একাদশ সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে নৌকা প্রতীকের জন্য মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন শ্রমিক নেতা কাউসার আহম্মেদ পলাশ। এবার দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনেও তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নৌকা প্রতীক পেয়েছেন একেএম শামীম ওসমান। দল থেকে কঠোর কোনো নির্দেশনা না থাকায় পলাশ স্বতন্ত্র থেকে নির্বাচন করবেন বলেও মনস্থির করেছিলেন।
কিন্তু না, শেষ পর্যন্ত তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া থেকেও বিরত রইলেন। পলাশ যাতে প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে অংশ গ্রহন না করেন এ ব্যাপারে জোর আপত্তি ছিলো শামীম ওসমান বলেয়ের। আর এ কারণেই এবার দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে পলাশ স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে পারেননি বলেও জানা গেছে। যদি পলাশ স্বতন্ত্র প্রার্থী হতেন তাহলে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে নির্বাচনের পরিবেশ কঠিন হতো বলে মন্তব্য করেছেন অনেকে।
তাদের মতে, পলাশ যদি কোনোভাবে স্বতন্ত্র প্রার্থী হতেন তাহলে শামীম ওসমানের ‘খেলা’ দেখা যেতো। কিন্তু সে খেলা থেকে শামীম ওসমান নিজেই পিছুটান দিয়েছেন। জেলায় শামীম ওসমান বিরোধীরাও চেয়েছিলেন পলাশ স্বতন্ত্র থেকে নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করুক। কিন্তু তা আর হলো না।
ছাত্র রাজনীতি থেকেই কাউসার আহম্মেদ পলাশ ছিলেন শামীম ওসমানের সান্নিধ্যে। পরবর্তীতে পলাশ শ্রমিক রাজনীতির সাথে নিজেকে জড়িয়ে নেন। জাতীয় শ্রমিক লীগের শ্রমিক উন্নয়ন ও কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পান কাউসার আহম্মেদ পলাশ। একাদশ সংসদ নির্বাচনে শামীম ওসমানের সাথে সাথে কাউসার আহম্মেদ পলাশ আওয়ামীলীগের মনোনয়ন সংগ্রহ করেছিলেন। তবে সে যাত্রায় বিভিন্ন কারণে দল তাকে মনোনয়ন দেননি। তবে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনেও হাল ছাড়েননি পলাশ।
এবারও তিনি দলের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত দল তাকে মনোনয়ন দেয়নি। ইচ্ছা ছিলো স্বতন্ত্র থেকে নির্বাচনে অংশ নিবেন। সেভাবে তিনি নিজেকে গুছিয়েও নিয়েছিলেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার জন্য যখন তিনি মাঠ গুছাচ্ছিলেন তখনই শামীম ওসমান বলয়ের শাহ নিজাম, মীর সোহেল আলীসহ বেশ কয়েকজন পলাশের আলীগঞ্জস্থ অফিসে এসে উপস্থিত হয়েছিলেন।
তাদের সাথে পলাশের একান্ত আলাপ আলোচনা হয়েছিলো সেদিন। শাহ নিজাম, মীর সোহেল আলী শ্রমিক নেতা কাউসার আহম্মেদ পলাশকে স্বতন্ত্র থেকে তিনি যাতে নির্বাচন না করেন এ ব্যাপারে তারা তাকে অনুরোধ করেছিলেন। পলাশও তাদের কথামতো স্বতন্ত্র প্রার্থী থেকে নির্বাচন করার যে মনোস্থির করেছিলেন তা থেকে তিনি সরে আসেন এবার।
দেশের বিভিন্ন জেলায় নৌকার প্রার্থীর পাশাপাশি আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মীই স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নৌকার সাথে লড়ছেন। যা দলীয় হাই কমান্ডের ইশারায়। ঐ সমস্ত আসনগুলোতে নৌকার সাথে বিশেষ করে ঈগল ও ট্রাকের সাথে মূল যুদ্ধ হবে। এদিক থেকে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে যদি শামীম ওসমানের সাথে দলীয় কোনো ব্যক্তি বিশেষ করে কাউসার আহম্মেদ পলাশ ট্রাক বা ঈগল প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করতেন তাহলে পরিস্থিতি কিছুটা হলেও ভিন্ন রঙ ধারণ করতো বলে মনে করছেন অনেকে।
এ ব্যাপারে ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের প্রবীন বেশ কয়েকজন সাবেক নেতা বলেন, যদি নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে শামীম ওসমানের বিপরীতে নিজ দলের কেউ স্বতন্ত্র বা বিএনপি থেকে কোনো ভাবে নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করতেন তাহলে শামীম ওসমানের খেলা শুরু হয়ে যেতো। সেই খেলায় শামীম ওসমান নিজের পায়ে বল কতোক্ষণ ধরে রাখতে পারতেন তা দেখার বিষয় ছিলো।
বিগত দিনগুলোতে শামীম ওসমানের কাছে প্রবীন আওয়ামী লীগারদের অনেকেই অবমুল্যায়িত হয়েছেন। তিনি মুষ্টিমেয় কয়েকজন লোক ব্যাতীত অন্য কাউকে তেমন একটা মূল্যায়ণ করেন না। নির্বাচন ঘনিয়ে এলেই তিনি এলাকাভিত্তিক নেতা বা কর্মীদের সাথে মিশে থাকেন। এছাড়া তার নাগল সহজে কেউ পান না।
প্রার্থী হওয়ার ব্যাপারে কাউসার আহম্মেদ পলাশকে প্রশ্ন করা হলে তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন, এবারও আওয়ামীলীগের দলীয় মনোয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলাম। কিন্তু দল থেকে মনোনয়ন দিয়েছেন একেএম শামীম ওসমানকে। যখন জানতে পারলাম দলীয় নেতাকর্মীরাও স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে পারবেন তখন মনোস্থির করেছিলাম স্বতন্ত্র থেকে নির্বাচন করবো। কিন্তু এরই মধ্যে স্বতন্ত্র থেকে যাতে নির্বাচন না করি সে ব্যাপারেও অনুরোধ আসে। আমার অফিসে শাহ নিজাম, মীর সোহেল আলীও এ ব্যাপারে অনেক কথাই বলেছিলেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী না হওয়ার বিষয় ছাড়াও বিভিন্ন বিষয়ে তাদের সাথে কথা হয়েছিলো।
এ ব্যাপারে ফতুল্লা থানা যুবলীগের সভাপতি মীর সোহেল আলী বলেন, পলাশের ওখানে কয়েকদিন আগে আমাদের সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিলো। নির্বাচনের প্রার্থী না হওয়ার ব্যাপারে তেমন কোনো আলোচনা তার সাথে হয়নি। এস.এ/জেসি


