বুকে চাপা কষ্ট, তবুও শামীমের পাশে তারা
প্রলয় প্রকাশ গুপ্ত
প্রকাশ: ২৬ ডিসেম্বর ২০২৩, ১১:৪৩ পিএম
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে আওয়ামীলীগের শক্তিশালী একটি অবস্থান ছিলো অনেক আগে থেকেই। এই আসনে আওয়ামী লীগের আগের যে জৌলুশ ছিলো তা আর এখন নেই বল্লেই চলে। মুষ্টিমেয় হাতে গোনা কয়েকজন দলের জন্য নিবেদিত কর্মী ছাড়া বাকি বেশির ভাগই হাইব্রিড। দলের তৃণমূল নেতাকর্মীরা ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর অনেকে ডার্ক সাইটে চলে গেছে। অনেকে আছেন মনোকষ্টে। হাইব্রিডদের মধ্যে ইতিমধ্যে অনেকেই আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে গেছেন।
দুর্দিনের অনেক পরীক্ষিত নেতাকর্মী সাংসদ শামীম ওসমানের কাছ থেকে দূরে চলে গেছে। তবে বুকে ধারণ করে আছে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ। বুকে চাপা কষ্ট নিয়েও তারা দূর্দিনে দলের স্বার্থে শামীম ওসমানের পাশেই থাকছেন আগের মতোই । অপরদিকে বিগত কয়েক বছর যাবৎ ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জের আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ চাপা কষ্টে আছে। অদৃশ্য একটি বলয়ের কারণে তারা কোনো বিষয়ে মুখ খুলতে পারেনি।
যেখানেই গিয়েছেন সেখানেই অদৃশ্য বলয়ের কারণে তারা কাজ করতে গিয়ে বাধার সম্মুখীন হয়েছেন পদে পদে। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর শুধুমাত্র দলকে ভালোবেসে নেতাকর্মীরা নৌকার পক্ষে মিছিলসহ দলীয় কর্মসূচী পালন করছেন। এমনটিই জানিয়েছেন ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ। শুধু ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জই নয়, সদর ও বন্দরের আওয়ামীলীগ ও জাতীয় পার্টির অনেক নেতাকর্মী ঐ বলয়ের দ্বারা চাপে ছিলেন বলেও জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের দাবী।
বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাথে নারায়ণগঞ্জের নাম অষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে আছে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকান্ডের পর, নারায়ণগঞ্জে আওয়ামীলীগ অনেকটা কোনঠাসা হয়ে পড়েছিলেন। ৮০’’শ দশকের পর বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা দেশে আসেন। সারা দেশের ন্যায় নারায়ণগঞ্জেও আওয়ামীলীগ সু-সংগঠিত হতে থাকে। ১৯৯১ সালে বিএনপির সাথে জাতীয় নির্বাচনে পরাজিত হয় দলটি। ১৯৯৬ সালে আওয়ামীলীগ জয় লাভ করে সরকার গঠন করে।
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে সাংসদ নির্বাচিত হন একেএম শামীম ওসমান। সেই বছর ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জে শামীম ওসমানের কর্মী সমর্থক ছিলো না বললেই চলে। তবে দলীয় মনোনয়ন দেয়ার কারণে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ দল নেতৃবৃন্দ শামীম ওসামনের জয়ের ব্যাপারে একাট্টা হয়েছিলেন। ২০০১ সালে বিএনপি জয় লাভ করে। শামীম ওসমান দেশ ছেড়ে বিদেশে পাড়ি জমান । নেতাকর্মীরা নেতাশূন্য হলেও বিদেশের মাটি থেকে দলীয় কর্মীদের শামীম ওসমান যোগাযোগ রেখেছিলেন।
২০০৮ সালে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে আওয়ামীলীগের মনোয়ন পান চলচিত্রের মিষ্টি মেয়ে সারাহ বেগম কবরী। কবরী সাংসদ নির্বাচিত হওয়ার পর ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জে শামীম ওসমানের বলয়ের দুটি ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। যা পরবর্তীতে শামীম ওসমান ও কবরীর মধ্যে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়। বিগত দিনে যারা কবরীর বলয়ে ছিলেন তারা এখনো কোনঠাসা হয়ে আছেন বিভিন্ন এলাকায়। তবে তারাও আওয়ামীলীগের একনিষ্ট কর্মী।
২০১৪ সালে শামীম ওসমান সাংসদ নির্বাচিত হওয়ার পর ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জে একটি বলয় পুরো ঝুট সেক্টরসহ বিভিন্ন সেক্টর তাদের দখলে নিয়ে যায়। সেই থেকে অদ্যাবধি ঐ বলয়টি সদর, বন্দর, ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জে তাদের অবস্থান ধরে রেখেছেন। যার কারণে ৪টি থানা এলাকার আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ কোনো ভাবে মুখ খুলতে পারেনি। বর্তমানেও একই অবস্থা চলছে।
আওয়ামীলীগ ও জাতীয় পার্টির অনেক নেতা কর্মী মনোকষ্ট নিয়ে রাজনীতির মাঠে রয়েছেন। এবার দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে সাংসদ শামীম ওসমানের পাশে দলীয় নেতাকর্মী রয়েছেন। তবে তারা এক বুক কষ্ট নিয়েও তার পাশে থেকে কাজ করে যাচ্ছেন। না পারছেন নিজেদের কষ্টের কথা কাউকে বলতে না পারছেন সইতে। শুধু মাত্র শেখ হাসিনার নির্দেশকে সম্মান জানিয়ে তারা শামীম ওসমানের পাশে রয়েছে।
তথ্যমতে, নারায়ণগঞ্জ সদর, ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জের বিভিন্ন সেক্টর একটি বলয়ের কাছে জিম্মি হয়ে আছে দিনের পর দিন। আওয়ামী লীগের কোনো নেতাকর্মী কোনো সেক্টরে গিয়ে তাদের কোনো মতামত তো দূরের কথা, কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিতেও পারেননি।
শামীম ওসমানের কাছে নেতাকর্মীরা তাদের এ ব্যাথা বলতেও সাহস পাননি। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে নৌকার মনোনীত হয়েছেন আলহাজ্ব একেএম শামীম ওসমান। নেতাকর্মীদেরন মনে শত কষ্ট থাকার পরও তারা শুধু মাত্র দলীয় নির্দেশনার কারণে শামীম ওসমানের পাশে থেকে নৌকার জয়ের ব্যাপারে মাঠ ঘাট চষে বেড়াচ্ছেন। তবে বুকে আছে চাপা কষ্ট।
এ ব্যাপারে ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা কমিটির একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, শামীম ওসমান একজন দক্ষ নেতা এতে কোনো সন্দেহ নেই। নারায়ণগঞ্জে তিনি আওয়ামী লীগকে ঢেলে সাজাতে দিন রাত কাজ করে যাচ্ছেন। উন্নয়ের ব্যাপারেও তিনি অপ্রতিদ্বন্দ্বী।
একটি বলয়ের কাছে নেতাকর্মীরা জিম্মি দিনের পর দিন। কেউ ঐ বলয়ের বিরুদ্ধে শামীম ওসমানের কাছে কোনো অভিযোগ করতেও সাহস পায়নি। তিনি সব কিছু অবগত আছেন। কিন্তু এ ব্যাপারে তিনি কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। তবুও দলের জন্য নৌকার জন্য আমরা শামীম ওসমানের পাশে আছি থাকবো। এস.এ/জেসি


