রতিক নিয়ে সেলিম ওসমান সাহেব আছেন উনি জয় লাভ করবেন, এই যে একটা ধারণা এটা সৃষ্টি হয়ে গেছে। আর এই ধারনা টাই ভোট কেন্দ্রে না যাওয়ার মুল কারণ হয়ে উঠেছে। ওনাকে যারা পছন্দ করেন তারাও ধরে নিয়েছে যে উনি জিতবেন। ভোট না দিলেও তেমন সমস্যা হবে না।
এখন যারা শক্ত কেনডিডেট যারা আছেন ভোটের দিন ওনাদের কেই ভোটার দের ভোট কেন্দ্রে আনার ব্যবস্থা করতে হবে এই বোঝা গেল। আর নির্বাচনের মাধ্যমে বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন মানুষ আশা করতেছে না। যারা এখন নারায়ণগঞ্জে ৫ টি আসনে আছেন তারাই হয়তো থাকবেন আর ওনারা যেভাবে উন্নয়নের ধারাবহিকতা নিয়ে ভাবেন সেভাবেই হবে। সুতরাং নতুন কোনো পরিবর্তন হবে বলে মনে হয় না। আর এরকম কোনো আশা করাও যায় না আর তেমন কোনো পরিবর্তন হবেও না। এস.এ/জেসি


