Logo
Logo
×

রাজনীতি

নির্বাচনে নেই তাই আক্রোশও নেই

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ২৭ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৮:৪১ পিএম

নির্বাচনে নেই তাই আক্রোশও নেই
Swapno

 

# প্রায় প্রতিটি বক্তব্যেই ব্যক্তি গিয়াসকে টার্গেট করে বক্তব্য দিতেন শামীম ওসমান

 

 

গত ১২ অক্টোবর শ্রমিক লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এক অনুষ্ঠানে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের বিএনপি মনোনীত সাবেক সাংসদ ও নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিনের তৃতীয় বিয়ের খবর প্রচার করে আলোচনায় এসেছিলেন একই আসনের আওয়ামী লীগ মনোনীত সাংসদ একেএম শামীম ওসমান। একই অনুষ্ঠানে তিনি ৭৮ বছরের বুড়ো ২৩ বছরের এক মেয়েকে বিয়ে করেছেন উল্লেখ করে গিয়াস উদ্দিনের বিরুদ্ধে বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালীন সময় ১৭ জনকে খুন করেছেন বলেও দাবি করেন। শুধু তা-ই নয়।

 

তিনি বলেছেন, বয়সে আমার অনেক বড়, আমার শাশুড়ির বন্ধু, বয়স নাকি তার ৭৮ নাকি ৭৯ বছর। এ বুড়া বয়সে ধরা খেয়ে ২৩ বছরের মেয়েকে বিয়ে করছেন। শামীম ওসমান নতুন বিয়ে করা নারীর নাম ঠিকানা পরে বলে দিবেন বলে উল্লেখ করেন। তবে গিয়াস উদ্দিনের বিরুদ্ধে শামীম ওসমানের বিষোদাগার নতুন কিছু নয়। এর আগেও বিভিন্ন জনসভা ও আলোচনা সভায়ও গিয়াস উদ্দিনের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে বিষোদাগার করেন তিনি।

 

বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী গিয়াস উদ্দিনের বিরুদ্ধে এই প্রপাগান্ডা শুরু হয় বিএনপির রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তন হওয়ার সম্ভাবনার সংবাদ প্রকাশের পর থেকেই। কিন্তু আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ না করায় এবং প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে গিয়াস উদ্দিনের না থাকার বিষয়টির নিশ্চয়তা পাওয়ার পর থেকে আবার সেই ব্যক্তিগত আক্রোশ নিয়ে বক্তব্য দেওয়াও কমে যায়। এমনকি বিএনপি নেতা গিয়াসকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য আসন্ন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার জন্য গিয়াস এবং তার ছেলে দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়ে মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করার নাটক মঞ্চস্থ করা হয় বলে বিএনপির দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

 

শুধু নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগই নয়, বলা হয়ে থাকে নারায়ণগঞ্জের বর্তমান রাজনীতির প্রভাবশালী ব্যক্তি হলেন একেএম শামীম ওসমান। নারায়ণগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী ওসমান পরিবারের তৃতীয় প্রজন্মের এই সদস্য নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন থেকে সর্বপ্রথম নির্বাচিত হন ১৯৯৬ সালের ১৬ জুনের নির্বাচনে। তবে এরপরের নির্বাচনেই হোঁচট খান তিনি। আর সেই নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের এই প্রভাবশালী নেতাকে পরাজিত করে নায়কের ভূমিকায় আবির্ভূত হন সেই সময় আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপিতে সদ্য যোগদান করা ধানের শীষের প্রার্থী মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন।

 

সেই নির্বাচনের পরপরই দেশ ছেড়ে যান শামীম ওসমান। এরপর ২০০৬ সালে বিএনপি সরকারের মেয়াদ শেষে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দুই বছরের শাসনামলের সময় থেকে দীর্ঘদিন রাজনীতি থেকে নিজেকে আড়ালে রাখেন বিএনপির এই সাবেক এমপি। এরপর নারায়ণগঞ্জ বিএনপির বিভিন্ন নাটকীয় মোড়ের কারণে আবারও গিয়াসকে দায়িত্ব দেয়ার দাবি ওঠে বিএনপির বিভিন্ন সংগঠন থেকে। যা মিডিয়ায় ওঠে আসে।

 

তথ্যমতে, তখন থেকেই গিয়াসকে নিয়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয় নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের সিংহ পুরুষ খ্যাত এবং গিয়াসের কাছে পরাজিত হওয়ার স্বাদ গ্রহণ করা শামীম ওসমান। এরপর গত বছরের ১০ নভেম্বর জেলা কমিটির আহ্বায়ক পদের মাধ্যমে আবারও বিএনপির রাজনীতিতে ফিরে আসেন গিয়াস। যার পর থেকে গিয়াসকে লক্ষ্য করে ধারাবাহিকভাবে বক্তব্য দিতে শুরু করেন শামীম।

 

সে সময় থেকে শামীম ওসমান তার বক্তব্যে বিএনপির চেয়েও বেশি টার্গেট করেন সাবেক এমপি গিয়াসকে। যা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার প্রায় পূর্ব সময় পর্যন্ত বহাল ছিল বলে মনে করা হয়। এমনকি রাজনীতির বাইরে গিয়ে গিয়াস উদ্দিনের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বিষয় নিয়েও তীরবিদ্ধ করেন তিনি। তবে বিএনপি নির্বাচনে না আসার বিষয়টি পরিষ্কার হওয়ার পর আবারও শামীম ওসমানের বক্তব্যের সুর ঘুরেছে বলে মনে করেন স্থানীয়রা।

 

সর্বশেষ আসন্ন নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে সৃষ্টি হয় নাটকীয়তা। নির্বাচন কমিশন থেকে জানানো হয়, নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে নির্বাচনের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন এবং তার ছেলে মোহাম্মদ কায়সার মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। কিন্তু বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন বিএনপি নেতা গিয়াস উদ্দিন।

 

তিনি ফেসবুকে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পোস্ট করে দাবি করেন, তিনি স্বতন্ত্র থেকে কোনো মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেননি। সরকারি দলের কতিপয় গোষ্ঠী যোগসাজশ করে তা ছড়াচ্ছে। এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বানও জানান তিনি। সেখানে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী একদফা আন্দোলনে আছি। সরকারের পদত্যাগ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত বিএনপি নির্বাচনে যাবে না।’

 

উল্লেখ্য ১৯৯৬ সালের জুনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী কমান্ডার সিরাজুল ইসলামকে পরাজিত করে প্রথমবার সাংসদ হওয়ার স্বাদ গ্রহণ করেন শামীম ওসমান। এরপর ২০০১ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপির মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিনের কাছে পরাজিত হন তিনি। ২০০৮ সালের নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পাননি তিনি। এরপর ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন তিনি।

 

২০১৮ সালের নির্বাচনে চারদলীয় জোটের প্রার্থী মনির হোসেন কাশেমীকে পরাজিত করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন শামীম ওসমান। ২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে বিএনপিতে যোগ দিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন তৎকালীন কেন্দ্রীয় কৃষক লীগের সহসভাপতি মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন। ওই নির্বাচনে গিয়াস উদ্দিন শামীম ওসমানকে হারিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সেই সময় থেকেই এই দুই নেতার মধ্যে কঠিন বিরোধ সৃষ্টি হয় বলে মনে করা হয়। এস.এ/জেসি 


 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন