# সেলিম ওসমান ছাড়া অন্য কারো পোস্টার নেই
আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ব্যস্ততাময় সময় অতিবাহিত করছে নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনের এমপি প্রার্থীরা। জেলার ৫টি আসনে প্রায় ৪০ জন প্রার্থী থাকলেও প্রতিটি আসনে ২ থেকে তিন জন প্রার্থী মাঠে নেমে প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। নারায়ণগঞ্জ-১ এবং নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে হাড্ডা লড়াইয়ের সম্ভাবনা দেখছে রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ। কিন্তু বাকি তিনটি আসনে তেমন কোন শক্তিশালী প্রার্থী না থাকায় তেমন একটা আলোচনা নেই।
তাছাড়া এই আসনে কাগজে কলমে অন্য দলের প্রার্থী থাকলেও তারা ভোটের মাঠে প্রচারণায় নেই। কিন্তু এটা রাজনৈতিক বোদ্ধামহলে ব্যাপক সারা ফেলেছে। আবার কেউ কেউ বলছে তার বিপক্ষে যারা প্রার্থী রয়েছেন তাদেরকে তিনি ম্যানেজ করে নিয়েছেন যাতে তারা প্রচারণা না চালান। কেননা অন্য মার্কার প্রার্থীরা প্রচারনা চালালে ভোটাররা যদি সেই মার্কায় ভোট প্রয়োগ করে। যা নিয়ে ভয় রয়েছে লাঙলের প্রার্থীর।
এদিকে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী সেলিম ওসমান একক ভাবে মাঠ চষে বেরাচ্ছেন। তার বিপক্ষ কোন প্রার্থীকে মাঠে দেখতে পান না ভোটাররা। তিনিও জয়ের ব্যাপারে অনেকটা নিশ্চত জেনেও ভোটারদের উপস্থিতি বাড়ানোর চ্যালেঞ্জ নিয়ে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। একই সাথে তিনি দলমত নির্বিশেষে আওয়ামী লীগ বিএনপি জাপা সকলকে নিয়ে মাঠে নেমে ভোটার উপস্থতি বাড়াতে চান। কিন্তু তার এই চেষ্টা কতটুকু সফল হবে তা ভোটের দিনই বুঝা যাবে।
কিন্তু লাঙলের বিপক্ষের প্রার্থীদের প্রচারনা তো দূরের কথা তাদের মার্কাটাও জানেন না সেলিম ওসমান। এমনকি বিপক্ষ প্রার্থীদের কোন ব্যানার ফেস্টুনও রাস্তা ঘাটে দেখা যায়নি। সেলিম ওসমানের বিপক্ষ প্রার্থীরা হলেন, ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশের এ এম এম একরামুল হক, তৃণমূল বিএনপির আব্দুল হামিদ ভাষানী ভূঁইয়া এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি ছামসুল ইসলাম। এখানে আবদুল হামিদ ভূঁইয়া সোনালী আঁশ মার্কা নিয়ে ভোটের মাঠে প্রচারনায় থাকলেও কাগজে কলমে তিনি প্রার্থী হয়ে রয়েছেন।
অপরদিকে গতকাল নগরীরর নাসিক ১৫ নম্বর ওয়ার্ড এলাকা থানা পুকুর পাড়ে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের এমপি প্রার্থী সেলিম ওসমান বলেছেন, আমার বিপক্ষে কারা প্রার্থী হয়েছেন আমি তাদেরকে চিনিও না। তাদের মার্কা কি তাও জানি না। কারো যদি আমাকে অপছন্দ হয় কিংবা আমার উপর রাগ থাকে তাহলে তিনি আমাকে ভোট না দিয়ে অন্য যে কোন মার্কা ভোট দিয়েন। তাতে আমার কোন আপত্তি থাকবে না।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনটি সদর বন্দরের বিভিন্ন ইউনিয়নে লাঙলের প্রার্থী সেলিম ওসমান ব্যতিত অন্য কোন প্রার্থীর ব্যনার ফেস্টুন নেই। এমনকি তারা ভোটের মাঠে প্রচারনায় নেই। একমাত্র এখানকার বর্তমান এমপি সেলিম ওসমানের ব্যানার রয়েছে। গতকাল সদর উপজেলার আলীরটেক, গোগনগর, নাসিক ১৭, ১৮, ১৪, ১৫ নম্বর ওয়ার্ড ঘুরে দেখা যায় এই এলাকা গুলোতে শুধুমাত্র সেলিম ওসমানের লাঙল মার্কার ব্যানার ফেস্টুন রয়েছে। অন্য কোন প্রার্থীদের মার্কা নিয়ে যেমন প্রচারনা নেই তেমনি ভাবে তাদের ব্যনার ফেস্টুনেরও দেখা নেই।
জানা যায়, নির্বাচন নিয়ে বার বার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন বাংলাদেশে এবার একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য তার দৃঢ় সংকল্প পুনর্ব্যক্ত করেছেন। সেই সাথে তিনি আসন্ন নির্বাচনে এমপি প্রার্থীদের নিজ যোগ্যতায় পাশ করে আসার নির্দেশনা দিয়েছেন। আর এজন্য এক বছর আগে থেকে তিনি মানুষের কাছে গিয়ে কাজ করার জন্য বলেছেন। কিন্তু তার এই কথা বর্তমান এমপিরা তেমন কোন আমলে নেন নাই। তবে এখন নির্বাচনের মাঠে এসে তা হারে হারে টের পাচ্ছে।
নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের তৃনমূল বিএনপির প্রার্থী আব্দুল হামিদ ভাষানি জানান, আমরা আমাদের ব্যানার ফেস্টুনের অর্ডার দিয়েছি। কিন্তু ছাপা খানা দিতে দেরি হচ্ছে। এছাড়া আজ থেকেই আামাদের পোস্টার টানানো হবে। অথচ ১৮ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দ হলেও তারা এখনো মার্কা নিয়ে মাঠে প্রচারনা নেই।
তাই রাজনৈতিক বোদ্ধামহলে আলোচনা হচ্ছে অন্য প্রার্থীদের মার্কা যেন প্রচার না হয় তার জন্য বর্তমান এমপি প্রার্থী তাদের ম্যানেজ করে নিয়েছে। যাতে তারা নিজেরাই কোন ব্যনার ফেস্টুন টানিয়ে প্রচার না করেন। তাছাড়া তিনি অনেকটা ভয়ে রয়েছেন। আর এজন্য তিনি একাই নির্বাচনী প্রচারনায় মাঠ দাবড়িয়ে বেরাচ্ছেন। যার জন্য সচেতন মহলে আলোচনা হচ্ছে অন্য প্রার্থীদের প্রচারনা কে সেলিম ওসমানের ভয় নাকি তিনি তাদের ম্যানেজ করে নিয়েছেন। এস.এ/জেসি


