নৌকার প্রার্থী হতে না পারলেও নৌকার কাণ্ডারি হতে আপত্তি নেই তার। দেরিতে হলেও মান অভিমান ঝেরে ফেলে কাছা দিয়ে বৈঠাহাতে নৌকার প্রচারণায় শামিল হয়েছেন আনোয়ার হোসেন। প্রসঙ্গত, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে নৌকার প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আনোয়ার হোসেন।
কিন্তু এই আসনে আওয়ামী লীগের কোন প্রার্থীই রাখা হয়নি। আসন ভাগাভাগির খেলায় এই আসনটি জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দেয় আওয়ামী লীগ। ফলে এখানে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন ওসমান পরিবারের সেলিম ওসমান। এ কারণে বিপাকে পড়েছেন আনোয়ার হোসেন।
নৌকা না থাকায় অভিমানে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে লাঙ্গল মার্কার প্রচারণা থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রেখেছেন আওয়ামী লীগের এই নেতা। জেলা এবং মহানগর আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মীই তাকে অনুসরণ করছেন। কিন্তু মনেপ্রাণে যিনি নৌকার ধারক ও বাহক, তিনি কি আর নৌকার নির্বাচনী প্রচারণায় না গিয়ে ঘরে বসে থাকতে পারেন! পারেন না। তাই আনোয়ার হোসেনকে এখন নিজ আসন ছেড়ে নারায়ণগঞ্জের অন্য যে আসনে নৌকা প্রতীক রয়েছে সেখানে স্বশরীরে হাজির হয়ে নৌকাপ্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালাতে দেখা যাচ্ছে।
গত রোববার আড়াইহাজারে নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের নৌকার প্রার্থী নজরুল ইসলাম বাবুর নির্বাচনী উঠান বৈঠকে আবেগঘন বক্তৃতা করেন। তিনি আড়াইহাজারবাসীকে নৌকায় ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ৭ জানুয়ারি উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করুন। বিএনপি ও জামায়াতকে লক্ষ্য করে বলেন, অগ্নিসন্ত্রাস করে নির্বাচন বন্ধ করা যাবে না। আপনাদের দেয়া আগুনে আপনারা নিজেরাই পুড়ে মরবেন।
পরের দিন সোমবার তিনি চলে গেছেন নারায়ণগঞ্জ-১ আসন রূপগঞ্জে। ওই আসনের নৌকার প্রার্থী গোলাম দস্তগীর গাজীর নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেন আনোয়ার হোসেন। তিনি গাজীকে সাথে নিয়ে রূপগঞ্জের অলিগলিতে গণসংযোগ এবং সাধারণ ভোটারদের কাছে নৌকার হ্যান্ডপোস্টার বিলি করেন।
এ সময় তিনি ভোটের দিন সবাইকে সকাল সকাল ভোটকেন্দ্রে গিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে নৌকা মার্কায় ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আপনাদের প্রতিটি ভোট খুবই মূল্যবান। ভোট আপনাদের পবিত্র আমানত। এই আমানতকে যোগ্যস্থানে সংরক্ষণ করুন। নৌকা হচ্ছে শেখ হাসিনার মার্কা। এই মার্কায় আপনার পবিত্র আমানত জমা রাখুন। তিনি বলেন, নৌকা বাঁচলে দেশ বাঁচবে।
নারায়ণগঞ্জ-৩(সোনারগাঁ) আসনে কায়সার হাসনাত এবং নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে শামীম ওসমান নৌকার প্রার্থী। যদি তারা ডাকেন, তবে নিশ্চয়ই তাদের ডাকে সাড়া দিয়ে তিনি নৌকার নির্বাচনী প্রচারণায় সামিল হবেন বলেই ধারণা করা হচ্ছে। আড়াইহাজার এবং রূপগঞ্জে নৌকার নির্বাচনী প্রচারে তিনি স্বেচ্ছায় অংশ নিয়েছেন নাকি প্রার্থীদের আমন্ত্রণে গিয়েছেন, তা জানা যায়নি।
যতদূর জানা গেছে, শামীম ওসমান এখনো আনোয়ার হোসেনকে তার নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিতে ডাকেননি। আর ডাকলেও তিনি অংশ নেবেন কিনা এ নিয়েও সংশয় আছে। কারণ ওসমান পরিবারের সাথে তার সম্পর্ক শীতল বলে চাউর আছে। তবে নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানায়, অন্তত নৌকা মার্কার নির্বাচনী প্রচারে নামতে কারো ডাকের অপেক্ষায় থাকার মতো নেতা আনোয়ার হোসেন নন। এস.এ/জেসি


