Logo
Logo
×

রাজনীতি

সরব উত্তর নীরব দক্ষিণ

Icon

ইউসুফ আলী এটম

প্রকাশ: ৩১ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৭:২১ পিএম

সরব উত্তর নীরব দক্ষিণ
Swapno

 

১৮ ডিসেম্বর থেকে নির্বাচনী প্রচারণার জ্বরে কাঁপছে গোটা দেশ। ইতোমধ্যে নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনেও ছড়িয়ে পড়েছে এই জ্বরের উত্তাপ। সকাল থেকে গভীর রাত অব্দি চলছে নির্বাচনী প্রচারণা। ঘরে বসে নেই প্রার্থী এবং তাদের দলীয় কর্মী ও সমর্থকরা। এমনকি প্রার্থীদের গৃহিনীরাও ঘর ছেড়ে বাচ্চাকাচ্চা নিয়ে উঠান বৈঠকে হাজিরা দিয়ে লম্বা বক্তৃতায় স্বামীর জন্য ভোট চাইছেন।

 

অনেকের গৃহিনী আবার বাড়ির অন্দরমহলে প্রবেশ করে মায়া কান্নায় ভোটারের মন গলাতে চাইছেন। ভোটারদের কেন্দ্রে আনার জন্য প্রার্থীদের কাছের এবং দূরের আত্মীয়স্বজনরাও মাঠে নেমেছেন। কারণ, সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে প্রার্থীদের কাছে এই মর্মে ম্যাসেজ পাঠানো হয়েছে যে, কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি বাড়াতে না পারলে দেশে-বিদেশে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নের সম্মুখীন হবে।

 

ভোট বর্জনকারী দলগুলোও এমন সুযোগের অপেক্ষাতেই রয়েছে। ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে নানাভাবে অনুৎসাহিত করা ছাড়াও প্রচ্ছন্ন ভাবে হুমকি দেয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এই যখন অবস্থা, তখন দলীয় প্রচারণার ক্ষেত্রে নারায়ণগঞ্জের ২টি আসনে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র। নির্বাচনী প্রচারণায় উত্তর এবং দক্ষিণমেরুর দলীয় বিভাজনের সুস্পষ্ট প্রভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে নারায়ণগঞ্জ-৪ ও নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে।

 

এই ২টি আসনের একটিতে (নারায়ণগঞ্জ-৪) নৌকা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আওয়ামী লীগের একেএম শামীম ওসমান এবং অপরটিতে (নারায়ণগঞ্জ-৫) লাঙ্গল প্রতীকে লড়ছেন তার আপন বড়ভাই জাতীয় পার্টির একেএম সেলিম ওসমান। এরা ২ জন উত্তরমেরুর বাসিন্দা। আসন ভাগাভাগির দর কষাকষিতে আওয়ামী লীগ নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে নিজ দলের কোন প্রার্থী না রেখে তা জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দেয়।

 

তার মানে, লাঙ্গল মার্কায় নির্বাচন করলেও সেলিম ওসমান পরোক্ষভাবে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী। সুতরাং তার নির্বাচনী প্রচারণায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণ অনেকটা বাধ্যতামূলকই বলা চলে। কিন্তু এই সমীকরণ মানতে রাজি নন আওয়ামী লীগের দক্ষিণমেরু। তাদের সোজা কথা; তিনি তো লাঙ্গল মার্কার প্রার্থী। আওয়ামী লীগের কি দায় পড়েছে লাঙ্গল মার্কায় ভোট চাওয়া!

 

তবে ধারণা করা হয়, পারিবারিক ও ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের কারণে এই ২ ভাইয়ের নির্বাচনী প্রচারণায় আওয়ামী লীগের দক্ষিণমেরু একেবারেই নির্জীব। সেলিম ওসমানের প্রসঙ্গটি না হয় বাদই দেয়া গেলো। কিন্তু শামীম ওসমান তো আওয়ামী লীগের প্রার্থী। তার নির্বাচনী প্রচারণাতে ও সামিল হচ্ছে না জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের মেয়র আইভী অনুগামী গ্রুপ।

 

বরং তাদেরকে ব্যস্ত থাকতে দেখা যাচ্ছে, নারায়ণগঞ্জ-১ ও নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী যথাক্রমে গোলাম দস্তগীর গাজী এবং নজরুল ইসলাম বাবুর নির্বাচনী প্রচারণার মাঠে। মূল নারায়ণগঞ্জ ছেড়ে রূপগঞ্জ আর আড়াইহাজারকে বেছে নেয়ার কারণ হিসেবে ওই গ্রুপের যুক্তি হলো,‘আমরা তো নৌকার পক্ষেই প্রচারণা চালাচ্ছি।’ 

 

কিন্তু নারায়ণগঞ্জে বসবাসকারী প্রায় সবারই জানা কথা, ওসমান আর চুনকা এই ২ প্রভাবশালী পরিবারকে ঘিরেই মূলত নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগের রাজনীতি আবর্তিত। যে কোন ইস্যুতেই এই ২ পরিবারের সদস্যরা বিপরীত মেরুতে অবস্থান নেন। এই ২ পরিবারের বর্তমান প্রজন্ম প্রায় সময়ই মুখোমুখি হয়ে পড়ে। কেউ কাউকে সহ্য করতে পারেন না।

 

তাদের এই বিরোধ স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও মেটাতে অক্ষম বলে জানা গেছে। এই ২ পরিবারের লাগাতার দ্বন্দ্বের কারণে নারায়ণগঞ্জবাসী আজ অনেক কিছু থেকেই বঞ্চিত। একজন সফল মেয়র হিসেবে আইভীর জনপ্রিয়তা প্রশ্নাতীত হলেও কিছু কিছু ক্ষেত্রে তার একগুঁয়েমিতা খুবই পীড়াদায়ক বলে বোদ্ধামহলের ধারণা। অযৌক্তিক হলেও কোন বিষয়েই তিনি হারতে রাজি নন। তার এমন একরোখামিতা ২ পরিবারের দ্বন্দ্বকে অক্সিজেন যোগান দিতে সহায়তা করছে বলে মনে করা হয়।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, আইভীর মূল দ্বন্দ্ব হলো শামীম ওসমানের সাথে। আইভীকে নিয়ে শামীম ওসমানের অতি কথন ও অতি নর্তনকুর্দন মাঝে মাঝে শালীনতাকে টপকে যায় বলে অনেকেরই অভিমত। শামীমের অতি কথনের চামড়াছোলা জবাব দিতে গিয়ে অনেক সময় আইভীকেও খেই হারিয়ে ফেলতে দেখা যায়। 

 

৪ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী নারায়ণগঞ্জ আসছেন নির্বাচনী প্রচারণায়। তার এই আগমনী বার্তায় আইভী শিবিরে কানাঘুষা শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। এ নিয়ে শামীম শিবিরেও নানা কৌতূহলের উদ্রেক করেছে। এস.এ/জেসি
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন