দেশের রাজনীতিতে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের গুরুত্ব অনেক। দেশবাসী আর যাই হোক জাতীয় ইস্যুতে নারায়ণগঞ্জের দিকে চোখ রাখেন। নারায়ণগঞ্জ মানেই ‘এক্সট্রা’ কিছু। এবারের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের প্রার্থীদের সাথে ঢিমে তালে প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন স্বতন্ত্রসহ বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের প্রার্থীও। তবে শামীম ওসমান স্বতন্ত্র প্রার্থীদের অতোটা গোনায় ধরছে না।
কিছুটা মাথায় রেখেছেন তৃণমূল বিএনপির প্রার্থীর বিষয়টা। তবে তিনি যুতসই খেলোয়ার না পাওয়ায় এবার তিনি ‘খেলা’ করা বা ‘ঘন্টা’ ঠিক মতো বাজাতে পারছেন না। বাঘে মহিষের লড়াই দেখা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। তবে তিনি এবারের নির্বাচনে শক্তিশালী প্রার্থী না থাকলেও রীতিমতো উঠান বৈঠক বা প্রচার প্রচারণা ঠিকই চালিয়ে যাচ্ছেন। যদি বিএনপি নির্বাচনে আসতো তাহলে শামীম ওসমানকে আরো বেশি ঘাম ঝড়াতে হতো বলে মনে করছে বিশ্লেষকরা।
রাজনীতির মাঠে আলোচিত সমালোচিত নাম শামীম ওসমান। তিনি বিভিন্ন সময় রাজনীতির মাঠে নতুন নতুন শব্দ ব্যবহার করে থাকেন। যা প্রতিপক্ষ থেকে রাজনীতির মাঠেও ভাইরাল ভাইরাল শব্দ বলেও পরিচিত। এর মধ্যে ‘খেলা হবে’ ও ‘ঘন্টা বাজানো’র মতো শব্দও রয়েছে।
এবারে নানা নাটকীয়তায় দেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেয়নি। যদি অংশ নিতেন, তাহলে শামীম ওসমান কিভাবে খেলতেন বা কতো জোরে ঘন্টা বাজাতে পারতেন সেদিকটাই জনগন বেশি খেয়াল করতেন। যেহেতু বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেয়নি, সেহেতু শামীম ওসমানের খেলাও কেউ দেখতে পারবে না এবার। আর ঘন্টা বাজানো তো অনেক দূরের কথা। এমনটাই মনে করছে সাধারণ মানুষ।
সাধারণ মানুষের মতে, বিগত ১০ বছর সংসদের বাইরে থেকে বিএনপি অনেকটা পিছিয়ে পড়েছে। এছাড়াও বিএনপির দলীয় সিদ্ধান্তেও কিছুটা ভুল রয়েছে। দলটি নেতৃত্ব শূণ্য হয়ে যাওয়ায় দিক নির্দেশনা দেয়ার ব্যাপারে তেমন কোনো ব্যক্তি নেই। যার কারণে কোনো ধরনের আন্দোলন সংগ্রামে দলটি আলোর মুখ দেখতে পারেনি। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জে বিএনপির আন্দোলন সংগ্রাম চাঙ্গা করতেও তেমন কোনো শক্তিশালী প্রতিপক্ষ শামীম ওসমানের সামনে দাঁড়াতে পারেনি।
নারায়ণগঞ্জে আগে বিএনপির যে নেতাকর্মীর মনোবল ছিলো এখন আর সেরকম নেতাকর্মীও নেই,দলটির মধ্যে চেইন অব কমান্ডও নেই। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জে রাজপথ কাঁপানোর মতো বিএনপির শক্তিশালী ব্যক্তি না থাকার কারনে এ অবস্থা। আর এই কারনেই শামীম ওসমান নারায়ণগঞ্জে নিজে খেলার কোনো জন্ম দিতে পারছেন না বা খেলতেও পারছেন না।
এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির শক্তিশালী প্রার্থী থাকলে শামীম ওসমান হয়তো খেলা দেখাতেন সেই খেলায় হয়তো তিনি পরাজিত হতেন অথবা জয়ী হতেন। কিন্তু খেলোয়ার বা প্রতিপক্ষ না হলে শামীম ওসমান কার সাথে খেলবেন এমন মন্তব্যও অনেকের।
গত ২০২২ সালের ২৯ জানুয়ারী শামীম ওসমান নম পার্কের একটি কর্মী সভায় বক্তব্যে বলেছিলেন, ‘খেলা হবে। এবার আমরাও খেলবো। এবারের খেলা হবে কাবাডির মতো। লাফ দিয়ে প্রতিপক্ষের মাথায় উঠে চেপে বসবো। আমাদের ওপর আঘাত আসতে পারে। কিন্তু আমাদের রুখতে পারবে না কেউ। কারণ আমাদের সেনাপতি হলেন জননেত্রী শেখ হাসিনা। আমরা তার সৈনিক। শেখ হাসিনার সৈনিকরা কখনো হারতে পারে না’। এস.এ/জেসি


