Logo
Logo
×

রাজনীতি

কপাল পুড়লো মুকুলপন্থীদের

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ৩১ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৭:৩৭ পিএম

কপাল পুড়লো মুকুলপন্থীদের
Swapno


 
# বহিষ্কৃত নেতাদের বিরুদ্ধে দল বিরোধী কাজের অভিযোগ
# মুকুল দলের নাম ব্যবহার করে দলের সর্বনাশ করে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ
# এমপি আমাদের ডেকেছেন তাই সেখানে গিয়েছি : হান্নান সরকার

 

 

অবশেষে কপাল পুড়লো নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও বন্দর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মুকুল ও তার সহকর্মীদের। দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির প্রথামিক সদস্য পদসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিস্কার করা হয়েছে।

 

গতকাল বিএনপির কেন্দ্রীয় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। এই তালিকায় মুকুলের সাথে আছেন ১২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শওকত হাশেম শকু, উপজেলা বিএনপি নেতা ও ২১ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর হান্নান সরকার, ২২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সুলতান আহম্মেদ ও ২০ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর গোলাম নবী মুরাদ। এর মধ্যে হান্নান সরকার, সুলতান আহম্মেদ ও গোলাম নবী মুরাদ মুকুলের খুব বিশ্বস্ত সঙ্গী বলে জানা যায়।

 

স্থানীয় বিএনপি নেতাদের অভিযোগ মুকুল সব সময়ই সুবিধাবাদী নেতা। তিনি বিএনপির দলীয় সীল ব্যবহার করে ওসমান পরিবারের সাথে সখ্যতা করে দলের সর্বনাশ করতে একটুও দ্বিধা করেন না বলে জানান তারা। যার প্রমাণ গত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সেই নির্বাচনে বিএনপি আতাউর রহমান মুকুল প্রকাশ্যে নৌকার পক্ষে এবং বিএনপির বিরুদ্ধে কাজ করেছে বলে স্থানীয় বিএনপি নেতা কর্মীরা অভিযোগ করেন।

 

অনেকেই আবার বলেন, ওসমান পরিবারের পক্ষে কাজ করাকে মুকুল গর্বের বলে মনে করেন। তাই সেলিম ওসমানের যে কোন অনুষ্ঠান বা আয়োজনে মুকুল মঞ্চে উপস্থিত থাকতে অনেক পছন্দ করেন বলেও অভিযোগ তাদের। তাই তো বিএনপির পরাজয়ে ৭ তারিখে মুকুলকে ১১টি গরু জবাই করার জন্য বলেছেন সেলিম ওসমান।

 

এরই মধ্যে গত বছরের সেপ্টেম্বরে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি গঠন করলে সেখান থেকে নিজেদের দল নিয়ে সেই কমিটি থেকে পদত্যাগ করেন বিএনপির এই সুযোগ সন্ধানী নেতা। সেই দলে ছিল তার এই চেল্যারাও ছিল বলে জানা যায়। এর বাইরেও বন্দরের বহিষ্কৃত এসব নেতারা মুকুলের খুব ঘনিষ্ঠ সহচর বলে প্রচার আছে।

 

অন্যদিকে বিএনপি নেতা শকুরও ওসমান পরিবারে সাথে সখ্যতা। দল যেখানে নির্বাচন নিয়ে আন্দোলন সংগ্রাম করে যাচ্ছে শকু সেখানে বহাল তবিয়তে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন বলে জানা যায়। বিএনপি নেতারা যেখানে ধরপাকরের ভয়ে রাতেও বাড়িতে ফিরতে পারছে না বলে অভিযোগ আছে, শকু সেখানে প্রকাশ্যে প্রশাসনের সামনে বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। কিছুদিন আগেও সেলিম ওসমানের একটি হজ্ব কাফেলার আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন নাসিক ১২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শওকত হাশেম শকু।

 

এ সময় সাংবাদিকরা ছবি তুললে তাদের সেই ছবি মুছে ফেলতে বাধ্য করা হয় বলে জানা যায়। গত সিটি নির্বাচনেও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের সাথে তার সখ্যতা আছে বলে খোদ আওয়ামী লীগ নেতাদের কাছ থেকে প্রকাশ্য অভিযোগ আসে। যা নিয়ে আওয়ামী লীগের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতাও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

 

এর আগে গত ২৬ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জের বন্দরের সমরক্ষেত্রে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী সেলিম ওসমানের নির্বাচনী সমাবেশে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানের আহ্বানে সেখানে (মঞ্চে) উপস্থিত হন বন্দর বিএনপির তিন নেতা হান্নান সরকার, সুলতান আহম্মেদ ও গোলাম নবী মুরাদ।

 

সেলিম ওসমান নিজে মাইকে তাদের নাম ঘোষণা দিয়ে বলেন, মুকুলও আজ এখানে আসতে চেয়েছিল, কিন্তু আমি না করেছি। তাই মুকুল তার পক্ষ হতে বিএনপির এই তিন নেতাকে আমার এখানে পাঠিয়েছেন।

 

এই বিষয়ে জানতে চাইলে বন্দর বিএনপির নেতা ও সাবেক কাউন্সিলর হান্নান সরকার বলেন, আমরা দল দিয়ে তো আর কিছু করি না। এক সময় কাউন্সিলর ছিলাম। তাই এমপি যখন আমাদের ডেকেছেন আমরাও তার ডাকে সাড়া দিয়ে সেখানে গিয়েছি। দল মনে করেছে আমাদের বহিষ্কার করবে, তাই করেছে। এতে বলার কিছুই নেই। দল যেটা ভালো মনে করেছে সেটাই করেছে। এস.এ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন