প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর প্রচারণাকে ভয় করেন শামীম ওসমান
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৯ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৪:০৩ পিএম
আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহনের আর মাত্র ১০ দিন বাকি। আর এজন্য নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি প্রার্থীরা ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টায় ব্যস্ত সময় পার করছে। সেই সাথে হাটে ঘাটে মাঠে নেমে মানুষের কাছে গিয়ে এমপি প্রার্থীরা প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু নারায়ণগঞ্জ ৪ আসনে নৌকার প্রার্থী শামীম ওসমানের বিপক্ষে কারা প্রার্থী হয়ে রয়েছে তা ভোটাররা ঠিক মত জানেন না।
এছাড়া এখানে নৌকার বিপক্ষে তেমন কোন শক্তিশালী প্রার্থী না থাকায় অনেকটা নির্ভার শামীম ওসমান। কাগজে কলমে দুই একজন প্রার্থী থাকলেও তাদেরকে প্রচারণায় বাধা দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ দিয়েছে তৃনমূল বিএনপির প্রার্থী আলী হোসেন। শামীম ওসমানের কর্মী সমর্থকরা প্রচারনায় বাধা দিয়ে হামলা করেছে বলে অভিযোগ বিপক্ষ প্রার্থীর। তাই রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা প্রশ্ন তুলেন বিপক্ষ প্রার্থীর প্রচারণাকে শামীম ওসমানের এত ভয় কেন।
এদিকে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে নৌকার প্রার্থী শামীম ওসমানের কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে প্রচারণায় বাধা, হামলা ও ভাঙচুর এবং কর্মীদের মারধরের কথা তুলে ধরে লিখিত অভিযোগ করেছেন তৃণমূল বিএনপির প্রার্থী আলী হোসেন। মঙ্গলবার দুপুরে আসনটির নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটির সভাপতি এবং যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজের কাছে এ লিখিত অভিযোগ দেন সোনালী আঁশের এই প্রার্থী।
আলী হোসেন উল্লেখ করেন, সোমবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার বটতলা রেললাইন এলাকায় প্রচারণা চালাচ্ছিলেন তাঁর কর্মী-সমর্থকেরা। এ সময় প্রতিদ্বন্দ্বী নৌকা প্রতীকের প্রার্থী শামীম ওসমানের ১০-১২ জন সমর্থক প্রচারণায় বাধা দেন। প্রচারে ব্যবহৃত মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। ভাঙচুর করা হয় মাইক ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা।
কর্মী ও অটোরিকশাচালককে মারধর করা হয়। এলাকায় নৌকা ছাড়া আর কোনো প্রতীকের প্রচার-প্রচারণা চালানো যাবে না বলে হুমকি দেন শামীম ওসমানের কর্মীরা। বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনকে জানানো হলেও প্রতিকার পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করেন আলী হোসেন। অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ বজায় রাখতে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানান তিনি।
অপরদিকে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের নৌকার প্রার্থী শামীম ওসমান একাই প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। তার বিপক্ষে প্রার্থীদের কাউকে তেমন ভাবে প্রচারণার মাঠে দেখা যায় না। শামীম ওসমানের বিপক্ষ প্রার্থীরা হলেন, সোনালী আঁশ মার্কার প্রার্থী তৃনমূল বিএনপির মনোনীত আলী হোসেন, বাংলাদেশ কংগ্রেস পার্টির প্রার্থী গোলাম মোর্শেদ রনি, জাকের পার্টিল মুরাদ হোসেন জামাল, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির শহিদ উন নবী, সেলিম আহমেদ, হাবিবুর রহমান।
তারা নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে নৌকার বিপক্ষে প্রার্থী হলেও তাদের কাউকে প্রচারণায় দেখা যায় না। তৃনমূল বিএনপির মত দুই একজন প্রচারণায় নামলে হামলা ভাঙচুরের ভয়ে বাকিরা আর মাঠে নামছে না। অথচ বার বার বলা হয়েছে নির্বাচনে কোন প্রার্থীকে যেন বাধা দেয়া না হয়। কিন্তু নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে শামীম ওসমানের বিপক্ষে কোন প্রার্থী প্রচারণায় নামলেই তাদের উপর হামলা করা হয় বলে অভিযোগ উঠে।
আর এজন্য সচেতন মহল প্রশ্ন তুলেন, নৌকার বিপক্ষ প্রার্থীর প্রচারণাকে শামীম ওসমানের এত ভয় কেন। কেননা তার সমর্থক কারো উপর হামলা করলে তার দায়ভার তিনি এড়িয়ে যেতে পারেন না। তাহলে কি শামীম ওসমান নিরব ভোটকে ভয় পেয়ে বিপক্ষ প্রার্থীদের উপর একের পর এক হামলা করা হচ্ছে।
যোগাযোগ করা হলে তৃণমূল বিএনপির প্রার্থী আলী হোসেন বলেন, ‘প্রচারণা চালাতে গিয়ে আমার লোকজন বাধার সম্মুখীন হচ্ছে। আমার লোকজনকে মারধর করে, মাইক ভাঙচুর ও ফেস্টুন ভাঙচুরের বিষয়টি মুঠোফোনে আমি ওসি সাহেবকে জানিয়েছি। এর আগে এখানে সেলিম আহমেদ এর উপর হামলা করা হয়। তখনও প্রশাসন তেমন কোন ব্যবস্থা নেন নাই।
পরিচিত ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শওকত আলী বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। কেউ অতি উৎসাহী হয়ে কিছু করে থাকলে খোঁজ নিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সমানভাবে প্রচার-প্রচারণা চালাবে, নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আমরাও একমত। তাই কাউকে প্রচারণা চালাতে বাধা দেওয়ার সুযোগ নেই।
যোগাযোগ করা হলে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহমুদুল হক জানান, নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটি বরাবর তৃণমূল বিএনপির প্রার্থী অভিযোগ দিয়েছেন। তাঁরা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবেন। এস.এ/জেসি


