৪ জানুয়ারী ওসমানী স্টেডিয়ামে শেখ হাসিনার শেষ নির্বাচনী সভা
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৯ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৫:২২ পিএম
# এই সভায় মেয়র আইভী, আনোয়ার ভাই এবং জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি থাকবেন বলে আমি মনে করি
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের প্রার্থী একেএম শামীম ওসমান বলেছেন, আমাদের পার্টির সাধারণ সম্পাদক গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে নিশ্চিত করেছেন, আগামী ৪ জানুয়ারি বিকাল আড়াইটায় ফতুল্লার অক্টোফিস শামসুজ্জোহা ক্রীড়া কমপ্লেক্স স্টেডিয়ামে জাতির পিতার কন্যা আসবে এবং বক্তব্য রাখবে।
সারাদেশে নির্বাচনী প্রচারণার শেষ সমাবেশ ঢাকায় না করে আমাদের এখানে করবেন। আমাদের যেভাবে তিনি মূল্যায়ন করেছেন এটায় আমরা গর্ববোধ করছি। জাতির প্রচার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনারে আগমন বার্তার খবরটি দিতে গিয়ে আমি হয়তো কিছু আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছি আপনার আমাকে ক্ষমা করবেন।
বৃহস্পতিবার (২৮ ডিসেম্বর) বিকাল সোয়া তিনটা নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়ায় রাইফেল ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে অংশ নিয়ে একথা বলেন তিনি। তিনি আরও বলেন, যে স্টেডিয়ামে প্রধানমন্ত্রী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে এই স্টেডিয়ামে ঈদের জামাতে এক লক্ষ পঁচিশ হাজার লোক নামাজ পড়তে পারে।
সে হিসেবে প্রায় আড়াই লক্ষ লোক এখানে জায়গা হবে। পাশাপাশি রাস্তাও আছে। এখানে আমাদের সাধারণ সম্পাদকসহ আরও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ থাকবে।
গণমাধ্যম কর্মীদের নানা প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, আমার এলাকায় আর তেমন কাজ নেই। আমি স্বাধীনতার পক্ষের সকল শক্তিকে বলব সবাই যেন এদিন আসে। স্মরণকালের বৃহত্তর সমাবেশ আমরা নারায়ণগঞ্জে করতে পারবো ইনশাআল্লাহ।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ দেশকে ব্যার্থ রাষ্ট্র বানানোর চেষ্টা হচ্ছে। একটা লোক গাছ লাগায় ফল খায়। আমরা গাছ লাগাবো, মানুষ যেন একটু কষ্ট করে ফলটা খায়। আমি আমার নির্বাচনী প্রচারণায় সবাইকেই চাই, শুধু আইভী কেন, আমাদের মাঝে কোন বিভেদ নেই।
নির্বাচনের পরিস্থিতি জানিয়ে তিনি বলেন, সারা দেশেই নির্বাচনের পরিস্থিতি ভাল। আমরা একটি অদৃশ্য শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করছি। তারা ৭১ সালেও ছিল। সেই রাজাকার আলবদরের সাথে আরেকটি দল যুক্ত হয়েছে। আমি ওদের সন্ত্রাসী দল বলি। তাদের সাথে আরও কিছু সুশীল আছে। তিনি বলেন, আমি এর আগে পাঁচটি নির্বাচন করেছি।
এবার সবচেয়ে বেশি উৎসাহ দেখেছি। সাধারণ মহিলারাও বলে মানবাধিকারের প্রশ্ন আমার দেশে আসে, ফিলিস্তিনে আসে না। বাংলাদেশের মানুষ এখন অনেক স্মার্ট।
নারায়ণগঞ্জের বেশ কয়েক আওয়ামী লীগ নেতা নির্বাচনী মাঠে নেই এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পাঁচটি নির্বাচন করেছি। ২০০১ সালেও আমি জয়ী হয়েছিলাম। সেই রেজাল্ট বদলে বিএনপিকে পাশ করানো হয়। আমি কখনও হারিনি। সকল নির্বাচনের চেয়ে এবারের নির্বাচন কঠিন। ৭০ সালের নির্বাচন ছিল দেশ স্বাধীনের নির্বাচন।
এবার তারা চাইবে যে ভোটের পার্সেন্টেজ যত কমানো যায়। তবে আমি গ্যারান্টি দিয়ে বলছি ফ্রী ফেয়ার ও উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন হবে। মানুষ যেন ভয় না পায় সেটা ভাঙানোই আমাদের কাজ।
নারায়ণগঞ্জ ৫ আসনে আওয়ামী লীগের আসন ছেড়ে দেওয়ার প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বলেন, জাতির পিতার কন্যা এ সিটটি খালি রেখেছেন সেলিম ওসমান বা শামীম ওসমানের জন্য না। এটা রেখেছেন আমার বাবা, দাদা, আমার বড় ভাই এখান থেকে অতীতে নির্বাচন করেছেন। তাদের প্রতি ভালবাসা থেকেই এ সিটটি খালি রাখা হয়েছে বলে আমি মনে করি।
আমার বড় ভাই সেলিম ওসমানকেও তিনি পছন্দ করেন। তাই এই আসনটিতে আওয়ামী লীগের কোনো প্রার্থী না দিয়ে তিনি আমাদেও পূর্ব পুরুষদের প্রতি সন্দান দেখিয়েছেন বলে আমি বিশ্বাস করি। পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতে বড় ভ’মিকা পালন করার জন্য সেলিম ওসমানকেও প্রধানমন্ত্রী পছন্দ করেন। তাই আসনটিতে শুরু থেকেই কোনো নৌকার প্রার্থী দেয়া হয়নি।
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডাক্তার সেলিনা হায়াৎ আইভী এবং আনোয়ার হোসেন কেনো নির্বাচনী প্রচারে নামছেন না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শুধু মেয়র আর আনোয়ার ভাই নয় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতিও নামছেন না। তবে আমি মনে করি তারা হয়তো ভাবছেন তারা না নামলেও আমি জয়ী হবো তাই নামছেন না।
এখানে অন্য কোনো কারনে নই বলেই আমি মনে করি। তবে প্রধানমন্ত্রীর সমাবেশে তারা উপস্থিত তেখে দলীয় প্রার্থীদেও পক্ষে ভোট চাইবেন বলে আমি মনে করি।


