Logo
Logo
×

রাজনীতি

টক্কর ছাড়াই টেক্কা

Icon

বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৬ ডিসেম্বর ২০২৩, ১১:২৯ পিএম

টক্কর ছাড়াই টেক্কা
Swapno

 

তাঁরা দুই ভাই। ছোট ভাই কলেজের ছাত্র রাজনীতি থেকে উঠে আসা। বড় ভাই ব্যবসায়ী থেকে রাজনীতিতে জড়িয়ে গেছেন। বলছিলাম নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের আওয়ামীলীগের প্রার্থী একেএম শামীম ওসমান ও নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের প্রার্থী একেএম সেলিম ওসমানের কথা। এই দুইজনের বড় ভাই একেএম নাসিম ওসমান ছিলেন প্রকৃতপক্ষে আপাদ মস্তক রাজনীতিক।

 

২০১৪ সালে নাসিম ওসমানের মৃত্যুর পর নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের উপ-নির্বাচনে জাতীয় পার্টি থেকে সাংসদ নির্বাচিত হয়েছিলেন সেলিম ওসমান। সেই থেকে এখনো তিনি জাতীয় পার্টির রাজনীতির সাথেই রয়েছেন। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপি কোনোভাবে নির্বাচনে অংশ নিলে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে শামীম ওসমান ও নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে সেলিম ওসমানের জয়ের বিষয়টা অনেকটা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে যেতো।  

 

কিন্তু এবারও দেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেয়নি। এতে শামীম ও সেলিম ওসমানের পথ অনেকটা পরিষ্কার হয়ে গেছে। এ জেনো টক্কর ছাড়াই টেক্কা দেয়ার মতোই ঘটনা। বিশেষ করে এবারের নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৪ ও ৫ আসনে শামীম ওসমান ও সেলিম ওসমানের প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায়, নির্বাচনের মাঠে জয়ের ব্যাপারে বেশি একটা বেগ পেতে হবে দুই ওসমানের এমনটিই মনে করেছেন অনেকে।

 

তবে দুটি আসনে যদি হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতো তাহলে বুঝা যেতো তাদের জনপ্রিয়তা কতোটা রয়েছে নির্বাচনের মাঠে। এদিকে, শামীম ওসমান বর্তমান নির্বাচনে তিনি বিয়ের আনন্দের চাইতেও বেশি আনন্দবোধ করছেন বলেও মন্তব্য করেছেন একটি নির্বাচনী প্রচারণায়। তাঁর এমন মন্তব্যে অনেকে বলেছে ‘বিয়েতে শুধুমাত্র বর একজনই হয়। বর যেহেতু একজন সেহেতু বরের আনন্দ একটু বেশিই হবে এটাই স্বাভাবিক।   

 

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ নিয়ে ছিলো নানা জল্পনা কল্পনা। একটি অজানা শঙ্কা কাজ করছিলো সবার মনেই। তবে অনেকে আশাবাদী ছিলেন যে কোনো মূল্যে বিএনপি নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করবেন। কিন্তু না, বিএনপি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না।  তবে অন্যান্ন জেলায় স্বতন্ত্র প্রার্থীরা পিছিয়ে নেই প্রচার প্রচারণায় ।  শুধুক্রম শুধু নারায়ণগঞ্জের ক্ষেত্রে।

 

বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ-৪ ও ৫ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জেনো ঢিমে তালে তাদের প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছেন। ইতিমধ্যে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের একতারা প্রতীকের প্রার্থী সেলিম আহম্মেদের নির্বাচনী প্রচারণায় হামলা চালানো হয়েছে। তবে এ হামলার সাথে যারা জড়িত তাদেরকে এখনো গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

 

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে শামীম ওসমানের সাথে বেশ কয়েকজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এদের মধ্যে বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি, জাকের পার্টি ও  তৃণমূল বিএনপির প্রার্থীও রয়েছে। শামীম ওসমানের বিপরীতে উল্লেখ্যযোগ্য  যে ৭ জন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আছেন যারা শামীম ওসমানের সাথে মাঠে কুলিয়ে উঠবেন না বলেও মন্তব্য করেছেন অনেকে।

 

অপরদিকে, শ্রমিক নেতা কাউসার আহম্মেদ পলাশের স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি আর মাঠে নামেননি। বলা হচ্ছে তিনি ম্যানেজ হয়ে নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া থেকে পিছটান দিয়েছেন। মনোনয়ন থেকে পিছু হটেছেন জাতীয় পার্টির সালাউদ্দিন খোকা মোল্লাও।

 

অনেকটা ফাঁকা মাঠে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে গোল দেবেন শামীম ওসমান। তবু তিনি নিয়মিত উঠান বৈঠক বিভিন্ন এলাকায় করে যাচ্ছেন। তাঁর সহধর্মিনী সালমা ওসমান লিপিও শামীম ওসমানের পক্ষে প্রচার প্রচরণা  চালিয়ে যাচ্ছন। সব কিছু ঠিক থাকলে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শামীম ওসমান সাংসদ নির্বাচিত হবেন এমনটিই দৃশ্যমান রয়েছে।

 

অপরদিকে, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে সেলিম ওসমান এবার জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়ন না পাওয়ার শঙ্কা করেছিলেন অনেকে।  অনেকে আশাবাদী ছিলেন এই আসনটিতে এবার জাতীয় পার্টির সাথে সাথে নৌকার প্রার্থী করা হবে অন্য কাউকে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ওসমান পরিবারকে সম্মান জানাতে গিয়ে আওয়ামীলীগ এই আসনটিতে নৌকার কোনো প্রার্থী দেননি। আর এ কারণে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থীতা পাওয়ার ব্যাপারে সেলিম ওসমানের সহজ হয়ে গিয়েছে।

 

এই আসনে ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ, তৃণমূল বিএনপি, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির তিনজন প্রার্থী মাঠে রয়েছেন। এই আসনটিতেও সেলিম ওসমানের সাথে হেভিওয়টে কোনো প্রার্থী নেই যারা টক্কর দিতে পারবে সেলিম ওসমানকে। সব কিছু মিলিয়ে আগামী দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে শামীম ও সেলিম ওসমানের পথ অনেকটা পরিষ্কার বলেই মনে করছে রাজনৈতিক বোদ্ধা মহল। এস.এ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন