Logo
Logo
×

রাজনীতি

লোম বাছতে বাছতে কম্বল উজাড়

Icon

ইউসুফ আলী এটম

প্রকাশ: ০১ জানুয়ারি ২০২৪, ০৯:২৯ পিএম

লোম বাছতে বাছতে কম্বল উজাড়
Swapno

 

অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, লোম বাছতে গিয়ে গোটা কম্বলটাই উজাড় করার কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভী। লোম বাছার নামে প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাতেগড়া রাজনৈতিক দল বিএনপিকে নেতৃত্বশূন্য করার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। কি কারণে যেন তিনি একাজে নরায়ণগঞ্জকে টার্গেট করেছেন।

 

কেন্দ্রীয় নেতাদের সিংহভাগই যখন কারাগারের ঘানি টানছেন, তখন রিজভী হুলিয়া মাথায় নিয়ে অজ্ঞাতস্থান থেকে প্রেসবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির সক্রিয় নেতাদের বহিষ্কার করে চলেছেন। বহিষ্কারের প্রথম শিকার হয়েছেন বেগম খালেদা জিয়ার সাবেক উপদেষ্টা এড. তৈমূর আলম খন্দকার। তার অপরাধ ছিলো, তিনি নাকি দলের অনুমতি না নিয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।

 

এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে তৈমূর বরাবরই বলে আসছিলেন যে, দল তাকে প্রাথমিকভাবে অনুমতি দিয়েছিলো বলেই তিনি নির্বাচন করেছেন। অথচ এই তৈমূরের হাত ধরেই বিএনপি নারায়ণগঞ্জে একটি শক্তিশালী সাংগঠনিক ভিত গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছিলো বলে সবার ধারণা। প্রায় ২ বছর অপেক্ষার পরও তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার না করায় তিনি তৃণমূল বিএনপির কেন্দ্রীয় মহাসচিব পদে নিজেকে সংযুক্ত করে নিতে বাধ্য হন। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে তিনি নারায়ণগঞ্জ-১ আসন থেকে তৃণমূলের প্রার্থী হিসেবে সোনালী আঁশ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। 

 

বহিষ্কারের দ্বিতীয় ছুরি চালানো হয় গত শনিবার। বিএনপির বর্জনকৃত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লাঙ্গল প্রতীকের পক্ষে প্রচারণায় অংশ নেয়ার অপরাধে বিএনপির ৬ নেতাকে বহিষ্কার করা হয় রিজভী স্বাক্ষরিত প্রেসবিজ্ঞপ্তি এ তথ্য জানিয়ে বলা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে তাদেরকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ দলীয় সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

 

বহিষ্কৃতরা হলেন, নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আতাউর রহমান মুকুল, মহানগর বিএনপির সদস্য ও ১২৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শওকত হাশেম শকু, বন্দর উপজেলা বিএনপি নেতা হান্নান সরকার, সুলতান আহম্মেদ, গোলাম নবী মুরাদ, সোনারগাঁ বিএনপির নেতা নূরুজ্জামান।

 

প্রসঙ্গত, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে সপরিবারে হত্যার ১০ দিন পর জিয়াউর রহমান সেনাবাহিনীর প্রধান নিযুক্ত হন। তখন সেনাবাহিনীতে অভ্যুত্থান, পাল্টা অভ্যুত্থানের তুমুল খেলা চলছিলো। এরই ফাঁকে ৭ নভেম্বর জিয়াউর রহমান অত্যন্ত নাটকীয়ভাবে ক্ষমতার স্বাদ গ্রহণ করেন। ১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে বন্দুকের নলে উৎখাত করে রাষ্ট্রপতির চেয়ারে অধিষ্টিত হন।

 

১৯৭৮ সালের ৩ জুন অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিজয়ী হন। ক্ষমতায় থাকাবস্থায় ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর তিনি বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি ছিলেন আহ্বায়ক এবং অধ্যাপক এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী ছিলেন প্রথম মহাসচিব। এর আগে ১৯৭৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল বা জাগদল নামে একটি একটি রাজনৈতিক জোট গঠন করেছিলেন। পরবর্তীতে জাগদল বিএনপিতে বিলীন হয়ে যায়।

 

একই সালের ১ মে সেনাবাহিনী প্রধান জিয়াউর রহমানকে চেয়ারম্যান করে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয়তাবাদী ফ্রন্ট ঘোষণা করে রাজনীতিবিদ বানিয়ে দেয়া হয়। এরপর আর তাকে পেছনের দিকে তাকাতে হয়নি। অল্পদিনের ব্যবধানেই তিনি এতোটাই আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠেন যে, তিনি আঙ্গুল উঁচিয়ে বলতে পেরেছিলেন, ‘আই উইল মেক পলিটিক্স ডিফিকাল্ট।’

 

বেশ কয়েকবার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্টিত বিএনপির এখন সাংগঠনিক ক্রান্তিকাল চলছে। দলের সিনিয়র নেতারা জেলখানায়। দলীয় প্রধান অসুস্থ অবস্থায় বন্দি জীবনযাপন করছেন। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হুলিয়া মাথায় নিয়ে প্রবাস জীবনযাপন করছেন। নেতৃত্ব দেয়ার মতো এক রিজভী ছাড়া আর কেউ নেই। সেই রিজভীও কান্ডজ্ঞানহীনের মতো কাজ করছেন। কম্বলের লোম বাছতে গিয়ে তিনি গোটা কম্বলকেই উজাড় করে দিচ্ছেন। এস.এ.জেসি
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন