Logo
Logo
×

রাজনীতি

কান্নাকাটিতে ভোটারদের মন গলবে তো?

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ২৯ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৬:৩৪ পিএম

কান্নাকাটিতে ভোটারদের মন গলবে তো?
Swapno

 

# নিজেই বলছেন তার চেয়ে সৎ মানুষ বাংলাদেশে আর একটাও নেই!

 

 

কান্না করে কি নির্বাচনে জিতা যাবে? নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনে তৃনমূল বিএনপির প্রার্থী এডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার একটি টেলিভিশন চ্যানেলের সাথে কথা বলতে গিয়ে তিনি ঢুকরে কেঁদে উঠেছেন। বলেছেন তিনি সৎ মানুষ এবং বহু মানুষকে চাকুরী দিয়েছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “আমার মতো এমন একজন সৎ লোক সারা বাংলাদেশে পাওয়া যাবে না!” তাই তিনি বিশ্বাস করেন তিনি কামিয়াব হবেন।

 

তার এই কান্নাকাটির বক্তব্য টিভি চ্যানেলটি তাদের ইউটিউবে প্রচার করার পর ভাইরাল হয়ে পরে। আর এই ভিডিও দেখার পর বহু মানুষ তার তীব্র সমালোচনা করে মন্তব্য বা কমেন্ট করেন। বিশেষ করে নিজেকে নিজে বাংলাদেশের সবচেয়ে সৎ লোক দাবি করায় বহু মানুষ বেশ স্বাভাবিক কারনেই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তার এই কথায়ই বুঝা যায় বাংলাদেশের বাকি সব লোক তার চেয়ে অসৎ। ফলে এটা একটি পাগলের প্রলাপ হিসাবেও আখ্যায়িত করেন অনেকে।

 

কারণ কোনো মানুষ এভাবে নিজেকে নিজে সৎ লোক দাবি করতে পারে না। এ বিষয়ে লিখেছেন আপনার মতো এমন লোভী স্বার্থপর মানুষ কখনো সৎ হতে পারে না। আরেক জন লিখেছেন যিনি আসলে সৎ তিনি তো নিজেকে সৎ বলে না। সৈয়দ রাসেল লিখেছেন যারা সৎ তাদেরকে আল্লাহ পুরস্কার করেন আর আর যারা অসৎ তাদেরকে আল্লাহ এভাবে শাস্তি দেন। মোহাম্মদ আহগর লিখেছেন অনেক দিন পর একটি বিনোদন দেখলাম।

 

শেখ মহিউদ্দিন লিখেছেন বাংল সিনেমার নায়িকা সাবানা কান্না ছাড়া কথাই বলতে পারতেন না। জয় হোক বাংলা সিনেমার। নাজমুল হাসান লিখেছেন বিশ্বাস করো ভাই এর কান্না দেখে আমার হাসি পাচ্ছে। অপর একজন লিখেছেন নিজের দল বিএনপির সাতে বেঈমানী করার সময় মনে ছিলো না? কান্নাতো সবে শুরু। রিহম হোসাইন লিখেছেন বিআরটিসির চেয়ারম্যান থাকা কালে অনেক লুটাপাট করেছেন। ফজলুল হক লিখেছেন মাত্র কান্না শুরু। তবে কয়েকজন তার পক্ষেও লিখেছেন। লিখেছেন তিনি সাদা মনের মানুষ। তাকে ভোট দেওয়া উচিৎ।

 

প্রসঙ্গত এডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার এক সময় বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্ঠা ছিলেন এবং নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি ছিলেন। বিএনপি ক্ষমতা থাকাকালে তাকে প্রথমে সুপ্রীম কোর্টেও সহকারী এটর্নি জেনারেল করা হয়েছিলো, পরবর্তীতে তাকে বিআরটিসির চেয়ারম্যান করা হয়েছিলো। তিনি বিআরটিসির চেয়ারম্যান থাকাকালে রুপগঞ্জের বহু মানুষকে চাকুরী দিয়েছিলেন পাশাপাশি তখন তার বিরুদ্ধে ব্যাপক দূর্নীতির অভিযোগও উঠেছিলো। তাই বিএনপির রাজনীতি করার কারনে তিনি সারা দেশে পরিচিতি লাভ করেছেন।

 

সর্বশেষ তিনি দলের স্বীদ্ধান্ত অমান্য করে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে অংশগ্রহন করায় বিএনপি থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়। বহিষ্কার কালে তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ছিলেন। অতঃপর এবার বিএনপি সহ সহ জনপ্রিয় দলগুলিতে বাদ দিয়ে আগামী ৭ জানুয়ারী যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এই নির্বাচনে তিনি অংশগ্রহন করেন। যার ফলে সারা দেশের বিএনপি নেতাকর্মীরা তাকে বেঈমান হিসাবে আখ্যায়িত করেন।

 

এই মুহুর্তে তিনি রপগঞ্জ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। অনেকের মতে পরিস্থিতি বেগতিক দেখেই তিনি এখন কান্নাকাটি জুড়ে দিয়েছেন। কিন্তু অনেকের প্রশ্ন কান্না কওে কি এই নির্বাচনে জয়ী হওয়া যাবে? কারণ রুপগঞ্জে আওয়ামী লীগ আর বিএনপি এই দুটি দলের ভোট থাকলেও তৃনমূল বিএনপির কোনো ভোট নেই। তৈমুর বিএনপির ভোট আশা করছেন।

 

কিন্তু বিএনপি নেতাকর্মীদের অভিযোগ একদিকে সরকার এবারও জনগনের ভোটের অধীকার কেড়ে নিতে চাইছে তার উপর সরকার এবার বিএনপির নেতাকর্মীদেরকে ঢালাও ভাবে কারাগারে নিক্ষেপ করছে এবং সাজা দিচ্ছে। তাই এমন একটি নির্বাচন এরই মাঝে একটি ডামি নির্বাচন হিসাবে পরিচিতি লাভ করেছে বলে বিএনপির নেতাকর্মীরা। তাই এমন একটি নির্বাচনে অংশ নিয়ে তৈমুর আলম খন্দকার জনগনের ভোটে আসবে বলে অনেকেই মনে করেন না। তাই এখন দেখার বিষয় তার এই কান্নাকাটিতে জনগনের মন গলে কিনা? এস.এ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন